Wednesday, September 30, 2015

আমার প্রাক্তন - My Ex

Edmonton, 30-Sep-2015 9:26 PM 

তোমাকে নিয়ে ভেবেছিলাম কোন কিছু লিখব না,
তুমি আমার কবিতার যোগ্য নও ।
অনেকে বলে প্রাক্তনকে নিয়ে কবিতা লেখা
নাকি তাঁকে এখনও ভালোবাসার ইঙ্গিত,
তাঁকে এখনও ভালোলাগার ইঙ্গিত ।
কিন্তু আর যে কিছুই অবশিষ্ট নেই,
কিছু থাকার ছিলও না ।
যেটুকু আছে, ওই অনুভূতিটুকু না থাকলে,
নিজেকে মানুষ বলি কিভাবে !
তাই তোমাকে নিয়ে লিখব,
অনেকবার লিখব ।
সুনীলবাবুর নীরা ছিলেন,
তুমি আমার নীরা নও,
কিন্তু প্রাক্তন তো, 
মানে আমার-ই পূর্ব সত্তার ভালবাসা ।
তাঁকে ভুলে যাব ?
মানে নিজের এক অংশকেও ?
নিজেকে এতটা অস্বীকার করার মত ভীরুতা দেখাতে
জীবন তো শেখায়নি ।

Sunday, August 30, 2015

গোলাপি রঙের মাফলার - The pink scarf

Edmonton, 30-Aug-2015 3:27 PM 

স্নিগ্ধতার অন্যরকম সংজ্ঞা দেখলাম ।
গোলাপি রঙটার যে স্নিগ্ধ সংস্করণ হয়,
তোমাকে তা জড়িয়ে ছিল ।
তোমার মুখে বুদ্ধির দীপ্তি,
তোমার চোখে আত্মম্ভরিতা,
তোমার চলায় সাধারণ ছন্দ ।
তুমি কি সবার থেকে আলাদা ?
নাকি ঠিক সবার মত, তাই সবার থেকে আলাদা ?

তুমি চোখের আড়াল হলে,
কিন্তু মন যখন আয়না হয়,
তখন আলোর কি সাধ্য থাকে
কাউকে অদৃশ্য করার ?

তোমাকে খুঁজলাম জলকেলিতে,
তোমাকে খুঁজলাম ক্লান্ত পথে,
তুমি কি ব্যাস্ত ছিলে
নিজের মনের আগলের পাড়ে ?

জানি তোমাকে পাওয়া যায় না,
জানি তোমাদের পাওয়া যায় না ।
আমরা এভাবেই থাকি, মনের মানুষ মনে থাকে ।
শুধু দিন চলে যায়, কাজ শেষ হয়, সভ্যতা এগোয়,
কোন কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরাও অনেক এগোই ।
কিন্তু তোমাদের ছুঁতে পারি না ।
এভাবেই মৃত্যু আসে, জীবনের অবকাশে ।

Friday, August 28, 2015

আর কি কিছুই বাকি আছে ? - Is there anything left

Edmonton, 28-Aug-2015 8:37 PM 

ভুলে যাও,
আর কি কিছুই বাকি আছে ?
আমিও তো নেই আর,
তোমাদের কাছে ।
সবকিছু ছেড়ে ফেলে চলে এসেছি ।
কিছু কথা বাকি নেই ।
নিস্তব্ধতা - আমার জীবন সঙ্গী,
কেউ নেই আর পাশে ।
তোমাদের কি মনে হয়,
তোমাদের কেউ নেই ?
দুঃখ বোধ হয় ফিকে হয়ে যায় ।
তাই তো স্বাভাবিক সময়ের ঔষধে ।

নতুন পরিচয় যদি পাই,
তাই লিখব ।
আর বোধ হয় পুরনোরা রইল না ।

Friday, July 03, 2015

উপযুক্ততা - Compatibility

Edmonton, 3-Jul-2015 6:24 PM 

বিদ্রোহ করতে পারি, সমগ্র মহাকাশের বিরুদ্ধে,
যদি মিলে যায় equation ।

কিন্তু উত্তর জেনে গেছি, তাই বুঝি :
এই সমাধান আমার জন্য নয় ।

আমি বুঝি, আমার মস্তিষ্ক বোঝে,
এই বয়সে আমার হৃদয়-ও বোঝে,
কিন্তু বোঝে না একজনই ।

যাকে ছোটবেলা থেকে অজান্তেই পালন করেছি,
মন, হৃদয়, মস্তিষ্ক - কেউ প্রভাব ফেলেনি যার ওপর,
ওকে বোঝাব কি করে !

যার কাছে, এক সতেজ বাতাস,
মানে তোমার হাসি ।
যার কাছে, এক পশলা বৃষ্টি,
মানে তোমার স্নানের পরে স্নিগ্ধতা ।
ঘুম ভাঙ্গানো পাখির ডাকের অর্থ,
সকালের "তুমি কেমন আছ " !
আবার আধো-অন্ধকার বিকেল মানে,
তোমার উদ্বেগে আমার সাড়া ।

ও বুঝবে না, তাও চেষ্টা করছি ।
কোনদিন কোন স্পৃশ্য আঘাতে হয়ত
আমার অন্য সত্তাগুলোর মতই
বাস্তবে ফিরবে !

Wednesday, July 01, 2015

নতুন নিয়ম - New Custom

Edmonton, 1-Jul-2015 10:52 PM 

তোমার বুঝি সন্ধ্যে-আষাঢ়, দুপুরে মেঘ কালো,
কেন এমন দিন বলো তো ? হাওয়া এলোমেলো ।

কেন এমন বাতাস বয়, কেন উদাস ছবি,
তোমার তো কোন হুঁশ থাকে না, নীরব মানবী ।

আমার যেন জটিল জীবন, সবুজ মত মন,
জানতে চেয়ো, বলব তবে, অপেক্ষা এখন ।

কি প্রশ্ন, কোন উত্তর, ভাবা যাবে পরে,
তাড়া কিসের, এখনও তো ডাকোনি আমারে |

তবে এবার বলে রাখি, অন্যরকম টান,
বহুবছর হয়নি এমন, যদিও সন্দিহান ।

Monday, June 08, 2015

তোমার কি আর সময় হবে? - Will you get any more time?

Edmonton, 8-Jun-2015 6:21 PM 

তোমার তিলোত্তমা ছাড়ার সময় হল,
মনে থাকবে গড়ের  মাঠ?
মনে থাকবে সাউথ সিটি?
মনে থাকবে গঙ্গা পেরিয়ে,
এক পাল স্বপ্নকে বিসর্জন দেওয়া?

তুমি কেবলই উদ্দ্যশ্যহীন জীবনযাত্রা;
নদীতে কি নাইতে যাবে আর ?
দেওয়াল ঘড়ি খুলে রাখতে পারো,
দীর্ঘ ছায়া জানলা দিয়ে দেখো।

একজন-ও কি মনের সাথী আছে?
খেলার সাথী বার বার-ই তো আসে,
হাজার রাশি ফুরিয়ে এলো তবে,
তোমায় এবার ছেড়ে যেতেই হল ।

Friday, March 20, 2015

দু' কলম - Few lines

20th Mar'15 11:34 A.M, Edmonton, Canada

তোমার মন খারাপের সময় হলে আমার কাছে আসো,
রোদ-বিকেলের তেজ ফুরোলে আমার ছায়ায় বসো |
রাতের নেশা ওই আকাশে সূর্য হয়ে এলে,
আমায় ডেকে আমার মনের গল্প ভালবেসো |

তোমার নিজের প্রতি চর্যা শেষে দু'চোখ তুলে দেখো,
আকাশ-পানে তাকিয়ে থেকে গন্ধ নিতে শিখো,
শপিং মলের কৃত্তিমতা নাইবা পেতে পারো,
সরলরেখায় নিজেকে চেনার রাস্তাটাকে রেখো |

Sunday, March 08, 2015

তোমার হাতে রক্ত দেখবো - Blood in your hands

8th Mar'15 01:34 A.M, Edmonton, Canada

রক্ত দেখাও আমায়,
তোমার হাতে দেখতে চাই সে রক্ত |
আমাকে মারো,
মেরে ছিন্নভিন্ন করে দাও,
বেঁচে থাকার অধিকার আর নেই ।
মানুষের যে নূন্যতম মূল্য,
সেটুকুও নিশ্চিত করতে পারিনি
এত বছর ধরে এ পৃথিবীতে ।
বিভাজন করে গেছি
হাজারো কারণে, মননে, চিন্তায় ;
কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্বের
ভিত্তিটাই সকলের কাছে হারিয়ে গেল ।
পণ্য, সামগ্রীর সাথে
কোনো রকম পার্থক্য রইলো না আমাদের ।
নিজেদের আচরণকে পাশবিক বলা -
এ বোধ হয় অত্যুক্তি হবে ;
পশুরা এর থেকে ঢের বেশি মানবিক ।

এর উলটপুরান ঘটাতে পারে রক্তই ।
জেগে ওঠ,
ছারখার করে দাও
মানবের এই কৃত্তিম মানবিক পরিশীলন ।
তোমার দেহের রক্তে যে রং,
আমার দেহে তা মানায় না,
ওই লালের উত্তরাধিকার আমার নয় ।
বর্ণহীন করো আমায় ।
তোমার হাতে রক্ত দেখবো,
তবেই যদি আজ শান্তি নামে ।

Sunday, February 22, 2015

চিত্রকল্প - Imagery

22nd Feb'15 07:26 P.M, Edmonton, Canada

একটা চিত্রকল্প রচনা করবো |
দিনের কিনারে শেষ হয়ে যাবে না,
চিরন্তন |
মনের মাঝে ব্যাথা হয়েও থাকবে না,
মেদহীন |

পড়ন্ত বিকেল তো বারবার-ই দেখি,
পার্থক্য করতে পারি না |
ওরা বোধ হয় পারত |
আমাকে সকালে উঠে সসেজ খেতে হয়,
ওদের থাকে মাঠের চিন্তা, খেতের ঘাম |
জমিন - আসমানে যদি ফারাক করাই,
পার্থক্য আরও সুস্পষ্ট |
আসমানের কোন গন্ধ নেই,
শুধুই দিগন্ত |
জমির কাছে দুই-ই আছে |
এই সহজ সত্যিটাও কিন্তু
সবুজ মাঠের কাছেই রাখা থাকে ; 
কিন্তু সকলের কাছে তা ধরা দেয় না,
যদিও সঙ্গতভাবেই  |
যে মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে,
নীল খোলা আকাশের নিচে,
চারপাশে ধান-জমি ;
তার কিন্তু উপলব্ধি করার ক্ষমতা নেই,
সেই সহজ সত্যিটার |
তার কাছে সেই আকাশের মুক্তি,
আর ভেজা মাটির গন্ধ,
দুইয়ে মিলেই মুহূর্ত |

গোধূলিবেলার সূর্যকে যতই দেখি,
বলতে ইচ্ছে করে,
নিয়ে চল আমায় সঙ্গে করে,
তোমার তো রোজের আসা যাওয়া |
এই একই আকাশও তো সাক্ষী,
ওই সবুজ মাঠের কিংবা এই শুভ্র বিস্ময়ের |
কেউ শোনে না কথা আমার |
শুধু দুঃখ করে গাছগুলো |
বে-রঙ্গিন হয়ে সমব্যাথি হয় আমার |
ওদেরও বোঝাতে পারি না আমি,
চারিপাশের শুভ্র বৈধব্যের সাথে
ওদের এই শোকজ্ঞাপণ
আরও স্থবির করে আমায় |

যেদিন থেকে ছন্দে লেখা ছাড়লাম,
চিত্রকল্প বোধ হয় হারিয়ে গেল |
গদ্যরুপে পৃথিবী আমায় ধরা দিচ্ছে |
চিত্রকল্প তাই অপুর জন্যই থাক !

Thursday, December 25, 2014

প্রদীপ্ত - Prodipto

25th Dec'14 10:05 P.M, Edmonton, Canada

ভালো হওয়াটা খুব চাপের না?
চাপের? হয়ত তাই !
কিংবা নয়? সবার কাছে যে নয় ।
ভালো হওয়ার জার্নি-টা যে বড়ই নেশাতুর,
সেই নেশা অন্তিম ফলাফলের থেকেও তীব্র ।
সে নেশা তো সকলের হয় না।
কিন্তু যাদের হয় এই ব্যাধি,
তাদের যে তা জীবনসঙ্গী !
এই ব্যাধির তেজ আবার
কোনো জগত মানে না ।
একটা মন-খারাপ
চারপাশের সকলকে অতি নিভৃতে আঁকড়ে ধরে ।
কল্পনা-বাস্তব সব একাকার করে ফেলে'
এক কৃত্তিম জগত তৈরী করে;
সেই দুনিয়ায় শুধু তাদের একচেটিয়া অধিকার,
যারা ওই ব্যাধির আপাত নিস্পৃহ তেজে পুড়ে ছারখার হয় ।
কোনো সঙ্গীর উপস্থিতি 
সেখানে সম্ভব হয়ে ওঠে না।