Saturday, December 24, 2016

২০১৬ - 2016

ফেসবুক একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে আমার এই বছরের সারসংক্ষেপ। সেটা দেখতে দেখতেই মনে হল, ফেসবুকের পক্ষে তো সব কিছু জানা সম্ভব নয়। এ বছরে যে চলমান ছবিগুলো বাস্তবের সীমারেখা পেরিয়ে মনের পরিখায় আটকে গেলো, সেগুলো তো একমাত্র আমার ব্যক্তিগত হাসি-কান্নার রাংতায় মোড়া বাক্সে রাখা। সেই ছবিগুলোর কিছু কিছু, অনুভূতির রংতুলি দিয়ে লেখার মধ্যে দিয়ে এঁকে দিতে ইচ্ছে করছে। কোনো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তো এই ছবি থেকে লেখায় রূপান্তরের বিদ্যে এখনো রপ্ত করতে পারেনি। তাই এই লেখা, সেইসব ছবি, দৃশ্য এবং চিত্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্যে, যেগুলো ২০১৬-কে ফ্ল্যাশব্যাকে ধরে রাখবে।

একটা বছরের চলে যাওয়া, শুধুই একটা নতুন বছরের, নতুন শুরুর আশা নিয়ে আসে তা-ই নয়, এর মধ্যে একটা স্বস্তিও থাকে, অনেকটা পথ ক্লান্ত হয়ে হেঁটে আসার। কোনো এক বছরের শেষে, কেউ কেউ হয়তো ক্ষতবিক্ষত হয়ে থাকে, কেউ কেউ আবার জীবনের সব থেকে মধুর সময়গুলো কাটিয়ে আসে। সব মিলিয়ে একেকটা বছর, জীবনের একেকটা পাতা ওল্টানো। পুরোনো পাতার সব অক্ষরগুলোই চেনা, কিছু অক্ষরের প্রতি খুব মায়া পড়ে যায়। মনে হয় সেই অক্ষর দিয়ে তৈরি লাইনগুলোকেই বারবার আওড়াই। কিন্তু নতুন পাতাও যে অপেক্ষা করে থাকে, নতুন সম্ভাবনা, নতুন সঙ্গীত, নতুন বাক্য নিয়ে। ছোট ছোট সেসব নতুন বাক্য দিয়েই তো জীবনের গদ্য কোনো এক ছন্দে মিশে যায়। এই লেখা পুরোনো পাতার ফেলে আসা কিছু বাক্যকে এক ঝলক দেখে নেওয়ার। যদি সেই ঝলকের মধ্যে, সেই দৃশ্যপটের ভিতর কোনো কবিতার ছন্দ লেখা হয়ে গিয়ে থাকে, তার কিছুটা হয়তো উদ্ধার হবে।

--প্রথম দৃশ্য-- 
চারিদিকটা খুব কম আলো। তবে অনেক মানুষ ঘোরাফেরা করছে, সবাইকে চিনিও না। কিন্তু আমারই সব থেকে বেশি চেনা উচিত ছিল সবাইকে। আর কিছুক্ষন বাদেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হাতের ছোট্ট চিরকুটটা একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। সেই চিরকুটে আমার ভয় কাটানোর জরিবুটির কিছু ফর্মুলা লেখা আছে। এসি হলের ভিতরেও কপালের বিন্দু বিন্দু ফোঁটা জানান দিচ্ছে যে, স্টেজের সামনে দাঁড়াতে ধক লাগে। শেষ পর্যন্ত এলো, স্টেজের পাশ থেকে সামনে যাওয়ার আহ্বান। 

মাইক পেলাম হাতে। নাঃ, সামনের বিশাল দর্শকরা সবাই সংখ্যায় পরিণত। তাদের নিজেদের পরিচয় নেই আর। স্টেজের ওপর একটি আলো শুধু আমার ওপরই তাক করা। আমরা আলোয় থাকলে কিভাবে অন্ধকারের মানুষগুলো স্রেফ সংখ্যায় বা স্ট্যাটিস্টিক্সে পরিণত করি, তা বুঝছিলাম। যাই হোক, তখন মনে হলো, বিশ্ব-সংসার যেন বলতে চাইছে, তোমার নামের ভার তুমি কি বুঝতে পারছো, সোহম ? এই চরাচরের বিধাতা হওয়া, তার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া এতো সহজ নয়। বিশ্ব-সংসারের হিউমার আছে বলতে হয়। আমিও বোধ হয় সেই মহাবিশ্বের ডাককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে শুরু করলাম আমার ছোট্ট বক্তব্য। 

৩ মিনিটের সে কথা, যেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছিলো। হয়তো যখন সকলের সামনে আমরা একা হয়ে যাই, তখন অন্য গ্রহের হিসেবমতো সময় মেনে চলি। পরে ভিডিও দেখে বুঝেছিলাম, বেশ ভালোই উৎরেছিলো সেই ছোট্ট বক্তব্য। কেউ কেউ ছবিও তুলেছিল, এবং তাতে আরো আত্মবিশ্বাসী লাগছিলো দেখে। কিন্তু কোর্ট-প্যান্ট পরে প্রায় সকলকেই তা-ই লাগে। আমার মনে হয়, কোর্ট-প্যান্ট পোশাকটা তৈরিই করা হয়েছে এই উদ্দ্যেশ্যে - যাতে বড় হয়ে গেলেও, ছোটবেলায় আমরা স্কুলে যেমন পোশাকের নিরিখে এক হয়ে যেতাম, সেইরকম খানিকটা এক হয়ে যেতে পারি। কিন্তু কোর্টের ভিতরের বেগুনি রঙের জামাটা একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছিল যেন, পছন্দটা যদিও অন্য এক পূর্ব-প্রিয় মানুষের ছিল...

--দ্বিতীয় দৃশ্য-- 
ফ্যানটা বেশ জোরে ঘুরছিলো। বসন্তের সকালের মৃদু বাতাস মুখে মেখে এসে, ওই সিলিং ফ্যানের কৃত্তিম হাওয়ার গায়ে এসে পড়াটা মেনে নিতে সামান্য অসুবিধে হচ্ছিলো। কিন্তু মনের ভিতরের উথালপাথালকে শান্ত করতে, ফ্যানের হাওয়ার কৃত্তিম আদরটাই সাহায্য করছিলো। কিছুক্ষন বসে বসে ঝড়ের প্রতীক্ষা করলাম। অবশেষে সামনে এলো, পর্দার পিছনের মানুষরা। শুরু হলো আমার সাথে তাদের এক অসম আলোচনা। 

অসফল সেই আলোচনার শেষে বিদায় নিলো অদৃশ্য পর্দায় আবৃত সেই ছায়ামানুষগুলো। পড়ে রইলাম, আমি, ফ্যানটা, আর আমার অস্বস্তি। তারা আর কতক্ষন দূরে থাকতে পারে ! আমার ডান-বুকে নেমে এলো অস্বস্তির বারিধারা। আমার মাথা তখন হিমশীতলের মতো ঠান্ডা। হয়তো সেই প্রথমবার মাথা বুঝতে পেরেছিলো, আজ মনের কোণে মরুভূমির তপ্ত বালি আছড়ে পড়ছে, তাই ভারসাম্য রাখতে তাকে ঠান্ডা থাকতে হবে। আমার বুকে নেমে আসা বারিধারা, আমার হৃদয়কে অদ্ভুতভাবে, বেশ উষ্ণ করে তুলেছিলো। কিছুক্ষন আমি যেন এক নিরাকার পাথরের মতো বসেছিলাম। আমার নিজের অস্তিত্বের মানে বুঝিনি। মনে হচ্ছিলো, হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কিছু সযত্নে রাখা অস্থাবর। 

মনে পড়ে, এর পরে আমাকে খেতে বসতে বলা হয়েছিল। গলার কাছে দলা, আর মুখের কাছে ভাত - সেই প্রথম একসাথে খেয়েছিলাম। অবশেষে সন্ধ্যে নাগাদ, কোনো এক রাস্তার ধারে রেলিং ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন দেখেছিলাম, নিচে রেললাইন, আর উপরে সেতু, সে সেতু মিশে যাচ্ছে আর একটা সেতুতে, সারি সারি গাড়ি এসে নামছে নিচের রাস্তায়, আবার সেতুতে উঠে যাচ্ছে। নিয়ন আলোয় বিরিয়ানির গন্ধ, মেশিনে ছেপে যাচ্ছে অজস্র টাকা, আর তারই পাশ দিয়ে, দু'টো পা হেঁটে যাচ্ছে। বুঝিনি কি করে সেই পা দু'টো আমাকে বয়ে নিয়ে চলছিল। সকালের সেই ফ্যানটা তখনও ঘুরছিলো কিনা জানিনা, তবে আমি চলছিলাম।

--তৃতীয় দৃশ্য-- 
আবার চারিদিকটা অন্ধকার, কিন্তু চারপাশে চেনা শুধু চারজন। সামনে ড্রাইভারদা আছেন। গাড়িটা জঙ্গলের নিস্তব্ধতার সঙ্গে কিছুটা ঝগড়া করেই এগিয়ে চলেছে। তবে তাতে গাড়ির গতিতে কোনো খাদ পড়েনি। আবহাওয়ার মাদকতা, যে কোনো পানীয়ের মাদকতাকে ম্লান করে দিতে পারে, সেটা বেশ বুঝতে পারছি। বর্ষাকালের পাহাড়ে গাড়ির জানালায় যে হাওয়াটা পাওয়া যায়, সেই হাওয়াটা আমার মুখে ঝাপ্টা দিয়ে যেন বলছে, স্নিগ্ধতার সংজ্ঞা এখান থেকেই অভিধানে লেখা হয়েছিল। আমিও ভেসে যাচ্ছি প্রকৃতি আর আমার চার বন্ধুর সাহচর্যের এক নিশ্চিন্ত সান্নিধ্যে। সেই দুরন্ত অমানিশায় আলো বলতে ছিলাম বোধ হয় আমরা ওই পাঁচজন।

এরপরে আমি হয়ে গেলাম অন্য চারজনের একজন। সেখানে একটা বড় ঘর, দুটো বিছানা। খুচরো নস্টালজিয়া, আর দু-একটা আফশোসকে আমরা কাঁচের গ্লাসে ঢালছি। পেটের ভিতরে গিয়ে সেগুলো এক মুখ থেকে অন্য মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। সামনে রাখা টিভিটাও সেটা টের পেয়ে পুরোনো দিনের গান শোনাতে শুরু করলো। আমরা কিন্তু সেদিনই দিনের বেলা এক চূড়ায় উঠেছিলাম। তাই সেই রাতের গল্পের শেষও হয়েছিল, কোনো অন্য চূড়ায় আবার দেখা হওয়ার অঙ্গীকার করে। 

তারপরে আবার অন্য এক দলের অংশ হয়ে গেলাম। মেঘের আলয়ে আলো যে এতো কারবার করে, সেটা তার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিপত্তি না দেখলে, কোনোদিন বুঝতে পারতাম না। তবে অবাক হয়ে দেখলাম, কিভাবে মেঘ আর আলো - দুজনে একসাথে সংসার করে। সংসারে দুই বিপরীতের এক আশ্চর্য সহবাস। একটুকরো মেঘ আমি ধার করে এনেছি, আমার বস্টনের সূর্যকে দেব বলে। ওরা দুজনেও বন্ধু পাতাক, আমি জানালায় বসে ওদের প্রেম দেখবো। যে প্রেমের রং শুধু নীল নয়, লাল, মেরুন, আকাশি, হলুদ, তুঁতে, সবুজ দিয়ে ঘেরা। যেভাবে মন্দারমণীর মতো সমুদ্রপাড়ে, "পাহাড়তলী"-এর বাতাস বিভিন্ন রঙে ধোয়াঁশা হয়ে থাকে। আমরা সেই ধোঁয়া হয়ে আসা আশায় গানের সুর বসাই। আর সেই গান শুনে ওখানকার গাছগুলোও আনন্দে আত্মহারা হয়, যেন নতুন করে প্রাণ পায়। আমরাও তারপরে একরাশ প্রাণ নিয়ে কলকাতা ফিরে আসি। 

--চতুর্থ দৃশ্য--

বেশ দেরি করে সকালে উঠেছি। প্রায় ন'টা বেজে গেছে। রিসার্চের জীবনটা যদিও এরকমই। সময়টা যেন আমার নির্দেশ মেনে চলবে। যত বলি একটু নিজের নিয়ম, জগতের নিয়মের খেয়াল রাখতে, সে প্রকৃতই আমার দাস। মনিব হতে আমার ভালো না লাগলেও, *সময়ের* ওপর এই দাসত্ব ফলাতে মন্দ লাগে না। সেই পোষ মেনে যাওয়া মিষ্টি সময়, যখন বিছানার সাথে আপোষের আর কোনো সুযোগ দিচ্ছে না, তখন উঠতেই হয়। শেষ পর্যন্ত শবাসন শেষ করে, উঠে বসলাম। তখনই আমার মোবাইল জানান দিলো, পৃথিবীর কোনো প্রান্তে আমার প্রসঙ্গ উত্থাপন হয়েছে। একটি উড়োচিঠি আমার মোবাইলে তার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। এই চলমান অবিশ্রান্ত বার্তাগুলোই আমাদের স্থবিরতাকে আজকাল টুঁটি টিপে মেরে ফেলে। আমিও নিজের আরামদায়ক অবস্থান ছেড়ে হাতে তুলে নিলাম ছোট্ট পৃথিবীকে, খুললাম ইমেইলটি।

আমার দৈহিক শক্তির যদি একটি মাত্রা করা যায় ১ থেকে ১০০ অব্দি, তাহলে ঘুম থেকে ওঠার সময় সেই শক্তির মান ছিল ঋণাত্বকভাবে ২০ (-২০). যখন হাতের মুঠোতে ফোনটা ধরি ইমেইল দেখার জন্য, সেই শক্তির মাত্রা ছিল +১০. আর ইমেইলটার প্রথম দু'লাইন পড়ার পরে সেই মান গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় +১১৫. এবং বিছানা থেকে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে, বিছানাতে ৩টে ঘুসি মারি সজোরে। ঠিক যেভাবে অরিন্দম "নায়ক" সিনেমাতে বলেছিল, "I will go to the top, the top, the top." ফেব্রুয়ারির সেই দু' তারিখে পেয়েছিলাম প্রথম PhD-র জন্য admission letter. top না হোক, একটা ভীষণ বড় relief. বুক থেকে একটা পাথর নেমে যাওয়া, মাথা থেকে একটা ভার সরে যাওয়া। তারই দৈহিক প্রকাশ ঘুসিগুলো। যদিও সেই University পরে join করিনি, কিন্তু ওই অনুভূতিটার কোনো বিকল্প হয় না। বছরের সেরা মুহূর্তও বোধ হয় ওইটেই।

Friday, December 16, 2016

শেষ দৃশ্য - The last scene

ফ্যানটা বেশ জোরে ঘুরছিলো। বসন্তের সকালের মৃদু বাতাস মুখে মেখে এসে, ওই সিলিং ফ্যানের কৃত্তিম হাওয়ার গায়ে এসে পড়াটা মেনে নিতে, সামান্য অসুবিধে হচ্ছিলো অমিতের। কিন্তু মনের ভিতরের উথালপাথালকে শান্ত করতে, ফ্যানের হাওয়ার কৃত্তিম আদরটাই সাহায্য করছিলো। কিছুক্ষন বসে বসে সে ঝড়ের প্রতীক্ষা করলো। অবশেষে সামনে এলো পর্দার পিছনের মানুষরা, মানে অমিতের প্রেমিকার মা আর বাবা। শুরু হলো অমিতের সাথে তাদের এক অসম আলোচনা।

অসফল সেই আলোচনার শেষে বিদায় নিলো অদৃশ্য পর্দায় আবৃত সেই ছায়ামানুষগুলো। ছায়ামানুষদের তো আসল আকৃতি বা গঠন হয় না। শুধু তাদের অবয়বটা বোঝা যায়। সেই অবয়বগুলোই ধীরে ধীরে ঘরের বাইরে মিলিয়ে গেলো। পড়ে রইলো - অমিত, ফ্যানটা, আর অমিতের অস্বস্তি, মানে সুনয়না। তারা আর কতক্ষন দূরে থাকতে পারে! অমিতের ডান-বুকে নেমে এলো অস্বস্তির বারিধারা।

অমিত তার একটু আগেই সুনয়নাকে শেষবারের মতো জানতে চেয়েছিলো যে, সুনয়না শুধু তাকেই ভালোবাসে কিনা! উত্তরে সুনয়নার চোখের জলের মানে বুঝতে অমিত ভুল করেনি। অমিতের মাথা তখন হিমশীতলের মতো ঠান্ডা। হয়তো সেই প্রথমবার মাথা বুঝতে পেরেছিলো, আজ মনের কোণে মরুভূমির তপ্ত বালি আছড়ে পড়ছে, তাই ভারসাম্য রাখতে তাকে ঠান্ডা থাকতে হবে। অমিতের বুকে নেমে আসা সুনয়নার বরফের মতো ঠান্ডা চোখের জল, তার হৃদয়কে অদ্ভুতভাবে বেশ উষ্ণ করে তুলেছিলো। কিছুক্ষন সে যেন এক নিরাকার পাথরের মতো বসেছিল, হয়তো উষ্ণতার এই অবাঞ্ছিত তারতম্যের জেরেই। সে নিজের অস্তিত্বের মানে বোঝেনি। অমিতের মনে হচ্ছিলো, তার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সযত্নে রাখা কিছু অস্থাবর। তবুও অমিত সুনয়নার চোখের জলকে তার বুকে নিবিড় স্থান দিয়েছিলো।

অমিতকে এর পরেও সুনয়নার মা খেতে বসতে বলেছিল। উনি তখনও জানতেন না, ওনারা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কি হয়েছে। উনি বা সুনয়নার বাবা কেউই জানতেন না - অমিতের হৃদয় সদ্য ভেঙে গিয়ে এক নদীর জন্ম হয়েছে, সুনয়নার চোখের জলেই যে নদী সম্পৃক্ত। গলার কাছে দলা, আর মুখের কাছে ভাত - সেই প্রথম অমিত একসাথে খেয়েছিল।

অবশেষে সন্ধ্যে নাগাদ, কোনো এক রাস্তার ধারে রেলিং ধরে দাঁড়িয়েছিল অমিত। তখন সে দেখেছিল - নিচে রেললাইন, আর উপরে সেতু, সে সেতু মিশে যাচ্ছে আর একটা সেতুতে, সারি সারি গাড়ি এসে নামছে নিচের রাস্তায়, আবার গাড়িগুলো সেতুতে উঠে যাচ্ছে। নিয়ন আলোয় বিরিয়ানির গন্ধ, মেশিনে ছেপে যাচ্ছে অজস্র টাকা, আর তারই পাশ দিয়ে দু'টো পা হেঁটে যাচ্ছে। অমিত বোঝেনি কি করে সেই পা দু'টো ওকে বয়ে নিয়ে চলছিল। সকালের সেই ফ্যানটা তখনও ঘুরছিলো কিনা জানা নেই, তবে অমিত চলছিল।

Thursday, December 15, 2016

খুচরো দর্শন - Scrambled Philosophy

দ্বন্দ্ব আমার নিজের কাছে বাড়তি হয়ে যায়,
চলতি রেখার কোন্ প্রান্তে - খুঁজতে শুধু চায়।
কখনও সে খুব দুরূহ, লোকের চোখে উঁচু,
কখনও বা সবের মাঝে, স্পষ্ট সব কিছু।
দু-একটা দিন চলে যায়, মেঘের নিচে চাপা,
"যেমন করে গাইছে আকাশ", রিড ধ'রে সা-পা।
রবি ঠাকুর বুর্জোয়া নয়, গান কিছু হয় মিথ্যে,
বাস্তব আর কল্পনারা - ঘুরপাক খায় বৃত্তে।
বাদলবাবুর ইন্দ্রজিৎ - আমিই কেন হলাম !
স্যার বলতেন, সুখ হবে না, আমার পায়ের গোলাম।
ইউটোপিয়ার স্বপ্ন দেখা - সবার দ্বারা হয় না,
কিছু মানুষের বুদ্ধি কিন্তু সময় দিয়ে কেনা।
কিছু লেখা হাততালি পায়, বুড়ো আঙুল ছাড়,
মুখোশ-মোড়া ছবির নিচে, সেই আঙুলের ভার।
বাতিল টাকা পুড়তে পারে, বণিক রাজা হয়,
সাদা-কালো মুছে-দেওয়া মন, প্রেমের জন্য নয়।

Thursday, December 08, 2016

অন্য সনেট - A Different Sonnet

Boston, 8-Dec-2016, 6:05 PM

একাকী জানালার পারে, তুমি কি আজ নীরবে দাঁড়িয়েছিলে?
জানালার পারে নীরবে একাকী, তুমি কি আজ দাঁড়িয়েছিলে?
নীরবে জানালার পারে আজ, তুমি কি একাকী দাঁড়িয়েছিলে?
আজ তুমি একাকী দাঁড়িয়েছিলে জানালার পারে, নীরবে কি?
নীরবে একাকী তুমি কি আজ, জানালার পারে দাঁড়িয়েছিলে?
নীরবে জানালার পারে আজ একাকী দাঁড়িয়েছিলে, তুমিই কি?


[অনুপম রায়ের এক কবিতা, এবং তারও আগে এক ইংরেজি কবিতার প্যাটার্ন থেকে এই আঙ্গিকটি অনুপ্রাণিত। ]

Wednesday, December 07, 2016

Dear Zindagi - Movie Opinion

#DearZindagi এতো আদর করে কখনো জীবনকে ডেকেছেন কেউ? বোধ হয় এভাবে সরাসরি ডাকেননি, কিন্তু অন্য অনেক ভাবেই এই আদর আগেও ফুটে উঠেছে। যেমন শিলাজিত যখন "ও জীবন রে" গেয়ে ওঠেন, তিনি তো পরম মমতা দিয়েই জীবনকে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধার আহ্বান করেন (মমতা কথাটার মমত্ব কিন্তু এখনো ফুরিয়ে যায়নি)। তবে যাই হোক সিনেমায় ফেরা যাক।

নাসিরুদ্দিন শাহ একটা ইন্টারভিউতে বলছিলেন, সিনেমাকে দুভাবে দেখা যায়: এক, খুব সহনীয়ভাবে। মানে খুব একটা ক্রিটিক্যাল না হয়ে, সমালোচনা না করে। দুই, বিপরীতটা, মানে সিনেমাটার শৈল্পিক দিকগুলো বোঝার চেষ্টা করে। দুটোরই ভালো-খারাপ আছে। তবে প্রথম পথটা যদি কেউ অবলম্বন করে, তাহলে মুশকিলটা হচ্ছে, একটা সিনেমায় যে underlying emotion-টা আছে, সেটা অনেকসময় সে মিস করে যাবে। বরং যদি সে একটু ক্রিটিক্যাল হয়ে দেখতো সিনেমাটা, হয়তো আর একটু বেশি appreciate করতে পারতো।

তাই আমরা যদি সকলে একটু সন্দিহান মন নিয়ে সিনেমা দেখি, তাহলে সেটা আমাদের নিজেদেরই ভালোলাগাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। যারা সেই ভালোলাগা বাড়াতে চান না, তাদের কিছু বলার নেই। আমি এই ব্যাপারটা বোঝার পর থেকে, এই ভালোলাগাটা পাওয়ার চেষ্টা করি, তাই আজকাল একটু ক্রিটিক্যাল দর্শক হিসেবে সিনেমা দেখার চেষ্টা করছি। নোলান inception-এ actually কি বলতে চাইছে, না বুঝতেই পারি, কিন্তু কেন কোনো সিনে একটা চরিত্রের পিছনে transparent কাঁচের background ব্যবহার করছে, সেটা বোঝা গেলে কিন্তু এক অদ্ভুত ভালো লাগা চেপে বসে। তার আলাদা এক ধরণের নেশা আছে। তবে Dear Zindagi নিয়ে যা বলবো, তা সিনেমা দেখে শুধুই আমার মনের ভিতর কি ধরণের অনুভূতি নাড়াচাড়া দিয়েছে তা-ই বলবো। এটা কোনো রিভিউ বলে ভুল করবেন না। এই জন্য মাঝেসাঝেই সিনেমা থেকে বেরিয়ে অন্য বিষয়েও ঢুকে পড়বো।

শাহরুখ খানের শেষ যে সিনেমাটা হলে দেখেছিলাম, সেটা বোধ হয়, চেন্নাই এক্সপ্রেস। তখন লিখেছিলাম, "হালকা মনে দেখলাম, ভাল লাগলো।" তবে তার এক-দুদিন আগে শিপ অফ থিসিয়াস দেখে ফেলায়, চেন্নাই এক্সপ্রেসের পর নিজেকে খুব দুর্ভাগ্যের শিকার মনে হয়েছিল। কিন্তু আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে শাহরুখের যারপরনাই ফ্যানদের সংখ্যা প্রচুর, তাই তাদের জ্বালাতন সহ্য করতেই হয়। তবে এবার Dear Zindagi দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্য গৌরী শিন্দে এবং ছবিটার ট্রেলার। খুব একটা হতাশ হয়েছি বলা যায় না, তবে খুব একটা সন্তুষ্টও হতে পারিনি।

আজকাল আমরা মনের রোগ নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলে থাকি। তবে সমাজে, একটা নাক-সিঁটকোনো ভাব থেকেই গেছে এ ব্যাপারে। দীপিকা পাড়ুকোন এ নিয়ে মাঝে একটু শোরগোল ফেলায়, এই গোঁড়ামি থেকে সামান্য মুক্তি এসেছে ভারতে, তবে অনেকটা পথ চলা বাকি। এই সিনেমার বেশিরভাগটাই আলিয়া ভটের "মনের রোগ" সারানোর কাহিনী নিয়ে, যেখানে শাহরুখ খান মনের রোগ সারানোর ডাক্তার, নাম জাহাঙ্গীর খান। আমি কয়েকবার এরকম মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেছি, কখনো নিজের সূত্রে, কখনো আত্মীয়ের জন্য। কোথাও জাহাঙ্গীরের ঘরের মতো সাজানো গোছানো চেম্বার দেখিনি। কিন্তু আমরা মধ্যবিত্ত মানুষেরা যে ধরণের ডাক্তারের কাছে যাই, সে ধরণের ডাক্তার জাহাঙ্গীর না-ই হতে পারেন। আলিয়া ভটের মতো সিনেমায় সিনেমাটোগ্রাফারের ভূমিকায় অভিনয় করা মানুষেরা একটু উচ্চবিত্ত ডাক্তারের কাছেই যাবেন, সেটা নিয়ে তাই বেশি সন্দিহান হলাম না। সহনীয় থাকা গেলো।

কিন্তু এরকম কোনো মনোবিদ আছেন কিনা জানিনা, যিনি রোগীদের সমুদ্রের ধারে বেড়াতে নিয়ে যান, বা সাইকেল চড়াতে নিয়ে বেরোন। কিন্তু পদ্ধতিটা খারাপও নয়। তাছাড়াও, আরো একটু সহিষ্ণু হওয়া যাক, কারণ ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে বেশি intolerant হওয়া উচিত নয়। তাও আবার শাহরুখ খানের মতো কেউ যখন সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর কত উচ্চমানের মনোবিদ সেটা বোঝা যায়, এটা দেখে যে, আলিয়া ভট যখন শাহরুখের প্রেমে পড়ছেন বলে আমরা দর্শকরাও বুঝতে পারছি, সেখানে শাহরুখ সামনে থেকেও এবং মন নিয়ে কারবার করেও বুঝতে পারছেন না। আর শুধু তা-ই নয়, তিনি আলিয়া ভট-এর রোগ সারানো এমন সময়ে বন্ধ করে দিলেন, যখন আলিয়ার শাহরুখের প্রতি আসক্তি তৈরী হয়েছে। তিনি সেই অধরা, স্বপ্নিল নায়ক হয়ে থেকে যাওয়ার লোভ কি করে সামলাতে পারেন ! আমার শুধু জানতে উচ্ছে করে, গৌরী শিন্দে নিজে এই প্লট সম্পর্কে কতটা স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন।

কিন্তু এসব কিছুই আমি খরচের খাতায় ফেলে ignore করলাম। এবার সিনেমাটার একটু দর্শনের দিকটা নিয়ে ভাবা যাক। কারণ সিনেমাতে এদিকটা ছোঁয়ার একটা চেষ্টা আছে। আলিয়া নিজে অনেক প্রেমের সম্পর্ক করেছেন এবং বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে তার অসুবিধে হচ্ছে বলেই তার জাহাঙ্গীর খানের মতো মনের ডাক্তারের কাছে আসা। এখানে বলে রাখা ভালো, মনোবিদরা প্রেম ভাঙার এই সমস্যাটি নিয়ে খুব পরিচিত। তারা জানেন যৌবনে এই ধরণের সমস্যা অনেকেরই আসতে পারে, অনেক রোগীই আসেন। তাদের কাছে মেথডিক্যাল উপায়ও থাকে, সেই রোগ সরিয়ে তোলার।

এসব জানা সত্ত্বেও জাহাঙ্গীর মেথডকে বুড়ো আঙ্গুল দেখালেন। সেটা বোধ হয়, আলিয়ার মতো কেউ রোগী হওয়ার জন্যই। আলিয়ার রাতে ঘুম না হওয়ার *কারণ* সম্পর্কে, জাহাঙ্গীর খান প্রায় কিছুই বলেন না, অনুসন্ধান করার তেমন চেষ্টাও করলেন না। তিনি তাকে জীবন সম্পর্কে overall অনেক কিছু উপদেশ দেন। খুব অদ্ভুতভাবে নিজের জীবনের কিছু অংশ, কিছু insecurity আলিয়ার সামনে প্রকাশ করেন। আমি সত্যিই জানিনা, আজ পর্যন্ত কজন মনোবিদ এরকম করেছেন, এবং তা আদৌ করা উচিত কিনা। একজন ডাক্তার তার রোগী সম্পর্কে নির্লিপ্ত না হয়ে যদি তাঁর নিজের insecurity share করতে আরম্ভ করেন, তাহলে কি তিনি effectively অন্য মানুষটাকে সাহায্য করতে পারেন? এছাড়া, একজন মনোবিদের কাজ, একজন শিক্ষকের মতো শুধু সমস্যা-সমাধানের রাস্তাটাই বলে দেওয়া নয় কি? নাকি যে শিক্ষকরা সমাধানটা পরিষ্কার বলে দেন, তারাই ভালো? জানিনা - এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয় এখানে, দিলামও না !

প্রেম ভাঙার পরই, ডক্টর খান নতুন সম্পর্ক করার ক্ষেত্রেও আলিয়াকে বাধা দেন না, খুব অদ্ভুতভাবে হলেও। কারণ সাধারণত মনোবিদরা বলে থাকেন একটা passionate সম্পর্ক থেকে বেরোনোর পরে, মানুষের নিজের সাথে একটু সময় নেওয়া উচিত, অন্য কোনো সম্পর্কে যাওয়ার আগে। হঠাৎ করে নতুন সম্পর্কে চলে যাওয়াটাকে রিবাউন্ড রিলেশনশিপ বলে। যে শব্দটা সিনেমাতে কিছুক্ষনের জন্য ব্যবহার করা হলেও, তা নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করা হয় না। সেটা বোধ হয় আলি জাফরকে যাতে দেখানো যেতে পারে, তাই জন্য। ওরকম cute একজন ছেলে, এতো সুন্দর গান গায়, তাকে গৌরী শিন্দে বলে কেন, আমি হলেও সিনেমায় cast করতাম-ই। আচ্ছা আলী জাফর পাকিস্তানী না? এটা নিয়ে, ভারতবর্ষে আজ আর কারো প্রবলেম নেই বোধ হয়, তাই না? যদিও ভারতীয় ভাষায় এসব বিব্রত করার মতো প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তার থেকে প্রশ্ন করি, বাগো মে বাহার হ্যায়?

আলিয়া ভট সিনেমাতেও একজন আকর্ষণীয় মেয়ে, তাই গৌরী শিন্দে আলিয়ার একটা প্রেম শেষ হওয়ার পরে, তাঁকে *একা* দেখাতে চাননি। তাই তিনি প্রেম ভাঙার পরে নতুন প্রেমের সন্ধানে চেয়ার খোঁজার মতো বেরিয়ে পড়েছেন। যদি *একটা* ছেলেকে পাওয়া চায়, যার সাথে প্রেম করা যায়, মানে নতুন চেয়ারে যদি বসা যায় (pun unintended). আমার খুব কৌতূহল হয় একটা *ছেলের* প্রেম ভাঙার পরে, সে যদি এরকমই *চেয়ারের* মতো মেয়ে খুঁজতে বেরোতো, তখন কি আমরা নারীজাতিকে চেয়ারের সাথে তুলনা করে objectify করার জন্য, শোরগোল তুলতাম?

আমরা যারা সাধারণ ঘরের মধ্যবিত্ত, সেসব মানুষেদেরও এরকম একটা আকাঙ্খা থাকে - প্রেম ভাঙার পরেই নতুন আর একটা প্রেম হবে বেশ, শুধু প্রেমের পরে প্রেম আর প্রেম, আবার প্রেম। কিন্তু সেটা বোধ হয় মনের স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের সম্পর্কের স্বাস্থ্যের জন্যও খুব একটা ভালো ওষুধ নয়। রবীন্দ্রনাথ এক্ষেত্রে যেটা করে গেছেন, সেটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, আমাদের কি করা উচিত। এই যে প্রেম ভাঙার পরের অনুভূতিটা, এটা কিন্তু একটা খুব মৌলিক অনুভূতি। সকলের জীবনে খুব আলাদা করে, আলাদা ভাবে আসে। অথচ বাইরের লোকের দৃষ্টিতে এই অনুভূতিটা খুব একঘেয়ে - মানে যাদের প্রেম ভাঙে, তাদের সবারই যেন একই রকম অনুভূতি হয়, বলে অন্য মানুষেরা মনে করে। কিন্তু আদপেই তা নয়, সবার নিজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে অনুভূতিটাও বদলে যায়। কেউ বরফের মতো শীতল, কেউ আবার মরুভূমির বালির মতো উত্তপ্ত - তাদের পূর্ব সম্পর্কের প্রতি। এই অনুভূতিটাকেই আমরা বিভিন্ন দিকে চালিত করতে পারি। কারণ প্রেম চলে যাওয়ার পরে যে অন্ধকার তৈরী হয়, তার জেরেই তো আলোকে সঠিকভাবে চেনার শুরু। তবে শুধু প্রেম কেন, যে কোনো ধরণের ভাঙ্গনের পরের অন্ধকার থেকেই আমাদের আলোর দিকে যাত্রা শুরু হয়। অন্ধকার ঠিক কি, সেটা না জানলে, কি আমরা গেয়ে উঠতে পারতাম, "আরো আলো, আরো আলো, এই নয়নে, প্রভু, ঢালো" !

ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি, এই অন্ধকারের সময়টাতেই, মানুষ বোধ হয় সবথেকে productive হয়ে ওঠে। প্রাথমিক একটা কান্না থাকে, প্রচন্ড দুঃখ থাকে, গলায় দলা পাকিয়ে আসা থাকে, পৃথিবীর এতো রূপ-রস সবকিছুকে অস্বীকার করার একটা প্রবল হতাশাজনক ইচ্ছে থাকে, হঠাৎ হঠাৎ পুরোনো কথা, মুখ মনে পড়ে যাওয়া থাকে, নিজেকে খুব ছোট ভাবা থাকে। কিন্তু সেটা আত্মস্থ করে নেওয়ার পরেই আসল খেলা শুরু করে, সেই দুঃখের অনুভূতিগুলো। কেউ হয়তো দুনিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের গান শুনতে আরম্ভ করলো। কেউ হয়তো দুঃখের গান শোনা শুরু করলো, বাঙালি হলে তো ফসিলস-এর প্রাক্তনের উদ্দ্যেশ্যে গানের ছড়াছড়ি, রবীন্দ্রনাথও কম যান না। কেউ আবার লেখালেখি শুরু করলো, কত বাঙালির *সিরিয়াস* কবিতা লেখার শুরু তো সেখানেই। আবার কেউ কেউ হয়তো শুধু গদ্যও লিখতে আরম্ভ করেন। দুনিয়ার দিকে একটু ভালো করে তাকাবার, আরো সময় পায় কেউ কেউ। প্রকৃতিকে আপন করে নিতে কেউ গেয়ে ওঠে, "আজ যেমন করে গাইছে আকাশ।" আমরা সবাই *নিজের* দিকে আরো ভালো করে দৃষ্টি দিই। একা হয়ে গেলে, আমাদের জগৎটাও তো মূলত নিজেদেরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। তখন আমাদের নিজেদেরকে বোঝার শুরু হয়। নিজেদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, চাহিদা, পছন্দ - এগুলো যেন একটা অন্য মানুষের চোখ দিয়ে দেখতে আরম্ভ করি। আবার সেই অন্য মানুষটাও যেহেতু আমরা নিজেরাই, তাই সেই দৃষ্টিতে কোনো অহেতুক ফাঁক থাকে না, মিথ্যে থাকে না, শুধু স্ফটিকের মতো স্বচ্ছতা থাকে।

এই নিজেকে উন্নত করার প্রক্রিয়াটার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরেই, আমার মনে হয়, মানুষ নিজেকে নিজের মতো করে খুঁজে পায়। আর তখনই সে কাছাকাছি আসে, তার আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে এমন মানুষটার, যাকে অনেকে soulmate বলেন। যে মানুষটা তাকে challenge করতে পারবে, এই উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। রবীন্দ্রনাথ হয়তো এটাকেই বলেছেন, "আরো প্রেমে, আরো প্রেমে, মোর আমি ডুবে যাক নেমে।" এর কারণ মানুষ যতদিন নিজেকে না বুঝছে, সে বুঝবেই বা কি করে, যে অন্য মানুষের থেকে তার কি কি চাহিদা হতে পারে ! আমরা সাধারণত আমাদের সমস্ত চাহিদাগুলো, *একজন* মানুষের ওপরই আরোপিত করে দিই। কোনো ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সেটা বোধ হয় খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়। তাই নিজেকে চেনার সেই কঠিন সময়ের পরেই, আমরা হয়তো তৈরী হতে পারি, আমাদের জীবনে নতুন এবং সঠিক মানুষের জন্য। জাহাঙ্গীর এই কথাটাও খানিকটা বলেছেন সিনেমায়, কিন্তু এসব ব্যাপার নিয়ে তিনি বেশি বলতে চাননি।

ছবিতে জাহাঙ্গীরের জীবনের এই দর্শনগুলো নিয়ে বক্তব্য খুব একটা ছিল না। উনি আলিয়ার সাথে মজা করেছেন, সময় কাটিয়েছেন, কিন্তু আলিয়াকে নিজের মধ্যে সংগঠিত হওয়ার জন্য তেমন সাহায্য করেননি। শুধু নিজের পরিবারের সাথে সম্পর্ক মিটিয়ে নেওয়ায় সাহায্য করেছেন, যেটাও খুব দরকারি, কিন্তু একমাত্র দরকারি নয়। আমার মনে হয়, এই কারণেই সিনেমাটিতে জীবনের দর্শন নিয়ে অনেক কিছু বলার সুযোগ থাকলেও, তা শুধুমাত্র কিছু ডায়লগে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। আমার একটু অন্য আশা ছিল সিনেমাটা থেকে। কিন্তু বলিউডের ছবিগুলোর থেকে, এর বেশি কিছু আশা করা উচিত কিনা, সেটা আমার নিজেরই ভাবা উচিত ছিল।

সিনেমার কিছু টেকনিক্যাল দিক নিয়েও বলতে হচ্ছে। শাহরুখ এবং আলিয়ার বেশিরভাগ দৃশ্যগুলো shot-reverse-shot-এ shoot করা (মানে একবার আলিয়ার উপর ফোকাস, একবার শাহরুখের ওপর). এখানে আমার একটু সমস্যা হয়েছে। আমার পার্সোনালি মনে হয়, আমরা যদি দুজনকে একই ফ্রেমে আরো দেখতে পেতাম, কিংবা shot-reverse-shot-এই যদি একটু বৈচিত্র্য থাকতো, তাহলে ওনাদের তখনকার অবস্থার সাথে রিলেট করতে সুবিধে হতো। কিন্তু তার জন্য বেশ confident actor দরকার হয়, সেটা আলিয়া কতখানি সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। তাছাড়াও এধরণের shooting style-এ খুব ভালো script-ও দরকার হয়। যেমন ধরুন, Good Will Hunting-এ ম্যাট ডেমন আর রবিন উইলিয়ামস-এর কথোপকথন-গুলো। একবারের জন্যও একঘেয়ে লাগে না, অথচ সেই shot-reverse-shot. ওখানে ক্যামেরা কিন্তু অনেকসময় angle বা focus চেঞ্জ করছে। তবে এই মতামতটা একান্তই আমার, আমি সিনেমাটাকে visualise করলে কি রকম করতাম, তা বলা। তাই এই যুক্তি তেমন খাটে না। কারণ পরিচালক তাঁর দৃষ্টি নিয়েই সিনেমা বানাবেন। আমি শুধু বলতে পারি এটুকুই, আমার সামান্য অসুবিধে হয়েছে দেখতে।

আলিয়ার অভিনয় বেশিরভাগ সময়েই ভীষণ মেকী লেগেছে, ওনাকে অভিনয়টা করতে হয়েছে বোঝা যাচ্ছে, অভিনেতাদের বুঝতে দেওয়া উচিত নয়। যেমন ধরুন, যখন আলিয়া প্রথমবার তার সমস্যা বলছেন শাহরুখকে, বোঝা যাচ্ছে কিভাবে ওনার অস্বস্তি হওয়ার অভিনয় *করতে* হচ্ছে। এখানে মনে হচ্ছিলো আলিয়ার কানে জোরে জোরে বলে আসি, "ক্যামেরার সামনে অতি অভিনয় চলে না, একটু বাড়িয়েছো, দশ গুন্ বেড়ে যাবে।" শাহরুখের চরিত্রটাই আবার এমন হালকা চালে বোনা হয়েছে, যে ওনার নতুন করে তেমন করার কিছু ছিল না। শুধু কিছু ডায়লগ ওনার জন্য লেখা হয়েছিল। তবুও মনে থেকে যাবে ওই দৃশ্যটা, যেখানে আলিয়ার কান্নার পরেও শাহরুখ খুব নিশ্চল একটি প্রতিক্রিয়া দিলেন, একজন মনোবিদের যা দেওয়া উচিত।

গান নিয়ে বলার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু গানকে একটু অন্য ভাবে দেখার চেষ্টা করছি আজকাল। বোঝার চেষ্টা করছি, কেন আমাদের অনেকেরই, একই সাথে, শ্যামল মিত্র, কোহেন, কোল্ডপ্লে, পিঙ্ক ফ্লয়েড আর অমিত ত্রিবেদী ভালো লাগে। এটা কি কোনো chord-এর খেলা, নাকি মনের মধ্যে কোনো বিশেষ ধরণের সুরের বসে যাওয়ার খেলা? এর মধ্যেও কি কোনো pattern আছে? যাই হোক, তবে অমিত ত্রিবেদী এবারেও বেশ ভালো। অনেকটা লেখা হলো, এবার থামা খুব জরুরি। এই সিনেমা থেকে এটাই প্রাপ্তি যে, শাহরুখ মনে হয় অনেকদিন পর নিজের জন্য কোনো সিনেমা করলেন। এটা বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু ওনার নতুন সিনেমার ট্রেলার দেখে, সন্দেহ লাগছে, ঠিক কতদিন সেই ট্রেন্ড বজায় রাখবেন..

Wednesday, November 30, 2016

অন্য আমেরিকা - A different USA

আমেরিকায় কেউ এলে, বরফের ছবি, সুন্দর ন্যাশনাল পার্কের ছবি, বিদেশের রকমারি খাবারের কথা - এসব দেখতে শুনতে পেতাম বহুকাল ধরে। যদিও ছোটবেলায় এসব জানতাম না, কারণ চেনা-পরিচিত কেউ বিদেশে থাকত না। কিন্তু শিবপুরের মতো কলেজে ভাগ্যের জেরে পড়তে আসায় এবং ওখানকার সিনিয়রদের সুবাদে, আমেরিকার এই ঝাঁ-চকচকে দিকটার সাথে পরিচয় হতে শুরু করে। তখন ভাবতাম, তাহলে ওখানে বেশিরভাগ মানুষই নিশ্চই দুঃখে থাকে না। আমার চেনাপরিচিত বামপন্থী লোকজনদের জিজ্ঞেস করলে বলতো, "ওরা একটা ভোগবাদের দুনিয়া তৈরি ক'রে, মানুষকে আসল সমস্যাগুলো থেকে ভুলিয়ে রেখেছে।" এই অতিসাধারণ তত্ত্ব-টা মেনে নিতে সামান্য অসুবিধে হতো।

পরের দিকে যখন Occupy Wall Street আন্দোলন শুরু হল, তখনও আমার চেনা পরিচিত ফেসবুক দুনিয়ায়, তার কোনো রেশ দেখিনি। মনে হতো, তাহলে এই আন্দোলনগুলো করছে কে? প্রকৃতি যদি সেখানে তার শোভা মেলে দাঁড়িয়েও থাকে, লাস্যময়ী দুনিয়া যদি তার সমস্ত রূপ মেলেও দেয়, এই আক্রোশে থাকা মানুষগুলো কারা? আমার চেনাপরিচিত মানুষদের মধ্যে তাদেরকে কেন দেখতে পাচ্ছিনা? সেই প্রশ্নের উত্তর পাইনি, তবে এখানে এসে সেই মানুষগুলোকে খুঁজে পেতে শুরু করেছি, যারা আক্রান্ত। আজ শুরু করা যাক তাদের কিছু কথা বলার।

আমরা যখন ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বলছি যে, বেশিরভাগ কাজের জায়গায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংগঠন বন্ধ করে দেওয়াই ভালো, তখন এখানে কিছুদিন আগে একটা বিচার দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারা বলে যে, Graduate Students-রা এবার থেকে সংগঠন করতে পারবে, যদি বেশিরভাগ ছাত্রেরই তাই মতামত হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীরাও সেই সংগঠনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেই প্রসঙ্গে গত সপ্তাহে আমরা দ্বিতীয়বার মিটিং করি বস্টন ইউনিভার্সিটিতে। আমাদের বক্তব্য, আমরা Graduate Students-রা, একটা ইউনিভার্সিটির রিসার্চ, টিচিং থেকে শুরু করে গ্রেডিং পর্যন্ত করি, কিন্তু তার বদলে ইউনিভার্সিটির বড় বড় সিদ্ধান্তে, অনেক সময়েই আমাদের কোনো ভূমিকা থাকেনা। এছাড়াও STEM, মানে Science, Technology, Engineering, Math, -ছাড়া অন্য ডিপার্টমেন্ট গুলোতে মাইনে খুব একটা বেশি না। এর ফলে তাদের এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে অসুবিধে হতে থাকে। এই সব আরো কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে আমাদের ইউনিয়ন করার প্রস্তুতি চলছে।

অনেক বাধা আছে, অনেক রেস্ট্রিকশন আছে, কিন্তু বক্তব্য সেটা নয়। বক্তব্য হল, এই যে চোরা স্রোতটা বয়ে যায় যে কোনো দেশেই, সেটার কথাও সকলের জানা দরকার। কোনো দেশ তো একদম পারফেক্ট নয়ই। এখানেও রেললাইনে দেখেছি যথাসাধ্য maintenance না করার চিহ্ন। প্রচুর মানুষ ঘরছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়ায়, ভিক্ষা করে এবং মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে যায়। Consumer-দের স্বাধীনতা এখন Corporate-দের স্বাধীনতায় পরিণত। কিন্তু আমেরিকাতে যে লোকে এখন অন্য ভাবে ভাবছে, (এবং ভীষণ বেশি করে ভাবছে) সেই কথাটাও তো জানা জরুরি, বিশেষ করে আমার ঘরের দেশের মানুষদের।

তবে ভারতে শুধু নয়, সারা বিশ্বের নিরিখেই আমরা এক খুব অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এতদিনকার সিস্টেমের হর্তাকর্তারা বুঝে পাচ্ছেন না, আমাদের সিস্টেমের এই দুর্দশার পরবর্তী সমাধানটা ঠিক কি হতে পারে। তারা ভীষণ confused. সেই সুযোগে, উঠে আসছে, ট্রাম্প, brexit এবং ৫৬ ইঞ্চি। জানি ৫৬ ইঞ্চিকে এই দলে দেখলে অনেকে রেগে যান, কিন্তু আমি মানুষের উদারমনস্ক, নিরপেক্ষ, objective চিন্তা-ভাবনার উপর বিশ্বাস রাখলাম। তাছাড়াও সারা বিশ্বকে একটা প্যাটার্নের মধ্যে বাঁধার প্রয়াসের মধ্যেও ওটা পড়ে। তাই ৫৬ ইঞ্চির উত্থান, সেই প্যাটার্নের একটা অংশ বলেই মনে করি। সারা বিশ্বের সেই ভয়ঙ্করতম প্যাটার্নের মধ্যেও, ওই যে কিছু লোক চেষ্টা করছেন, একটু অন্য ভাবে ভাবার, তারাই কিন্তু আপাতত মানবজাতির আশা। আর এই আশার কথা চিরকাল বলে যাওয়ার চেষ্টা করবো। The Shawshank Redemption-এ তো Andy বলেছিল, "Hope is a good thing, maybe the best of things, and no good thing ever dies." এবার মানুষের, মানে আমাদের সবার উপর নির্ভর করছে, আপনারা সেই আশার অংশীদার হবেন, নতুন ভাবনার অংশীদার হবেন, নাকি গতানুগতিকতার !

শেষ করবো, আপনাদের এতটা অব্দি পড়া হলে কি মনে হতে পারে - সেটা দিয়েই। একবার আমার সাথে এক বামপন্থী মনোভাবাপন্ন প্রফেসরের কথা হচ্ছিলো। তিনি তখন বলছিলেন, কিভাবে IITKgp-তে তাঁর সময়ে, তাঁর অনেক বন্ধু ট্রটস্কি-কে সমর্থন করতেন। তো আমার এক জায়গায় প্রশ্ন ছিল, এই বিশাল বিশ্বে আমি একটা ক্ষুদ্র মানুষ হয়ে কি-ই বা করতে পারি, নেতা হওয়া তো আমাদের কাজ নয়। উনি বলেছিলেন, যে মনোভাবটা রেখেছো, শুধু সেটা রেখে দিতে পারো, ওটুকুই তোমার কাজ। সেটুকু করতে গিয়ে, বাকি যদি আর কিছু হয়, তো হবে, কিন্তু সেটা তোমার হাতে নয়। আমাদের মতো মানুষেরা এটুকুই করতে পারি। ওনার সেই কথার সূত্র ধরেই এখন বলবো এবং পরেও হয়তো বারবারই বলবো, নিজের মনোভাবটা দেখুন, আর সেই মনের ভাবনা দিয়ে কিসের অংশীদার হবেন সেটা ভাবার চেষ্টা করুন। এরকম এক-এক জনের চেষ্টাতেই তো সংখ্যা বাড়ে, মানুষ বাড়ে। আর Bernie Sanders-ও বলেন, "*We* all have the power to make history.", হ্যাঁ, "মানুষই ইতিহাস রচনা করে।" এরকম যদি সকলেই মনে করতে থাকে, তাহলেই হয়তো ভবিষ্যৎটা আমাদের হাতে আসবে, নচেৎ গোলাপি মানুষ আর ৫৬ ইঞ্চি !

Saturday, November 26, 2016

সাধারণের অর্থনীতিতে নাক গলানো - Interfering into Economics by Public

কিছুদিন এই demonetization-এর জেরে দেখবেন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে, সবাই কি economics-এ পন্ডিত হয়ে গেলো? যে সবাই নিজের মতামত দিচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু কথা বলা দরকার।

বেশ করেছেন মতামত দিয়েছেন, এবং আরো বেশি বেশি করে মতামত তৈরি করুন আর দিন। Economics এমন একটি সাবজেক্ট যেটি পুরোপুরি বিজ্ঞান নয়। Economics-এর যে ভিত্তিগুলো আছে সেগুলো অনেক assumption-এর ওপর base করে তৈরি করা। মানুষের আচার আচরণ চিন্তা ভাবনা এসবকে অঙ্কের ভাষায় বাঁধতে চাওয়ার চেষ্টার নামই, খুব সহজ ভাষায়, economics. আর সেই জন্যই Economics-এর পন্ডিতরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে কখনো কিছু বলতে পারেন না। চেষ্টা করেন একটা কাছাকাছি prediction দেওয়ার।

সেই prediction সম্পর্কে যদি আপনার কোনো মতামত থাকে, সেটাও না বলার কিছু নেই, কারণ মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে আপনার আলাদা কোনো ধারণা থাকতেই পারে। আর সেই ধারণা কোনো mathematical model বা economist-এর চিন্তার সাথে না-ই মিলতে পারে। তা বলে আপনার ধারণা তাতে ছোট হয়ে যায়না। আপনি কোনো বিজ্ঞানকে challenge করছেন না, human behavior-কে বিশ্লেষণ করছেন। একজন মানুষ হিসেবেই সেটা আপনার স্বভাববশত আসতেই পারে।

আপনি যদি আমাকে computer science-এর যে কোনো বিষয়ে random বলেন, আমি হয়তো মানবো না। আপনাকে সঠিকটা ধরিয়ে দেব। কিন্ত যদি Artificial Intelligence (AI) নিয়ে কিছু বলতে আসেন, অবশ্যই শুনবো। কারণ এর মূলেও চলে আসছে, human behavior। একটি self-driving car, যে কিনা আগে থেকে জানে এবং বুঝতে পারছে, যে তার একটি accident হতে চলেছে, সামনে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া একটি বাচ্চাকে সে কিছুক্ষনের মধ্যে পিষে দেবে। অথচ সামনের বাচ্চাটাকে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে গাড়িতে যারা বসে আছে, তারা মারা যেতে পারে। এমতবস্থায়, গাড়ির AI machine-এর কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? কাকে বাঁচানো উচিত? গাড়ির সওয়ারীদেরকে নাকি সামনের বাচ্চাটাকে?এ বিষয়ে শুধু computer scientist-দের মতামত নয়, সাধারণ মানুষের মতামতও important.

তাই ভাবুন, প্রশ্ন করুন, এবং নির্দ্বিধায় করুন। কেউ কেউ চায় না আপনারা সেটা করুন, বেশিরভাগই নিজেরা প্রশ্ন করতে পারেনা বলেই চায় না। নিজেকে সেই দলে ফেলবেন না।

Sunday, November 20, 2016

মনখারাপের রংগুলি - Colors of Melancholia

শেষবার যখন বাড়ি ফিরেছিলাম, এক বন্ধু এক আড্ডায় বলেছিলো যে ফেসবুকটা হল এমন একটা জায়গা যেখানে সবাই তাদের জীবন কতটা ভালো সেটা প্রমান করতে ব্যস্ত। তখনই মনে হয়েছিল, সত্যিই তো, আমরা কে-ই বা আমাদের জীবনের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরি! তুলে না ধরার অনেক কারণের মধ্যে প্রধান হল, করলেই তো অন্য লোকে স্টিরিওটাইপ এবং judge করতে শুরু করবে। সেই জন্য বেশিরভাগ মানুষই খারাপ দিকের কথা share করে থাকেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে হল, মানুষ তো তার স্বভাব-বশতই judgemental, তা আমি যা-ই করি না কেন! তাই ভাবলাম খারাপ দিকগুলো নিয়েও কিছু লেখা এখানে থাকুক। নিজের কাছে যেগুলো আছে, তার মধ্যে থেকেই কিছু কিছু। লেখাগুলোর নাম হোক, মনখারাপের রংগুলি।

পশ্চিমবঙ্গের শীতকালের রাতের একটা অদ্ভুত মায়াবী রূপ আছে। চারদিক ভীষণ শান্ত হয়ে যায়। হয়তো খুব দূরে হঠাৎ একটা ট্রেন বা মালগাড়ি চলে যাওয়ার আওয়াজ ভেসে আসে। তাছাড়া বাকি চরাচর জুড়ে এক বহুকাঙ্খিত প্রশান্তি। এতো ডামাঢোল, এতো অসুবিধে, এতো অস্থিরতা - এসব পেরিয়ে এসেও এই আশ্চর্য শান্তি মনে লেগে থাকে। জানিনা বাংলা ছাড়া আর কোথায় কোথায় এই শান্তি থাকে, তবে বস্টনের রাতে থাকে। এডমন্টনেও থাকতো। হয়তো এই শান্তি আসলে রাতের অন্ধকারে আমাদের মনে এসেই ধরা দেয়, কোনো স্থানের তোয়াক্কা না করে! আবার এই শান্তির সাথে পুরোনো কথা, মনখারাপ আর নস্টালজিয়া একসাথে আসে, এ যেন সেই ছোটবেলার এক টাকার চকোলেটের সাথে পাওয়া চরকিটা - যদিও দ্বিতীয়টা ফ্রিতে পাওয়া কিন্তু দুটোই সমান দামি।

সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনখারাপের রংগুলোতে আজ প্রথম ছোপ পড়ুক কলেজের।এখন স্থানীয় সময়ে যটা বাজছে, এই রকম গভীর রাতগুলোতে কলেজে কি হতো তার কথা বলা যাক। যে রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলে আমরা থাকতাম, সেই "ম্যাকডোনাল্ডস হল্"-এর সুপার উইং-এ ছিল আমার রুম। আমার রুমের দরজা বেশ রাত অব্দি খোলা থাকতো। তখন কেউ হয়তো আশেপাশের কোনো রুম থেকে আসতো আমার কাছে, হন্তদন্ত হয়ে। এসে বলতে শুরু করলো, "সোহম, সব শেষ, এভাবে পারা যায়না। আমি এভাবে বেশিদিন টানতে পারছিনা, আজ সব শেষ করে দিলাম, একদম final break-up." এবং তার পরেও কিছু কথা এই নিয়ে। অগভীর মন নিয়ে গভীর জীবনবোধ চর্চা করার চেষ্টা চলত।

সেই ছেলে চলে যাওয়ার পর হয়তো এলো আর একজন কেউ। যে হয়তো কলেজের অন্য সব রেসিডেন্সিয়াল হলগুলো ঘুরে এসেছে। তার কাছে অন্য লোকেদের খবর থাকতো, সেগুলো নিয়ে কথাবার্তা শুরু হতো। যাদের যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে তাদের ফেসবুক দেখা থেকে শুরু করে কোনো সিনিয়রের লিংকড-ইন অব্দি দেখে ক্লান্ত হয়ে, সে চলে যেত। তার পরেই হয়তো আবার আগের ছেলেটি ফিরে আসতো, তবে এবার ধীরে ধীরে। তার এবার বক্তব্য, "জানিস মেয়েটা ভালোই, আসলে ওর আগের জীবনের এতো কষ্ট, তাই কখন কি করে, ঠিক থাকে না, সব মিটিয়ে নিলাম বুঝলি।"

এভাবে আধ-ঘন্টার ব্যবধানে মানুষের জীবন পরিবর্তন হতে দেখা চলতে থাকতো। কেউ হয়তো রাতে এসে দুটো গান গেয়ে গেলো। কারো আবার রাতে নাচতে ইচ্ছে করেছে বলে, কোনো অবক্ষয়ী বঙ্গ-মানসিকতার গান খুব জোরে স্পিকারে চালিয়ে, তারা নাচের মাধ্যমে শরীরের কিছু মেদ ঝরিয়ে গেলো। কোনো সিনিয়র এসে হয়তো আবার তার নতুন কবিতা শুনিয়ে গেলো, কিন্তু সেই কবিতার ভাষার সাথে পরমুহূর্তেই তার গালাগালির ভাষাকে মেলানো যেত না।

তবে এ শুধু আমার নয়, বছরের পর বছর, এভাবেই সব রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলের কোনো না কোনো উইং-এ এরই রকমফের হয়ে চলেছে। কারোর না কারোর দরজা এভাবেই এখনো খোলা আছে, আজ থেকে বহুবছর আগেও যেমন ছিল, আবার পরেও যেমন থাকবে। এখনও এখানে আমার নিজের একলা ঘরের দরজা রাতের দিকে খোলাই রাখি। এখানেও থাকে অন্য রুমমেটরা, আমার সাথে পাশের অন্য ঘরগুলোতে। শুধু এখন আর কেউ তাদের জীবন নিয়ে আমার দরজার এপারে আসে না। তাদের সাথে হয়তো এখন ফিফা খেলা হয় আজকালকার X-Box-এ। তবে সত্যিটা তো এটাই যে, আমাদের সবার জীবনেই মাঝে কেটে গেছে বেশ কতগুলো বছর। সবার জীবনের চারিদিকেই হয়তো এসে গেছে কতগুলো স্তর, সেগুলো নিয়ে বোধ আর নাড়াচাড়া না করাই ভালো। তাদের কথা, আমার কথা যে যার ঘরের দেওয়ালে ধাক্কা খায় আর অবশেষে মিলিয়ে যায়। যেভাবে আমরাও মিলিয়ে যাবো একদিন...

Wednesday, November 09, 2016

তুই আর হিমালয় - You and the Himalaya

Boston, 09-Nov-2016, 08:56 PM

তুইও জানিস, আমিও জানি
সময় ঠিক কতখানি,
মানুষ ঠিকই সুযোগ বুঝে চলে যায়।
আর পাঁচটা ব্রেক-আপে,
যেমন করে মনখারাপে,
তুইও ভাবিস, আমি তেমন অসহায়।

দামি গিটার, সস্তা গলা,
খুশি করতেই ভালো বলা,
এমন করে কটাই বা দিন চালাবি তুই!
আমার চিংড়ি-আলু-পেঁয়াজ,
তোর আরো গম্ভীর কাজ,
Java-তে CPU লাগে সবটুকুই।

তোর অটো স্বপ্ন-নীল,
পদ্যেতে নেই অন্ত্যমিল,
আমার এখনো ছড়া কাটতেই ভাল্লাগে।
শিল্পীরা সব গান পাঠায়,
তোকেই শুধু শোনাতে চায়,
YouTube-এই আমার সারা রাত জাগে।

কবিতাগুলো যেমন করে
ভেসে গেছিলো সুর না ধরে,
তেমনি করেই তোরও জীবন গতিময়।
বন্ধুত্ব বন্ধই রাখ,
আশা করি সুখেই থাক,
তুই, কৃত্তিমতা আর হিমালয়।

ট্রাম্পের জয় - একটি অন্য দৃষ্টিভঙ্গি - Trump's Win - A different perspective

খুব ইচ্ছে করছিল, "পার্লামেন্ট শুয়োরের খোঁয়াড়"-জাতীয় কথা লিখে দিতে বা Bernie Sanders-এর একটা মুচকি হাসির ছবি share করে দিতে। কারণ বেশ ওটুকু করলেই চলত এই election result-এর জন্য। কিন্তু কিছু কথা না জানালে এবং সবথেকে বড় ব্যাপার, কিছু কথা গ্রন্থিত করে না রাখলে, সেটা আজকের সময়ের প্রতি অন্যায় হবে। বড় লেখা, ইচ্ছে থাকলে আর সময় না থাকলে, "save" বলে একটি feature দেয় facebook, প্রত্যেক পোস্ট-এর Top-right corner-এ।

একদম প্রথমেই বলতে হয়, কোনো দেশে থেকে সে দেশকে চেনা আর globalization-এর যুগে সেই দেশের বাইরে বসে সে দেশকে চেনার মধ্যে অন্যতম পার্থক্য হচ্ছে - সেই দেশের মানুষের সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া, যেটা শুধুমাত্র সে দেশে বসেই পাওয়া সম্ভব।

আমেরিকান একটি culture আছে, তা হলো খুব private circle ছাড়া রাজনীতি নিয়ে আলোচনা না করা। অনেকদিনের একটি silent rule বলা যেতে পারে। কিন্তু এখানে এসে থেকেই বুঝতে পেরেছি, মানুষ সেই tradition ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে যেন। obviously, আমি দেশের অন্যান্য জায়গার মানুষের সাথে কথা বলিনি। কিন্তু Boston-এ, মানুষের মধ্যে এই বাঁধন ভাঙার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। সেটা কোনো social science-এর teacher-ই হোক, বা কোনো furniture দোকানের কর্মী। সকলে রাজনৈতিক ভাবে সচেতন শুধু নয়, তাদের মতামত openly বলতেও দ্বিধা করছেন না। এই ধরণের রাজনৈতিক সচেতনতা একটা সমাজের পক্ষে ভালো লক্ষণ। কিন্তু সেই সমাজকে অন্তত তাদের উপযুক্ত leader-কে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

আমরা বাইরে থেকে বলে দিতে পারি, "A nation gets the leader it deserves". হ্যাঁ, অবশ্যই তাই। কিন্তু এই দেশ আজ যেটা পাচ্ছে, সেটা তাদের এখনকার choice-এর ফল তো নয়। এখনকার তাবড় তাবড় মানুষ হয়তো Donald Trump-এর মত মানুষকে চাননি, কিন্তু তাদের কাছে establishment-কে challenge জানানোর মতো আর কাউকে দেওয়াই তো হলো না। তাহলে তারা কি করবেন, তারা তো নিজেদের এই শোচনীয় অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন না, শুধু এটা ভেবে যে বাকি পৃথিবীর কি হয়ে যাবে যদি Trump-এর মত কেউ ক্ষমতায় আসেন। তাদের তো নিজেদের জীবনকে উন্নত করার চেষ্টাটা চালাতে হবে। তারা সেই খড়-কুঁটো আঁকড়ে ধরেছেন।

কিন্তু এখানে এটা তো পরিষ্কার যে কি বিশাল সংখ্যক মানুষ বলছেন যে, না আমরা এই establishment-এর বিরুদ্ধে। এভাবে আমাদের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুই পার্টির দুটি candidate-এর মধ্যে যে ব্যক্তি, standard rule-গুলির ওপর সবথেকে বেশি আঘাত করছে, তাকেই আমরা প্রাধান্য দেব। আমেরিকানরা কিন্তু একজন world-leader choose করছেন না। বেছে নিচ্ছেন নিজেদের বাঁচার উপায়, নিজেদের দেশের রাষ্ট্রপতি।

কিন্তু কিভাবে এলো এই সময়? খুব সহজ ভাষায় বলি, ছোট্ট করে। 1980-90, আমাদের সারা পৃথিবীর সামনে খুলে গেল উদারবাদের নয়া দিশা। ভারতের মতো দেশগুলিতে নতুন upscale jobs। আমেরিকানরা সেই নীতি সমর্থন করলেন। ব্রিটেনেও তাই হলো। ভারত কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল। কিন্তু আমাদের system, unforunately যে একটি zero-sum-game, মানে কেউ এগোলো তো কাউকে পিছাতে হবে। আমেরিকানরা সেই সময় থেকে কাজ হারাতে থাকেন। তাদের salary সেই সময় থেকে stagnant। সুতরাং সেই ভুলের দাম তো তাদের দিতেই হবে, যে তারা তাদের সরকারের মাধ্যমে সেই যুগে তাদের কাজগুলোকে কম দামে developing world-এ পাচার করে দিয়েছিল আর, company গুলোকে মুনাফার সুযোগ করে দিলো। সেই দাম তারা এভাবেই দিলেন।

কিন্তু একটু ভাবুন, কি প্রবল সম্ভাবনার কথা বলে যাচ্ছে এই সব election-গুলো। মানুষ তারস্বরে বলছে, আমরা এই সিস্টেমের প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে পারছিনা, এর জন্য তারা যে কোনো এক extreme প্রান্তে চলে যেতেও প্রস্তুত। ভারতের মানুষের কাছে শুধুই BJP as the choice, মানুষ বললেন, তাই সই, যতই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আগে যা-ই করে থাকুন। গ্রিসে মানুষ আবার বেছে নিলেন বেশি বামপন্থী একটি দলকে, তাদের কঠিন সময়ে। স্পেন-এ একটি far-right party অনেক বেশি seat পেল, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সেই extremism-এর ছায়া। আমেরিকাও সেই একই global-trend থেকে আলাদা নয়।

শেষ করবো আর কয়েকটা কথা দিয়ে, 1930-এ একটি বড়োসড়ো financial depression হয়েছিল এই আমেরিকায়। আজকের 2008-এর থেকেও অনেক বড়। সেই সময় এখানকার communist, socialist পার্টিগুলো খুব পপুলার হয়ে গেছিল। trade union আন্দোলনও জোরকদমে চলে। এইসব তখনকার বড়লোকেরা একদমই ভালো চোখে দেখেননি। communist, socialist সহ সকলকে ban করা হয় রাশিয়ার সাথে connection আছে, সেই অভিযোগে। আর এখন কিছুদিন আগে, একজন নিজেই claim করা democratic socialist, প্রায় presidential candidate হয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরিবর্তন কিন্তু হচ্ছে, এবং তা হচ্ছে, এতদিন ধরে communist জুজু দেখানোর পরেও।

এখানে কিছুদিন আগে Harvard University-তে একটি কর্মী আন্দোলনে কর্মীরা তাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন চালিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন।
আমি সেদিন train-এ করে কলেজ যাচ্ছিলাম। দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ শুনলাম দূরে দুটি White ছেলের কথোপকথনে "Communism" কথাটা উঠে আসছে। লেনিন বলেছিলেন, একটি পার্টির মাধ্যমে আমরা হয়তো পৌঁছে যাবো utopian সমাজের লক্ষ্যে, কিন্তু মানুষ যদি তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হন, সেটুকু খুব খুব জরুরি। সেটা কিন্তু মানুষকে হতেই হচ্ছে, বিলাসের মায়াজাল ছাড়িয়েও। আমার কাছে কোনো পার্টি, বা কারো জয়ের থেকেও, system-কে আঘাত করাটা বেশি আশাজনক।

Sunday, November 06, 2016

কিছু সিনেমা আর কলেজ - Some movies and college

কিছুদিন বাদেই Rock On ২ release করবে। এই প্রসঙ্গে পুরোনো কিছু কথা মনে পড়ে গেলো।

প্রথম Rock On যখন release করে, তখন আমরা সবে কলেজে ঢুকছি। হিন্দি সিনেমাতে এ ধরণের music আগে প্রায় হয়নি। তাছাড়া তখন বাংলায় ব্যান্ড culture খুব পপুলার। ফলে ক্যাকটাস নিয়ে এরকম একটা ফিল্ম খুব আলোড়ন ফেলেছিলো। বেশ জমিয়ে দেখেছিলাম। সেটাই সম্ভবত কলেজের বন্ধুদের সাথে প্রথম সিনেমা। লিপিতে দেখেছিলাম।
Jaane Tu... Ya Jaane Na-ও কতকটা সেই কলেজবেলারই মুভি। ওটাও কলেজের মানুষজনদের সম্পর্ক, আর বন্ধুত্ব, প্রেম এসব গোছের ভালো সিনেমা। সেকালে সেটাই বেশ ভালো লেগেছিলো।

এরপরে ২০০৯, দুটো ফিল্ম, যেটা long-standing প্রভাব ফেলে গেলো। প্রথমে, সেই ফিল্মটি যেটি তখনকার সদ্য জেগে ওঠা ইন্টারনেট আর SMS-pack-এর যুগে just বাইবেল ছিল। সেই যে "অন্তহীন" অপেক্ষার শুরু, এর শেষ বোধ হয় আর নেই। এখনো বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে সেই ভাষায় কথাবার্তা চলে।

দ্বিতীয় সিনেমাটি অবশ্যই 3 idiots. ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নিয়ে এরকম relate করার মতো সিনেমা, তখন দেখতে পেরে দারুন লেগেছিলো।

২০১০, আমার এখন অব্দি জীবনের বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে যাওয়ার শুরুর বছর। তার একটা, একটি বাংলা ছবি নিয়ে। ছবিটা অটোগ্রাফ, তখন ভালো লেগেছিলো, এখন আর লাগে না, তবে সৃজিতের ভালো যে মাত্র ২-৩টে কাজ আছে, তার একটা। তবে যেটা আমার জন্য significant, সেটা ওই ছবির দুটো গান দিয়ে অনুপমের প্রবেশ, আমার জগতে। তারপর থেকে সে জুড়েই আছে। সেই পুজোতে প্রচুর শুনেছিলাম।

২০১১-য় কলেজ নিয়ে না হলেও বন্ধুবান্ধব নিয়ে Zindegi Na Milegi Dubara, কলেজের জন্যই মনে থাকবে। সম্ভবত মেনকাতে দেখেছিলাম, Souvik-এর সাথে। বন্ধুত্ব, জীবনের মানে, আর জাভেদ আখতারের শায়েরি মিলিয়ে বেশ ছাপ ফেলেছিলো।

২০১২-য় আমরা কলেজ ছেড়ে দি। কলেজ ছাড়ার কিছু আগেই কলেজের কাছে PVR হয়, সেখানে দেখা কলেজের শেষ সিনেমা, Kahani. এবং আমি কিন্তু শেষটা guess করতে পারিনি, তবে যে গ্রুপটা গেছিলো, তার কেউ একজন পেরেছিলো।

এরকমই কলেজের প্রতিটা বছরের সাথেই আরো কত কত সিনেমা জড়িয়ে আছে, যেভাবে সবার জীবনেই থাকে। আবার moment-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কিছু কিছু গান। সেসব নিয়ে আবার কোনো একদিন লেখা যাবে...

Friday, September 30, 2016

Dhoni - Movie Opinion

যারা ধোনির ভক্ত তাদের লেখাটি অবশ্যই পড়তে *অনুরোধ* করছি। আর যারা anti-ধোনি, non-ধোনি বা politically correct, তারা সময় থাকলে পড়তে পা(রেন, রো, রিস)।

"Dhoni, you are in the 11.
....
All the best."

সত্যি কথা বলতে, ওপরের দুটো লাইন শোনা এবং তাদের নিয়ে কি বলা হচ্ছে, সেটা দেখতেই আমার যাওয়া। সেটা নিয়ে পরে বলছি।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছেলে থেকে ভারতের বিশ্বকাপ-জয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক - সত্যিই বেশ রোমহর্ষক কাহিনী। সিনেমা দেখতে যাওয়ার আগে অন্তত বেশিরভাগ দর্শকের এই আশাই থাকবে। সাথে নীরজ পান্ডের ছবি, আগের প্রত্যেকটা সিনেমাই গড়পড়তা হিন্দি সিনেমার থেকে অনেক ভালো। কিন্তু এখানে এসেই ভুল হয়ে গেলো।

প্রথমত, সিনেমাটি অহেতুকভাবে বড়। ৩ ঘন্টা খুব বেশি লেগেছে।

দ্বিতীয়ত, সিনেমাটা বাজারি করতে গিয়ে প্রচুর প্রেমঘটিত ঘটনা ঢোকানো।

তৃতিয়ত, অনেক facts বলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে ঠিকঠাক connect করা হয়নি।

চতুর্থত, এতো বাজে graphics-এর কাজ আজকালকার দিনে আমি দেখিনি। এতো খারাপ ভাবে সুশান্তের মাথা morph করে অন্যের ঘাড়ে লাগানো হয়েছে যে খুবই খারাপ লাগে। তাও শেষের দিকে morphing উন্নত হয়।

মূলত এই চারটি কারণে এটা নীরজ পান্ডের অন্যতম খারাপ সিনেমা। তবে, সুশান্তের অভিনয় এবং ধোনিকে ছবিতে ফুটিয়ে তোলা অসাধারণ। আমার বহু আগে থেকেই সুশান্তকে হিন্দি সিনেমার অন্য mainstream অভিনেতাদের তুলনায় একটু বেশি বুদ্ধিদীপ্ত লাগে। এখানেও বেশ ভালো লাগলো, অন্য কেউ করতে পারতো বলে মনে হয় না।

এবার আসল কথায় আসা যাক। এই সিনেমা কেন হবে? কারণ ধোনি বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন, ধোনি ফাইনালে গিয়ে হারেন না। উনি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে লড়াই করে উঠে আসেন, টিটির কাজ ভালো না লাগলে ছেড়ে দেন, "ভারত"-এর একশো কোটি মানুষের জন্য উনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেলেন, উনি advertisement করেন smartly, উনি বাইক চালান তুমুলবেগে। এরকম মানুষই তো বাস্তবের হিরো থেকে পর্দায় হিরো হয়ে যান।

কিন্তু এসব মানুষদের হিরো দেখানোর জন্য controversy-কে ছেঁটে বাদ দিতে হয়, তাই সারা সিনেমা জুড়ে controversial কথাবার্তা হয়তো মেরেকেটে ১০ মিনিট। সেটা হয়তো একজন active player -এর ক্ষেত্রে আরো জরুরি।

আরো যা জরুরি পর্দার হিরো হতে, তা হল, অন্য কারোর achievement-কে focus না করে শুধু হিরোকে হিরো করে তোলা। সেটাও যথেচ্ছ পরিমানে হয়েছে। আমার কোনোটাতেই আপত্তির কোনো জায়গাই নেই। ফিল্মে তো এরকমই হয়।

কিন্তু একটা জায়গার কথা না বলে পারছি না। সেটা ওই একদম প্রথমের দুটো লাইনের জায়গাটা। তখন প্রচুর সত্যিকারের ক্রিকেট দেখতাম। তাই ম্যাচগুলো মোটামুটি ভালো মনে আছে। ওই ওপরের লাইন দুটো ধোনির ইন্ডিয়ান টিমের ক্যাপ্টেন, হোটেলের ফোনে ধোনিকে বলে। যখন ধোনি তার দ্বিতীয় সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলায় প্রথম দুটো ম্যাচ-এ রান পাননি, তার পরে এবং তৃতীয় ম্যাচের আগে। ধোনি তখন বুঝতে পারছেন না যে তাকে পরের ম্যাচে রাখা আদৌ হবে কিনা ! ছবিতে এরপরে দেখানো হয় যেন ধোনিকে এমনি-ই সেই ম্যাচে তিন নম্বরে নামানো হল। কিন্তু সেটা কি শুধুই দৈববলে হলো নাকি ধোনির তখনকার ক্যাপ্টেন-এর কোনো ভূমিকা ছিল ? যাই হোক, সেই ম্যাচেই ধোনি প্রথম একশো করেন।

যাই হোক, এই ফিল্ম শুধু ফিল্ম হিসেবে একদমই ভালো লাগার নয়, কিন্তু কিছু আবেগের সাক্ষ্মী। এটুকুই এটার থেকে পাওনা। আর ধোনি থাকলেন ধোনির জায়গায়, শুধু আরো একটু বাজারের হলেন। ধোনি legend, আমাদের যে legend-কে ভালো লাগে আমরা choose করে নিই, আমার ক্ষেত্রে সেটা ধোনির প্রথম ক্যাপ্টেনই। চিরকাল ছিল না, কিন্তু আছে, থাকবেও।

Thursday, September 29, 2016

বিদেশে থাকতে পুজো - Pujo while being abroad

গত কয়েক বছরে এই সময়টা মোটামুটি এরকমই। কিন্তু চারপাশের উত্তেজনা-টা উপেক্ষা করতে পারি না। একটা আলাদা গন্ধ, একটা আলাদা চিত্রকল্প আছে, এই সময়টার ।

অনেক ভেবে দেখেছি, আমার এই সময়টাকে ভাললাগা, সকলের ভালোলাগাতেই লুকানো। এতগুলো মানুষের একসাথে সুখী থাকা - তাদের সমস্ত দুঃখ ভুলে, জীবনের যন্ত্রণা ভুলে, পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলে, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ভুলে - তাকে কুর্নিশ জানাতেই হয় ।

এই সময়টার মানে আমার কাছে - একরাশ নস্টালজিয়া। সেগুলোর কিছু কিছুতে ডুবে থাকতে যেমন বেশ লাগে, তেমনি কিছু কিছু আবার খুব আকর্ষণীয় নয়।

খুব ছোটবেলায় গাড়ি ভাড়া হত, সারাদিন হত ঘোরাঘুরি, সাথে থাকত বাড়ির বড়রা, রেস্টুরেন্টে মোগলাই-ও মনে পড়ে।
একটু বড় হতে বন্ধুদের সাথে হেঁটে ঘোরা, কল্লোলিনীকে চেনার সেই শুরু, নিজের মতো করে, ভীষণ ভিতর থেকে, গভীরভাবে। রাতের শহরকে মায়াবী হতে দেখাও শুরু হল, কখনও গাড়ির কাঁচের ভিতর থেকে, কখনও অচেনা টেম্পোর পিছনে খোলা, দমকা হাওয়ায়।

পরে নরম হাত ধরে ঘুরেছি, তখন এক অদ্ভূত দায়িত্ববোধ যেমন অনুভব করেছি, তেমনি প্রচুর মানুষের ভিড়ে ঘনিষ্ঠতার পরশ এক অন্যরকম ভাল লাগা দিয়েছে।

কিন্তু এসবের মাঝেও, আমার কাছে যা সব থেকে প্রিয়, সেটা ওই মেঠো গন্ধের, আপাত জাঁকজমকহীন আড়ম্বরটাই। কিছু খারাপ মুহূর্ত থাকলেও, আন্তরিকতা আর একাকীত্বের মিশেলে, এই অনুভূতি বোধ হয় তুলনারহিত।

একটা বিকেলের বৈঠকি-সম আড্ডা, মায়ের সাথে মামার আর আমার গান, রাতে বড়দের তাস খেলা, এবং পরের বছরগুলিতে আমাদের ধীরে ধীরে সেখানে যোগদান, অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে আলোর মণ্ডপে পৌঁছানো, দুপুরে সকলে একসাথে টেবিলে কতকটা এলাহী খাওয়াদাওয়া, অন্য গ্রামে ভ্যানে করে যাওয়া, আর যাওয়ার মাঝে জোনাকির আওয়াজের সাথে জেনেরেটরের শব্দের এক অম্লমধুর মেলবন্ধন - নাহ, আমার কাছে আনন্দ এই, তার গন্ধও এই ।
আমার জীবনে পুজো হয়ত বড় কিছু নয়, কিন্তু তার এই গন্ধগুলো, এই খুব সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো, তার সাথে জড়িয়ে থাকা মুহূর্তের আনন্দগুলো, এগুলোই হয়ত বলে যায়,

...
...
...

ফিরতে আমাকে হবেই।

মহালয়াটা কি টেকনিক্যালিটি মেনে নিয়ে আজ সন্ধ্যেবেলা এখন চালানো উচিত নাকি মনের শান্তনায় কাল ভোরে ? যদিও ওই কন্ঠ্যে যে কোনো সময়ই, যে কোনো জায়গায় শরৎ আর পুজোর আবির্ভাব হতে পারে...

Tuesday, September 13, 2016

বস্টনের সংগীত - Boston's Music

প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় মঙ্গলবার Cafe ৯৩৯ বলে একটা জায়গায় গায়ক-গীতিকার-সন্ধ্যা-জাতীয় একটা অনুষ্ঠান হয়, Berklee College of Music-এর উদ্যোগে। একজন faculty member থাকেন আর তাকে ঘিরে ৪-৫ জন ছাত্র। সকলেই গায়ক-গীতিকার-এবং-musician. কেউ বাজাচ্ছেন acoustic guitar, কেউ কীবোর্ড, কেউ হয়তো চেলো, কেউ বা বেস গীটার। একটা আলো আঁধারি পরিবেশ; নীল, লাল মৃদু আলো ঘরের বিভিন্ন দিকে জ্বলছে। musician-দের ঘিরে শ্রোতারা বসে আছে বা দাঁড়িয়ে আছে সারা ঘর জুড়ে।

মূলত blues, jazz, american folk ধরণের গান-বাজনা, unplugged এবং acoustic. শুধু যে সুরে সারা ঘরটা ভেসে যাচ্ছিলো তা নয়, কথাগুলোও যে খুব ভিতর থেকে আসা, তা বোঝা যাচ্ছিল। কিছু গান যেমন প্রেম এবং তার চলে যাওয়া নিয়ে, কিছু গান তেমনি সারা বিশ্বে মিলিটারি বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। কান এবং মন দুটোরই যেন একসাথে শ্রান্ত ও সিক্ত হওয়া।

এখানের university join করার কথা যখন চিন্তা করছি, তখন বিভিন্ন জায়গার options-এর মধ্যে বেছে নিতে হতো। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, Berklee College of Music-এর এখানে থাকাটা একটা ছোট্ট factor ছিল। শুধু জ্ঞান এবং বিজ্ঞান নয়, গানবাজনারও ভীষণভাবে শহর এটা। যখন প্রোগ্রামটা শুনে বেরোচ্ছি, রাস্তায় হাঁটার সময় অসংখ্য মানুষকে কোনো না কোনো একটা musical instrument নিয়ে যেতে দেখছিলাম। এর পরে যদি কোনোদিন এই শহরটারও প্রেমে পড়ে যাই, মনে থাকে যেন, যে তার শুরুটা এই দিনেই হয়েছিল।

Thursday, September 08, 2016

প্রত্যয় - Determination

Boston, 8-Sep-2016, 11:19 PM

একটা বিদ্যুৎ বয়ে গেলো
হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে। 
মুহূর্তগুলো কেটে যাচ্ছিল,
অথচ মনে হচ্ছিলো, কেন যাচ্ছে ?
জানি, সময় থমকায় না,
কিন্তু বেগ তো কমাতে পারে।

প্রযুক্তির এই মহাবিস্ফোরণে,
বাস্তব কি একটু হোঁচট খায় না, 
তারও কি ইচ্ছে করে না
একটু জিরিয়ে, আলো-রূপ মাখার ?

এই জন্যেই লোকের অভিযোগ 
বাস্তবের পাষাণস্বরূপ মন নিয়ে।

কিন্তু চারিদিকে কোথাও যেন
অতীতও লুকোচুরি খেলছে।

আর তখনই উধাও হল 
হৃদয়ের সেই অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ,
মনের মধ্যে ফেনিয়ে উঠলো
ভয়ের বড় বড় স্রোত।

সুন্দরের আকর্ষণের মায়া,
তার কাছে যাওয়ার ভয়ের কাছে তুচ্ছ।
এর থেকে বরং 
জীবন যেমন নৌকা হয়েছে,
কিন্তু তার মাঝি নেই,
তেমনই বয়ে যাক। 
নদীর পার দেখতে দেখতে
নৌকো হয়তো কোনোদিন 
সমুদ্রে পৌঁছবে 
সমস্ত উপনদী এড়িয়ে।

আর যদি তা না হয়,
তবে কোনো চরা পড়ে যাওয়া দ্বীপে 
পুরোনো বালিরাশির সাথে মিশে
পৃথিবীর বুকেই ফিরে যাবে।

Saturday, August 27, 2016

ম্রিয়মান পেন - Melancholic Pen

নীল স্রোতে ভেসে যাওয়ার রোমাঞ্চকতা ছেড়ে,
কিছু মুহূর্তের বাস্তবতায় পা-রাখা। 
সাদা-কালো গন্ডি পেরিয়ে
ওপারে যাওয়ার রাস্তাটা দেখতে পাওয়া যায়। 
অ্যাবি রোডের অনেকটা ভেঙে চলে যেতে হয়। 
সেখানেই তো মনে হয় "যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো" ।
ক্রমশ মুছে যাওয়া মুহূর্তগুলোর গ্লানিময় হাতছানি,
কিভাবে যেন টেনে রাখে, জাপ্টে ধরে কোনো ঘূর্ণিপাকে।
বেরিয়ে এসেও কোনো নীল স্রোতে রাস্তাটা ভেসে যায়।
সাদা-কালো গন্ডীগুলো যে জলের নিচে অদৃশ্য এখন।
তবু নীল স্রোতের তোড়ে বয়ে যাওয়া যায় না।
সূর্যের হলদেটে আভায় সব জল-ই বাস্প হয়,
পড়ে থাকে এক ম্রিয়মান পেন।

Thursday, June 16, 2016

প্রাক্তন - Praktan - Movie Opinion

প্রথমে খারাপের কথা বলবো। খুব প্রচলিত এক ঘটনা। আপনার আমার সবার জানা চিত্রনাট্য। তাও সিনেমাটি যতক্ষণ ঘটনাকেন্দ্রিক ছিল, ততক্ষন মানা যাচ্ছিলো। কিন্তু সিনেমাটি যখনই conclusion-এর দিকে এগোতে থাকলো, যখনই একটি মেসেজ-দেওয়া-ধর্মী ছবি হওয়ার চেষ্টা করলো, তখন থেকেই প্রচন্ড বিরক্তিকর হওয়া শুরু হলো।

ঋতুপর্ণা-এবং-প্রসেনজিৎ-এর সংসার ভেঙে যায় কারণ প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার চাকরি-করা, উদারপন্থী মনোভাব মেনে নিতে না পারায়। যদিও ঋতুপর্ণা বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করে যায় সংসার টিকিয়ে রাখার, প্রসেনজিৎ-এর মনোভাবের সামান্য উন্নতি ঘটানোর। কিন্তু প্রসেনজিৎ একজন টিপিক্যাল Indian পুরুষতান্ত্রিক সমাজের product. তিনি Indian double standard-এরও সার্থক নিদর্শন। নারী স্বাধীনতার কথা বলে "স্বাধীনতা" ভুলে যান। অবশ্যই ঋতুপর্ণারও ভুল-ত্রুটি ছিল সংসার না করতে পারার জন্য। কিন্তু সে অনেক চেষ্টা করছিলো সম্পর্ক মেরামতের। সেখানে প্রসেনজিতের কোনো চেষ্টাই ছিল না, বরং expectation ছিল যে প্রচেষ্টা-টা অন্য তরফ থেকেই হবে।

এই পর্যন্ত সব ঠিক-ই ছিল, কারণ এগুলো স্রেফ ঘটনা, মানুষ এরকম হতেই পারেন। মুশকিল হলো যখন ঋতুপর্ণা প্রসেনজিতের বর্তমান স্ত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে দেখে introspection করতে আরম্ভ করলো। এতো strong একটি character, কিন্তু ঐ বর্তমান স্ত্রীর সামনে পড়ে কেমন weak থেকে weaker হতে শুরু করলো। এবং শেষ অব্দি কান্নাকাটি করে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলো, যেন প্রাক্তন সম্পর্কে সেই ভুল করেছে। সিনেমাটির এই aspect-টি-ই প্রচন্ড বিরক্তিকর।

ঋতুপর্ণা একজন independent, strong কিন্তু মানিয়ে নিতে জানা মেয়ে। আর অপরাজিতা সেখানে টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত মেন্টালিটি-এর বাঙালি মেয়ে। হ্যাঁ, এখানে আমি stereotype করছি কারণ "প্রাক্তন"-এর সাফল্য প্রমাণ করে এই টিপিক্যাল মেয়ের মনোভাব কতটা prevalent ভারত ও বঙ্গে। অপরাজিতা আপাতভাবে স্বাধীনচেতা। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে সংসারের জন্য তার একদম নিজের আকাঙ্খা বলে কিছু রাখা যাবে না। তার ইচ্ছেগুলো যেন একদম সংসারের আকাঙ্খার সমার্থক হয়। তিনি চাকরি করতেন আগে, কিন্তু সুযোগ পেয়ে, ঘরে বসে, স্বামীর আয়ে, স্বামীর উন্নতিতে খেয়ে, সংসার করতে তার দ্বিধা নেই। তার নিজের talent-কে বিসর্জন দিতে তিনি কুন্ঠা বোধ করেন না। তার নিজের কোনো initiative নেই। এই হচ্ছে সেইসব mentality থেকে আসা মেয়ে যারা feminism-এর কথা নিয়ে চিৎকার জুড়তে পারেন, কিন্তু রেস্তোরাঁয় date-এ গেলে, expect করেন যে ছেলেটি-ই তার wallet বের করবে।

আর প্রসেনজিতের conclusion-গুলো আরো বিরক্তিকর। তিনি বলছেন তিনি ভালো মানুষ হয়ে গেছেন অপরাজিতাকে পেয়ে। আদপেই তা নয়। তিনি তার মনের মতন ঘরে সাজানো পুতুল পেয়ে গেছেন, তাই তিনি খুশি। এখানে তার দৃষ্টিভঙ্গি কোথায় কি বদলালো, প্রাক্তন সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার পর, তিনি কি শিক্ষা পেলেন - সেটা কেউ জানেনা।

খুব অপ্রত্যাশিত আবার একদিক থেকে প্রত্যাশিত-ও বটে, যে প্রচুর মানুষ সিনেমাটি দেখছেন এবং বলছেন যে তারা relate করতে পারছেন। এটা যদি প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা নামক একটি পপুলিস্ট জুটির ফিরে আসার হুজুগে হয় তাহলে ঠিক আছে, নাহলে মানে দাড়াঁবে, আমরা এখনো সেই male-dominated একটা চিন্তা ভাবনা খুব গভীরে পোষণ করে চলেছি। সব থেকে আগে যেটা দরকার যে মেয়েদের এই চিন্তাভাবনার এক আমূল বদল। এতো এতো উজ্জ্বল উদাহরণের পরেও কেন তারা এই চিন্তা থেকে বেরোতে পারছেন না, সেটা বড় কোনো বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন।

এবার কিছু ভালো কথা বলা যাক। গায়কদের include করাটা খুব পছন্দের। তাছাড়া সমগ্র মুভির sub-plot-গুলোকে "প্রাক্তন" দিয়ে বাঁধাটা বেশ। যদিও সেই প্রাক্তন ভাবনাটা মনের ভিতর আনাটা দর্শকের responsibility. গানগুলো নিয়ে আমার কিছু বলা উচিত না। অনিন্দ্য, অনুপম আমার প্রিয় এবং পছন্দের genre-এর শিল্পী, সেই জন্যে। অভিনয়ে সকলেই ভালো, ঋতুপর্ণাকে বেশি ভাল লেগেছে। Script ভালো, বোধ হয় একটু বেটার করা যেত।

শেষে বলি. নন্দিতা-শিবপ্রসাদের একটা ছোট্ট তারিফ করতে হয় তাদের বাঙালি মনন বোঝার জন্য (এই একই কারণে আমি মমতা ব্যানার্জীকেও ক্রেডিট দিই)। গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে কমার্শিয়াল আর প্যারালেল সিনেমার মাঝে একটা sweet spot ধরে রাখতে চেয়েছেন, সেটা প্রশংসনীয়। মুশকিল হলো সেটা ধরে রাখতে গিয়ে এবং একটা message-দেওয়া জাতীয় সিনেমা বানাতে গিয়ে, সিনেমাগুলি কত-টা ভালো হচ্ছে, তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে, আমার মনে হয়। Personally, ইচ্ছে এবং (সামান্য কিছুটা) অলীক সুখ বাদে বাকি কোনো সিনেমা-ই বেশ ভালো কিছু নয়। ওনারা খুব safe একটা territory-তে খেলছেন। ইচ্ছের মধ্যে যে boldness, যে honesty, যে complication-কে ধরার subtle প্রয়াস ছিল, সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বেলাশেষে-তে সেটা ফিরে পাওয়ার কিছুটা আশা পেলেও "প্রাক্তন" সেটাকে প্রায় শেষ করলো। আমার মনে হয় ওনারা অন্য একটি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছেন। বাংলা ছবির সবচেয়ে খারাপ যে লেভেলটি, ওনারা বোধ হয় সেটিকে উন্নত করতে চাইছেন, যাতে at least কপি-করা, সাবস্টেন্স না-থাকা সিনেমা গুলো, সব থেকে খারাপ ছবি না হয়। সেদিক থেকে প্রয়াস-টা খারাপ না।

Sunday, April 03, 2016

ভুলে যাওয়ার তরী - The boat of forgetting

এডমন্টন, এপ্রিল ৩; ১:১৭ এ.এম

আমায় তুমি ভুলিয়ে দেবে নীলচে ডাঙার কাছে,
নেই কোনো আর নতুন চাওয়া তোমার, আমার কাছে।

যে স্বপ্ন দেখেছিলেম তোমায় আমায় মিলে,
আজ যেন তা ভীষণ ফাঁকা, তুমি গেছো চলে।

যাও, তোমার যাওয়ারই ছিল, কোনো না কোনদিন,
একলা জীবন বাইব আমি, তরী সঙ্গীহীন।

তুমি থাকবে কল্পনাতেই, যেমন ছিলে আগে,
মাঝে-সাঝে পড়বে মনে, যখন ভালো লাগে।