Showing posts with label social_affairs. Show all posts
Showing posts with label social_affairs. Show all posts

Sunday, May 18, 2025

পশ্চিমবঙ্গের "অরাজনৈতিক" ধর্মীয় ভাঁড়ামো

এই বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ অব্দি, প্রায় দেড়মাস, বাড়িতে ছিলাম। প্রচুর বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা হল, বেশ অনেকটা সময় নিয়ে সবার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে আড্ডা হল। আত্মীয়স্বজনদের সাথে গল্প করে সময় কাটলো, অনেকের বাড়ি গেলাম, বেশিরভাগেরই যাওয়া হল না। প্রচুর খাওয়া দাওয়া হল, বেশি করে বিরিয়ানি, কারণ এর মাঝে বেশ অনেকদিন দেশে ফেরা হয়নি। একদিন আরশিকে নিয়ে বইমেলায়ও গেছিলাম। সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যে বইটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা পেয়েও গেলাম। যদিও আমাদের বাংলায় বই পড়ার লোকের সংখ্যা এখন খুব কম। কেউ আলোচনাও করে না বই নিয়ে। অথবা কেউ নিজের কাজকর্ম নিয়েও খুব একটা কথা বলে না। মাইনে বা রিমোট ওয়ার্ক কিনা - কাজের কথা বলতে ওটুকুই। তবে তাই বলে কথা বলার বিষয়ের অভাব নেই।


খাওয়া দাওয়া চিরকালই অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল আমাদের কথাবার্তায়। সাথে ছিল রাজনীতি, সেটা নিয়ে এখন আর কারোর বোধ হয় বিশেষ কিছু বলার নেই। তাই কথা বলার বিষয়ের একটা অভাব ছিল, সেটা অচিরেই পূরণ করে দিয়েছে নতুন করে আলোচ্য এক বিষয় - ধর্ম। দুর্গাপুজো ছাড়া কোনো ধার্মিক অনুষ্ঠান বা ঘটনা নিয়ে বাঙালির এতো আলোচনা হতে, এর আগে দেখিনি বা শুনিনি, যা দেখলাম এবারের কুম্ভ মেলা নিয়ে। দুর্গাপুজোকে তো বাংলায় ধার্মিক অনুষ্ঠান বলাও যায়না, সর্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠান এটা - সুতরাং বলাই যায়, কোনো ধার্মিক অনুষ্ঠান নিয়ে এই প্রথম এরকম একটা পাগলামি দেখলাম। সব থেকে আশ্চর্যের, এই আদ্যন্ত ভাঁড়ামোটা নিয়ে বড় থেকে ছোট সকলে সিরিয়াস আলোচনা করছে। মানে কুম্ভের মানে কি, মহা-ছোট-মেজ কুম্ভের কোনটা কত বছর পর আসে, কত বার মাথায় জল ঢালতে হয় - এসব কিছু। আগে এসব আলোচনায় কেউ কিছু একটা বলে ব্যাপারটা খিল্লি করে দিতো, এখন আর সেসবের ব্যাপার নেই।


এই কুম্ভের আলোচনা ছাড়া, চাকরি কাজকর্ম ভবিষ্যৎ - এসব নিয়ে একটা অসম্ভব আত্মবিশ্বাস সকলের মধ্যে আছে যে - বাংলায় কোনো কিচ্ছু হওয়া সম্ভব নয়। হয় অন্য রাজ্য, নতুবা সুযোগ বা সংস্থান থাকলে বিদেশ। যেটা আগেই অন্য একটা লেখায় বলেছি যে - মনে মনে বেশিরভাগ বাঙালি অনেক আগেই রাজ্যত্যাগ করেছেন, দেহটা পড়ে আছে কোনো একটা পিছুটানের জন্য। সেই বাঙালি এখন আবার ধর্ম নিয়ে আচ্ছন্ন - আমরা সোজা একেবারে পিছনে দিকে ছুটছি, বিংশ শতাব্দীরও আগে চলে যাচ্ছি। আধুনিক বাংলার এই যে সামাজিক ভিত্তি একদম গোড়া থেকে বদলে গেছে, এটাই মমতা ব্যানার্জির সব থেকে বড় লেগাসি হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যে কোনো সমাজবিজ্ঞানের ক্লাসের বিষয় হবে পশ্চিমবঙ্গের ২০০৮ পরবর্তী সময়। এই সময় দেখিয়ে দেয় যে, কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নতিকে পিছনে ফেলে রাখলে, ধর্মান্ধতা যেকোনো জাতিকে, তা সে যতই সংস্কৃতি বা বিজ্ঞান-মনস্ক হোক না কেন, গ্রাস করতে পারে।


লেখার এই অংশে একটা "নবারুণ" কোট করাই যেতে পারে, "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়" ইত্যাদি, বহুদিন বাইরে থাকি বলে অযাচিতও লাগবে না, কিন্তু সেটা খুব ধূর্ত পলায়ন হয়ে যাবে। বরং বলব, এইটাই আমার দেশ। আমি আগে যে বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়দের কথা বলছিলাম, তাঁদের প্রতিচ্ছবিতেই দেখছি আজকের বাংলাকে। কিন্তু তার মাঝে থেকেই বলতে হবে, কুম্ভ মেলা আর দীঘার মন্দির একটা বড়সড় ভাঁওতা আর খিল্লি। বিজেপি ও তৃণমূলের নেতারা এখন এই ধর্মের রাজনীতিটি চালাচ্ছেন। এতে হয়তো অনেকের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু যখন তাঁরা গত ১৫ বছর ধরে "অরাজনীতি" আর "লেসার ইভিল"-এর খেলা খেলে "এই দেশেতেই" থাকবেন বলছিলেন, তখন অনেক রাজনৈতিক কথাই তাঁদের পোষায়নি। তাঁদের এই অরাজনীতি করা থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপি/আর.এস.এস/হিন্দুত্ব সফরটা খুব ভালো করে দেখে আসছি। 


এখন তাঁদের বোঝা দরকার যে, তাঁদের ধর্মীয় কথাবার্তাই তাঁদের রাজনীতিকে প্রকাশ করছে। আর তাঁদের প্রত্যেকটা রাজনীতির বিরোধিতা, ভোটের হারজিত ব্যতিরেকে, বহুকাল আগে থেকেই আমার মতো অনেকেই করে আসছে। তাই রাজনৈতিক ময়দানের মতপার্থক্য মেনে নিয়েই তাঁদের সহাবস্থান করতে হবে। উপত্যকা মৃত্যুর হোক বা জীবনের, আমরা মৃত্যু অব্দি এখানেই আছি, ময়দানেই - সে আপনারা অরাজনৈতিক, তৃণমূল বা বিজেপি - যাই হোন না কেন।

Sunday, July 26, 2020

The Conundrum of Universal Healthcare and COVID-19

By now, there have been numerous articles and blog posts describing the necessity of universal healthcare (free healthcare for all) on the backdrop of COVID-19. The importance of a free healthcare system for everyone irrespective of their backgrounds has been emphasized enough and justifiably so. In the case of such highly infectious diseases like COVID-19, everyone in the society does need to be taken care of. The interesting point is that the countries with existing universal healthcare system was also badly affected by the Coronavirus. For example, Italy or France. Even the United Kingdom offers free healthcare as well, but it still got devastated by the pandemic. Then, it is a valid question whether universal healthcare could be the remedy for pandemics such as COVID-19.

Pandemics shock civilizations. It is supposed to do so. Before the detected outbreaks, a disease slowly spreads, and then it surprises the population by the extend of its proliferation. In such a situation, universal healthcare is a necessary tool for a government to take care of the whole population. However, it is not sufficient. No healthcare system could always be ready for the surge of patients amidst a pandemic, not even the best healthcare system in the world. We need something else.

The Magic Wand Failed
When an unprecedented event happens, we need to act with extraordinary measures and control that event. For example, if a pandemic such as the COVID-19 emerges, we need to mobilize our resources as fast as possible to protect the vulnerable citizens. We need to quickly contain the spread of the disease while we ensure that everyone in the society can continuously fulfill their basic needs. The pandemic demands such drastic sort of attention and mobilization. Well, this fact is pretty well-understood, and we are lucky because we have an excellent system on our hand which reacts to the urgent demand of our society by its "invisible hand". Hurrah, it is Market!

The holy book definition of market is that it caters to the demands and necessities of the public, and it is incredibly efficient. Unfortunately in reality, it turns out that the market is very insensitive to such human distress. The gatekeepers of the market are more insensitive than the market itself, quite ironically. 

With the expansion of COVID-19, the market and its gatekeeper governments were slower to react to the society's lifesaving demands, because the revenue and the other market metrics were more important. Although some countries had universal healthcare, their economic system was too much dependent on the market-based production system. When we needed our system to work for saving people's lives, it was busy figuring out the optimized time to lockdown the countries, so that the damage in GDP is less. We could not mobilize to produce enough PPEs for the doctors, enough ventilators for the patients, enough food supply for the starved. We have seen this from India to European "welfare nation-states" to United States of America to Brazil.

We Need No Magic Wand
At the height of COVID-19 near the end of March '20, when almost every country on Earth including the United States was panicked, President Trump had one of his highest approval ratings as the President of the United States. Modi in India was also enjoying great support by the Indians during the stressful time. The public really relied on the government, and was ready to adhere to its strong restrictions and policies.

The governments, however, failed the public. The United States initially denied the seriousness of the pandemic, and then dwindled on providing the essential supplies. The United Kingdom was not serious about necessary lockdown. The Indian government could not ramp up testing facilities during its own strict lockdown period. Hundreds of people died due to migration and starvation, but still "the curve" did not flatten. Many other countries followed similar abysmal strategies, barring a few. It is quite remarkable how the majority of the population sided with their own respective governments, irrespective of their ideological standpoints.

The governments just had to follow the scientists and listen to the epidemiologists and doctors. Most of the nation-states not only did the opposite, they also left the vulnerable population unprotected. At first, the United States issued massive multi-trillion dollars relief funds from its coffers, but only a tiny fraction went to the financially backward and medically challenged public. Most of the relief funds went to the big corporations, and the American households got a tiny one-time cash payment. Although it was a big step up from the usual trickle-down mentality of issuing all of the money to the top, the measures still fell really short of its true potential.

Such massive relief dollars and euros showed that the governments around the world are absolutely capable of empowering the needy, if they want. We do not need any magic wand of the "invisible hand" to help the public. We need properly planned financial ecosystem to distribute resources, especially on the face of a deadly pandemic. We have learnt this lesson after six horrific months of this lethal and global disaster. The question, however, in front of us is whether we will learn from our terrible experience and stop worshiping the sacred entity, "Market", which kills real people. Let's admit this - it is dysfunctional, insensitive and inhuman.

Friday, December 20, 2019

Internet blockade in Howrah

After three days of Internet blockade by the state -

It feels like times have figuratively gone back. It's not too bad, since people anyway like to reminisce nostalgic past. I'm back at my pre-secondary and -higher-secondary days, listening to Radio (See Sinchan and Ashish, Radio is important). The added bonus now is the lack of television, because we disconnected our TV cable a few years back, thinking too progressively at that point of time. It's an interesting time to live.

Some people are comparing the current situation with the situation under the Fuhrer. This kind of simplification sometimes dilutes the significance of the concerning situation, by exaggerating it too far. But, even if we agree that the recent days in India has similarity to the Third Reich, there is a stark difference.

When Hitler was building his torturous empire, the economy was actually on the rise. It was recovering from the disaster of the World War I. It was a fully state-sponsored development for the private enterprises, with heavy spending on military, motorways and other public infrastructures. It also improved the unemployment by a good margin. All these apparent economic progress helped the Nazi agenda of ethnic cleansing by showing a false development and promising a bright future to the German people. Finally, the tragedy of mass killings was carried out.

The amazing achievement of the Modi government is that it is able to propagate its extremist, religious, conservative propaganda, in spite of an ongoing economic recession. People are jobless; common food prices are going up; economy is going downturn for quite a while. However, people are more engrossed into the non-economic issues. They are conveniently confronted with new social concerns which had nothing much to do with fundamental progress or economic growth.

As we discover similarities of our current times to the Nazi state, we should also recognize the difference. As the old man said, "history repeats itself, first as tragedy, then as farce." We have possibly gone back, but with a new vigor of ignorance. We are living our own farce. The technological advancement helped it by both providing right information faster and also spreading misinformation quicker. But it is clear from the recent surge of protests all across India and some parts of the world that people ultimately sift through the garbage and side with progressive, humane cause. The state consequently abides by its mass.

Sunday, June 03, 2018

সংরক্ষণ বন্ধ করার আগে - Before abolishing caste-based Reservation

দীপক মন্ডল ক্লাসের মাঝারি মাপের ছাত্র। প্রথমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসে ভালো ফল করতে পারেনি। যদিও সংরক্ষণের সুবিধা অনুসারে তার চাকরি হয়ে যায়, কিন্তু সে কখনোই ওই সুবিধে নেয়নি। তাই অনেক খেটে, পড়াশোনা করে দ্বিতীয়বার আবার চাকরির পরীক্ষা দেয় এবং ভালো ফল করে। তারপর সরকারি দপ্তরে জেনারেল কোটাতেই তার চাকরি হয়। সরকারি চাকরি পাবার পর খুব খুশি ছিল দীপক। ভেবেছিল এবার সে সুলগ্নাকে বিয়ে করতে পারবে। সুলগ্না তার কলেজের প্রেম, সুলগ্না চক্রবর্তী। কিন্তু সুলগ্নার বাড়ি থেকে এই বিয়েতে রাজি হয় না। কারণ দীপক SC, আর সুলগ্নারা ব্রাহ্মণ। সুলগ্নার বিয়ে ঠিক হয় সপ্তর্ষি ভট্টাচার্যের সাথে। সুলগ্না দীপককে ভালোবাসলেও বাবা-মা-র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেতে পারেনি, সপ্তর্ষিকেই বিয়ে করে ও। সুলগ্না এখন ভালই আছে।

সুলগ্নার স্বামী সপ্তর্ষি একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করে। সেই ফার্মেরই রাইভাল ফার্মে দীপকের বন্ধু আলাউল কিছুদিন আগে অ্যাপ্লাই করেছিল। আলাউল অ্যাপ্লাই করার পরেও কল পায়নি ফার্মটা থেকে। দীপক জানত আলাউল-এর যা প্রোফাইল, অন্তত ইন্টারভিউর জন্য ওকে ডাকা উচিৎ। দীপকের অন্য কিছু বন্ধুও ওই একই ফার্মেই কাজ করতো। দীপক তাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আলাউল-এর শুধুমাত্র নামটা দেখেই নাকি ওকে বাছাই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছ।

আগে আপনারা দীপক মন্ডল আর সুলগ্না চক্রবর্তীর ভালোবাসার বিয়ে সুরক্ষিত করুন। আগে আলাউল ইসলামকে সমাজে প্রাপ্য সম্মান আর মর্যাদাটা দিন, তারপর না হয়, আমরা সরকারি ক্ষেত্রে ওদের সংরক্ষণ তোলার ব্যাপারে ভাববো।

আগে আমাদের রাজ্যের পার্টি, সরকার এবং অন্যান্য প্রভাবশালী জায়গায় দীপক মন্ডল আর আলাউল ইসলামদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক, আগে বুদ্ধদেব "ভট্টাচার্য", মমতা "ব্যানার্জী"-এর ব্রাহ্মণ্য এলিটিজম বন্ধ হোক, তারপর নয় সংরক্ষণে ঠিক কি কি সুবিধে SC/ST-রা বেশি পাচ্ছে, সেটা ভাবা যাবে।

Wednesday, June 21, 2017

লিঙ্গবৈষম্য এবং পাবলিক ট্রায়াল - Gender discrimination and public trials

যারা জানেন না বা miss করে গেছেন, তাদের জন্য দুটো সমান্তরাল ঘটনা জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। প্রথম, Uber নামক যে app-টা ব্যবহার করেন আপনারা, সেই Uber কোম্পানির CEO Travis Kalanick গতকাল resign করেছেন। দ্বিতীয়, TVF-নামক একটি বিখ্যাত ভারতীয় মিডিয়া কোম্পানি, যেটি ২৫ লক্ষ YouTube ফলোয়ার নিয়ে ভারতের প্রথমসারির ওয়েব-মিডিয়া চ্যানেল, সেই কোম্পানির CEO-ও কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেছেন। দুটি পদত্যাগেরই পিছনে আছে একই ধরণের ঘটনা।

কেন করলেন তারা পদত্যাগ? Susan Fowler নামের একজন IT-কর্মী Uber-এ কাজ করতেন। তিনি গত ১৯শে ফেব্রুয়ারী নিজের ওয়েবসাইটে একটি বিস্ফোরক লেখা লেখেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন যে, Uber কোম্পানিতে কাজের কালচার খুবই মহিলাবিরুদ্ধ। মানে মহিলাদের সহ্য করতে হয় তাদের বসের চোখরাঙানি। এছাড়াও মহিলাদের casual sexism-এর স্বীকার হতে হয়। এর পরই ভীষণ শোরগোল পড়ে যায় Uber এবং সিলিকন ভ্যালিতে। Susan-এর পরে আরো অন্যান্য মহিলারা (কেউ স্বনামে, কেউ নাম গোপন রেখে) একই অভিযোগ করেন Uber-এর কালচারের বিরুদ্ধে। এমনকি Uber-এর CEO এই কালচারকে nurture করেছেন, সেই অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। শেষ পর্যন্ত, কাল প্রায় ৪ মাস বাদে, Uber-এর CEO Travis পদত্যাগ করলেন।

TVF-এর ঘটনাও অনেকটা এরকমই। মার্চ মাস নাগাদ একটি মেয়ে তাঁর পরিচয় গোপন রেখে TVF-এর CEO অরুনাভ কুমারের দিকে sexual favor চাওয়ার অভিযোগ তোলেন। একটি ব্লগে তিনি তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপরে অনেকেই সেই অভিযোগের সমর্থনে এগিয়ে আসেন (স্বনামে এবং নাম গোপন রেখে)। Mumbai-এ FIR হয়, যদিও তার কোনো ফয়সালা হয়নি। কিন্তু অরুনাভ কিছুদিন আগে TVF-এর CEO পদ থেকে সরে গিয়েছেন।

এই দুটি ঘটনাতে যেটা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ, সেটা হল ওয়েব মিডিয়ার মাধ্যমে গোপন তথ্য বেরিয়ে আসা এবং তার বিপুল প্রচার পাওয়া। প্রচার পেতে টুইটার এবং ফেসবুক - দুটো মাধ্যমই প্রচুর সাহায্য করেছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে, মানুষের হাতে যে কি ভীষণ পরিমান ক্ষমতা এখন রয়েছে - তার একটা আভাস এই দুটো ঘটনা থেকে পাওয়া যায়। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, Uber এখন সারা বিশ্বের অন্যতম highest valuable start-up কোম্পানি। সেই কোম্পানির CEO-কে সরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতেও এখন থাকছে। তাই ইন্টারনেটের এই বিপুল সম্ভাবনা - প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের এক ভীষণ উজ্জ্বল দিক।

কিন্তু এর সাথেই থেকে যাচ্ছে একটি সংশয়ের প্রশ্ন। দুটি ঘটনার কোনোটাতেই, কোনো কোর্টে এই অভিযোগগুলোর বিচার হয়নি। ফলে যা হয়েছে, তা হল সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা, বিচার, সমালোচনা, এবং কোম্পানির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া - এইসব। তাই বোঝা যাচ্ছে, মানুষের হাতে বিপুল ক্ষমতা আসার ফলে এক বিশাল দায়িত্ত্বও এসে পড়ছে। যদিও এ কিছু নতুন কথা নয়। কিন্তু আবারো মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, আমাদের স্মার্টফোনগুলোর সাথে যতটা ক্ষমতা আমরা পকেটে নিয়ে ঘুরছি, আমরা যেন তাকে যথাযোগ্য দায়িত্ত্ব নিয়ে ব্যবহার করতে শিখি। নাহলে বিচার কিন্তু বড্ড বেশি একতরফা হতে শুরু করবে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নোট: এই লেখার পিছনের ভাবনা আমার নিজের নয়, বিভিন্ন ওয়েবমিডিয়া থেকে জড়ো করা। ভাষা আর বিস্তৃতি আমার।