Showing posts with label rajniti. Show all posts
Showing posts with label rajniti. Show all posts

Sunday, May 18, 2025

পশ্চিমবঙ্গের "অরাজনৈতিক" ধর্মীয় ভাঁড়ামো

এই বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ অব্দি, প্রায় দেড়মাস, বাড়িতে ছিলাম। প্রচুর বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা হল, বেশ অনেকটা সময় নিয়ে সবার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে আড্ডা হল। আত্মীয়স্বজনদের সাথে গল্প করে সময় কাটলো, অনেকের বাড়ি গেলাম, বেশিরভাগেরই যাওয়া হল না। প্রচুর খাওয়া দাওয়া হল, বেশি করে বিরিয়ানি, কারণ এর মাঝে বেশ অনেকদিন দেশে ফেরা হয়নি। একদিন আরশিকে নিয়ে বইমেলায়ও গেছিলাম। সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যে বইটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা পেয়েও গেলাম। যদিও আমাদের বাংলায় বই পড়ার লোকের সংখ্যা এখন খুব কম। কেউ আলোচনাও করে না বই নিয়ে। অথবা কেউ নিজের কাজকর্ম নিয়েও খুব একটা কথা বলে না। মাইনে বা রিমোট ওয়ার্ক কিনা - কাজের কথা বলতে ওটুকুই। তবে তাই বলে কথা বলার বিষয়ের অভাব নেই।


খাওয়া দাওয়া চিরকালই অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল আমাদের কথাবার্তায়। সাথে ছিল রাজনীতি, সেটা নিয়ে এখন আর কারোর বোধ হয় বিশেষ কিছু বলার নেই। তাই কথা বলার বিষয়ের একটা অভাব ছিল, সেটা অচিরেই পূরণ করে দিয়েছে নতুন করে আলোচ্য এক বিষয় - ধর্ম। দুর্গাপুজো ছাড়া কোনো ধার্মিক অনুষ্ঠান বা ঘটনা নিয়ে বাঙালির এতো আলোচনা হতে, এর আগে দেখিনি বা শুনিনি, যা দেখলাম এবারের কুম্ভ মেলা নিয়ে। দুর্গাপুজোকে তো বাংলায় ধার্মিক অনুষ্ঠান বলাও যায়না, সর্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠান এটা - সুতরাং বলাই যায়, কোনো ধার্মিক অনুষ্ঠান নিয়ে এই প্রথম এরকম একটা পাগলামি দেখলাম। সব থেকে আশ্চর্যের, এই আদ্যন্ত ভাঁড়ামোটা নিয়ে বড় থেকে ছোট সকলে সিরিয়াস আলোচনা করছে। মানে কুম্ভের মানে কি, মহা-ছোট-মেজ কুম্ভের কোনটা কত বছর পর আসে, কত বার মাথায় জল ঢালতে হয় - এসব কিছু। আগে এসব আলোচনায় কেউ কিছু একটা বলে ব্যাপারটা খিল্লি করে দিতো, এখন আর সেসবের ব্যাপার নেই।


এই কুম্ভের আলোচনা ছাড়া, চাকরি কাজকর্ম ভবিষ্যৎ - এসব নিয়ে একটা অসম্ভব আত্মবিশ্বাস সকলের মধ্যে আছে যে - বাংলায় কোনো কিচ্ছু হওয়া সম্ভব নয়। হয় অন্য রাজ্য, নতুবা সুযোগ বা সংস্থান থাকলে বিদেশ। যেটা আগেই অন্য একটা লেখায় বলেছি যে - মনে মনে বেশিরভাগ বাঙালি অনেক আগেই রাজ্যত্যাগ করেছেন, দেহটা পড়ে আছে কোনো একটা পিছুটানের জন্য। সেই বাঙালি এখন আবার ধর্ম নিয়ে আচ্ছন্ন - আমরা সোজা একেবারে পিছনে দিকে ছুটছি, বিংশ শতাব্দীরও আগে চলে যাচ্ছি। আধুনিক বাংলার এই যে সামাজিক ভিত্তি একদম গোড়া থেকে বদলে গেছে, এটাই মমতা ব্যানার্জির সব থেকে বড় লেগাসি হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যে কোনো সমাজবিজ্ঞানের ক্লাসের বিষয় হবে পশ্চিমবঙ্গের ২০০৮ পরবর্তী সময়। এই সময় দেখিয়ে দেয় যে, কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নতিকে পিছনে ফেলে রাখলে, ধর্মান্ধতা যেকোনো জাতিকে, তা সে যতই সংস্কৃতি বা বিজ্ঞান-মনস্ক হোক না কেন, গ্রাস করতে পারে।


লেখার এই অংশে একটা "নবারুণ" কোট করাই যেতে পারে, "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়" ইত্যাদি, বহুদিন বাইরে থাকি বলে অযাচিতও লাগবে না, কিন্তু সেটা খুব ধূর্ত পলায়ন হয়ে যাবে। বরং বলব, এইটাই আমার দেশ। আমি আগে যে বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়দের কথা বলছিলাম, তাঁদের প্রতিচ্ছবিতেই দেখছি আজকের বাংলাকে। কিন্তু তার মাঝে থেকেই বলতে হবে, কুম্ভ মেলা আর দীঘার মন্দির একটা বড়সড় ভাঁওতা আর খিল্লি। বিজেপি ও তৃণমূলের নেতারা এখন এই ধর্মের রাজনীতিটি চালাচ্ছেন। এতে হয়তো অনেকের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু যখন তাঁরা গত ১৫ বছর ধরে "অরাজনীতি" আর "লেসার ইভিল"-এর খেলা খেলে "এই দেশেতেই" থাকবেন বলছিলেন, তখন অনেক রাজনৈতিক কথাই তাঁদের পোষায়নি। তাঁদের এই অরাজনীতি করা থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপি/আর.এস.এস/হিন্দুত্ব সফরটা খুব ভালো করে দেখে আসছি। 


এখন তাঁদের বোঝা দরকার যে, তাঁদের ধর্মীয় কথাবার্তাই তাঁদের রাজনীতিকে প্রকাশ করছে। আর তাঁদের প্রত্যেকটা রাজনীতির বিরোধিতা, ভোটের হারজিত ব্যতিরেকে, বহুকাল আগে থেকেই আমার মতো অনেকেই করে আসছে। তাই রাজনৈতিক ময়দানের মতপার্থক্য মেনে নিয়েই তাঁদের সহাবস্থান করতে হবে। উপত্যকা মৃত্যুর হোক বা জীবনের, আমরা মৃত্যু অব্দি এখানেই আছি, ময়দানেই - সে আপনারা অরাজনৈতিক, তৃণমূল বা বিজেপি - যাই হোন না কেন।

Sunday, September 08, 2024

বাঙালি মধ্যবিত্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া | The Funeral of Bengali Middle Class

কয়েক মাস আগে পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী একটি অসম্ভব ভালো KCC Baithakkhana-র বক্তৃতায় বাঙালি মধ্যবিত্তের একটা আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস করেছেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়কে আরেকটু বিস্তার করলে পশ্চিমবঙ্গের এখনকার দুরবস্থা ও ভয়াবহ ভবিষ্যৎকে খানিকটা দেখা যায়। শ্রেণীচরিত্র অনুযায়ী বাঙালি মধ্যবিত্ত বেশ ছোট একটি সমষ্টি হলেও, বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তাঁদের প্রভাব এবং দখলদারি অনস্বীকার্য। অথচ এখন যে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীটি পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করে, তাঁরা যে সবদিক থেকে বেশ কোণঠাসা সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।


একদিকে, গত ১০-১২ বছর ধরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটা বড় অংশ চাকরির তেমন কোনো সুযোগ পশ্চিমবঙ্গে পায় না। প্রাইভেট সেক্টরের অনুপস্থিতি এবং সরকারি চাকরিতে ঘুষ-সর্বস্ব পরিস্থিতি মধ্যবিত্তের জন্য কিছু রাখেনি। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে তাঁরা জীবন-জীবিকার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ক্রমাগত বাইরে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলা মৌলিক গানের যে পরিসর এমনকি আগের দশকের প্রথমার্ধেও ছিল, তা বিলুপ্তপ্রায়। শুধুমাত্র বাংলা ছায়াছবির গানেই বাংলা সঙ্গীত ও বাণিজ্য সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাংলা সিনেমার কথা যত না বলা যায়, ততই ভালো। কয়েকটি ভালো সিনেমা ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে সফল অথবা বুদ্ধিদীপ্ত সিনেমা বাংলায় দেখা যায়না। 

মধ্যবিত্ত বাঙালির অন্যতম ইন্টারেস্টের জায়গা ছিল পলিটিক্স। মধ্যবিত্তের একটা বিশ্বাস অন্তত ছিল যে, তাঁদের মানসিকতা দিয়ে বাংলার রাজনীতির বিন্যাস হয়। সিপিএম-এর আপাত মধ্যবিত্তপ্রীতি, ভদ্রতার আভরণ, জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেববাবুর পরিশিলীত ভাষ্য - এসব কিছুই বাঙালি মধ্যবিত্তকে মনে করাতো যে রাজনীতির জল যতই ঘোলা হোক, তাঁদের একটা নিয়ন্ত্রণ এবং বক্তব্য আছে এই রাজনীতিতে। তৃণমূলের জামানায় সেই মধ্যবিত্তই আস্তে আস্তে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখেছে, দেখেছে কিভাবে গুন্ডামি ও দুর্নীতিই হয়ে উঠেছে রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য। আজকের রাজনীতি ও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তাঁদের যে কোনো যোগাযোগই নেই, তাঁরা তা বিলক্ষণ জানে। সবসময় হয়তো মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেনা রাজনীতিরই বাধ্যবাধকতায়, কিন্তু তাঁদের নিরুপায় হাত-পা-বাঁধা অবস্থা তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী।


এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, পশ্চিমবঙ্গের, এবং বিশেষত বাঙালি মধ্যবিত্তের, এই অবস্থার দায় কার। অবশ্যই তাঁদের নিজেদেরই, কিন্তু চিত্রটা আর একটু জটিল। তৃণমূলের সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর বাঙালি মধ্যবিত্তর দায়িত্ব ছিল পরের নির্বাচনেই তাঁদের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার যে, সরকার এবং প্রশাসন কেমন চলছে, তাঁর দুর্নীতি এবং নীতির সমস্যা নিয়ে। অথচ সে তখন এতটাই ট্রমাটাইজড এবং আলসেমির ঘুম দিতে ব্যস্ত যে, সারদা-নারদার মতো কেলেঙ্কারির দিকে তাকাতে চায়নি। পরবর্তীকালে সিন্ডিকেট, সরকারি চাকরির বিক্রিবাটা, স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, পরের পর ছাত্রমৃত্যু - এসব কিছুই সে শুধুই বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির খাতিরে উপেক্ষা করে গেছে। এদিকে তৃণমূল তার নীতির ভিতকে, মানে দুর্নীতিকে, মজবুত করে গেছে। বাঙালি মধ্যবিত্তের এই রাজনৈতিক উদাসীনতা কিন্তু একটি সামান্য ভুল ভাবলে ভুল হবে, এটা তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত। 


তৃণমূল সরকারের প্রথম দিকেই পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ কি হতে চলেছে তার আভাস পাওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু ততদিনে প্রান্তিক এবং সংখ্যালঘু মানুষ তৃণমূলের দলদাসে পরিণত। মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে তখন বাংলার এই সঙ্কট অপরিষ্কার হলেও কিছুটা অনুমেয়, কিন্তু সে এই সঙ্কট নিজের মনে করে গায়ে মাখেনি। কারণ মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ কখনোই পশ্চিমবঙ্গের ওপর বিশেষ কোনো "বাজি" রাখেনি। ইন্দ্রনীল তাঁর বক্তৃতায় একটি অসাধারণ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন, "বাঙালির গর্ব ছিল, স্টেক ছিল না", বিশেষত মধ্যবিত্তের। আমরা একটু গভীরভাবে বাঙালির মধ্যবিত্তের দিকে দেখলে বুঝতে পারবো, তাঁদের একটা বড় অংশ কলকাতার নিজের লোক নয়, তাঁরা পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। তাঁরা কলকাতাকে নিজের করে নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের বাবা-মা-ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছে শুনেছেন সব কিছু ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে আসার কাহিনী। ফলে তাঁদের কাছে আরো একটি জায়গায় রিলোকেট করে যাওয়ার চিত্র অপরিচিত নয়। তাই অশনি সঙ্কেত দেখে, এই দলের মধ্যবিত্ত বাঙালির (যাদের বাঙাল বলা হয়) কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে যেতে নস্টালজিয়া আর দুঃখ হয় ঠিকই, কিন্তু সময়ের দাবিতে তারা সেটা করতে প্রস্তুত। এই মধ্যবিত্তের কিছু অংশ পশ্চিমবঙ্গে থাকে ঠিকই, কিন্তু তাঁরা সুযোগ পেলেই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়বেন। কোনো বাধ্যবাধকতা আছে বলেই পশ্চিমবঙ্গে আছেন। প্রকৃতপক্ষে হাতে গোনা কিছু মধ্যবিত্ত ছাড়া প্রায় কেউ তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গে কল্পনা করতে পারেন বলে মনে হয়না। 

পড়ে রইলো কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাইরের মধ্যবিত্ত - এই শ্রেণী বহুকাল আগে থেকেই হয় কলকাতায় ও মধ্যপ্রাচ্যে অথবা দিল্লি ও কেরলে কাজের সূত্রে যেতে অভ্যস্ত। চাষের কাজে লভ্যাংশ কমার সময় থেকেই, মানে ভূমি সংস্কার সফলতা পাওয়ার পর পরই, এরাও যাযাবর। তাই এদেরও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বাজি যৎসামান্যই। আর বাঙালি শিল্পীকুলের কথা না বললেও চলে, কারণ বাঙালি শিল্পীরা মুম্বইতে বহুকাল আগে থেকেই স্বচ্ছন্দ, তাই সময় আসলে তারাও পাততাড়ি গুটোতে প্রস্তুত।


এই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও যে মধ্যবিত্ত দ্বারা নির্ধারিত নয়, সেটাই স্বাভাবিক। আর প্রান্তিক মানুষেরা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে তৃণমূল নিয়ে তিতিবিরক্ত হলেও, আর কোনো সুযোগ দেখেন না। তাঁদের বেঁচে থাকার সম্বলও তৃণমূলের লোকাল দাদাদিদিরা। যদিও পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্র যে দুর্নীতির গভীর বাসা - তা সকলের জানা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তার বিপক্ষে বাঙালি মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া বারণ - কারণ আগেই বলেছি, তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে কোনো স্টেক নেই। তাঁরা বহুদিনই পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করেছেন, এবং যারা সশরীরেও ওখানে আছেন, তাঁদের সেটা নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নয়, তাঁরা সেটা নিজেদের অসহায় পরিণতি বলেই মনে করেন। এমতাবস্থায় কতিপয় মধ্যবিত্তের এক শেষ আর্তনাদ এই জুনিয়র ডাক্তার মৃত্যু ও "তিলোত্তমা"র আন্দোলন। এটা ঠিকই যে এই আন্দোলন সর্বাত্মক এবং বিশাল আকার ধারণ করেছে, কিন্তু এর রাজনৈতিক দিশাহীনতা বাঙালির ভীত, সন্ত্রস্ত ও বাজি-না-রাখা মনোভাবেরই বাহ্যিক রূপ। তাছাড়া প্রান্তিক মানুষ ইতিমধ্যে তৃণমূলের যে অত্যাচার দৈনন্দিন জীবনে সহ্য করেছে এবং করে চলেছে, তার তুলনায় এই মৃত্যু ও দুর্নীতি কিছুই নয়। আজকে ডাক্তারদের মতো উচ্চ শ্রেণীতে বাঘ পড়েছে বলে উপর থেকে আন্দোলনের চাপ এসেছে ঠিকই - কিন্তু সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক কোনো ক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না। এরপর এই আন্দোলন মধ্যবিত্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আর শবদেহ যাত্রায় পরিণত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এরকম পরিণতিতে যদি মনখারাপ করে, তাহলে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা বা বিহারের মতো মূলত গান-গল্প-হীন দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার আখড়ার দিকে তাকালে খানিকটা ধাতস্থ হওয়া যাবে।

Saturday, June 25, 2022

Abortion Ban in the USA

সালটা ১৯৯১, সারা বিশ্বের টালমাটাল ছাড়িয়ে এক অভ্যন্তরীণ সমস্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল আমেরিকা। গতকাল যে আমেরিকায় কেন্দ্রীয় স্তরে গর্ভপাত বা abortion ব্যান করা হল, সেই ঘটনার সাথে ১৯৯১-এর এই সমস্যার একটা যোগসূত্র আছে। ১৯৯১ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ (সিনিয়র) মনোনীত করলেন Clarence Thomas-কে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি হিসেবে। মনোনয়নের পর্যালোচনা যখন চলছে, তখনই এক বিস্ফোরক তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হল। ক্ল্যারেন্স-এর বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনলেন ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক অনিতা হিল। এই অভিযোগ সারা আমেরিকাকে তোলপাড় করে দিয়েছিল এবং প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

অনিতা যে সব অভিযোগ প্রকাশ্যে, সেনেট হাউসে লাইভ টেলিকাস্ট-এ বলছিলেন, তা সেই সময়ে কেউ বলার কথা ভাবতে পারতো না। এই ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পরে MeToo মুভমেন্ট হয়েছে। তাই সেই সময়ে একজন মহিলা যৌন নিগ্রহের কথা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, সেটা আমেরিকার ঘরের অন্দরে শোরগোল ফেলেছিল। আর এই অভিযোগ যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের সদ্য মনোনীত একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে, তাই এর গুরুত্বও ছিল বেশি। এর সাথে অনিতা এবং ক্ল্যারেন্স দুজনেই কৃষ্ণাঙ্গ, তাই নিয়েও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, যে কাকে সমর্থন করা উচিত।

আমেরিকার সাংসদরা অনিতা হিলের কথা বিশ্বাস করেননি। অন্য দু-একজন একই অভিযোগ করলেও, ক্ল্যারেন্সকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া থেকে আটকানো যায়নি। সাংসদরা ক্ল্যারেন্স-এর মনোনয়নে সিলমোহর দেন ১৯৯১ সালেই, এবং তিনি বিচারপতি হন আমেরিকার সর্বোচ্চ কোর্টের।

সেই ক্ল্যারেন্স গত ৩১ বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং আমেরিকার ইতিহাসে সব থেকে বেশি সময় ধরে বহাল থাকা বিচারপতি। এখন যে ছয়জন বিচারপতির রায়ে আমেরিকাতে গর্ভপাত ব্যান হয়ে গেল, তার মধ্যে অন্যতম হলেন ক্ল্যারেন্স। ক্ল্যারেন্স এও বলেছেন যে সমলিঙ্গের বিবাহ, গর্ভনিরোধের ব্যবহার, এই সব বিষয়েও পরবর্তীকালে চিন্তা ভাবনা হওয়া দরকার এবং প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা দরকার। সুপ্রিম কোর্টে ক্ল্যারেন্স-এর সাথে আছেন পাঁচজন অন্য বিচারপতি, যারা প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট দ্বারা। তাঁদের তিনজন তো ট্রাম্পের মনোনয়নেই নির্বাচিত। এরা প্রত্যেকেই গোঁড়া, দক্ষিণপন্থী। বিপক্ষে যে তিনজন বিচারপতি আছেন, তারা অনেকটাই সংখ্যালঘু। তাই ভবিষ্যতে হয়তো আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এই abortion ban কে শুধু মহিলাদের অধিকারের ওপর আক্রমণ ভাবলে ভুল হবে। আমেরিকায় এই ব্যান দক্ষিণপন্থীদের বেশ অনেকদিনের লক্ষ্য ছিল। কারণ এই ব্যানের মাধ্যমে একদিকে সমস্ত শ্রমিক শ্রেণীকেই বার্তা দেওয়া গেল, সতর্ক করা গেল। এছাড়া এর দ্বারা সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন প্রান্তিক মহিলারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। যারা উচ্চশ্রেণীর তারা কোনো না কোনোভাবে abortion এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন (রাজ্যের মাধ্যমে)। কিন্তু পারবেন না পিছিয়ে থাকা মানুষেরা। ১৯৯১ সালেই কিন্তু এই ব্যানের আভাস ছিল, ক্ল্যারেন্স তাঁর মনোনয়নের সময়ই এই আভাস দিয়েছিলেন। তবুও আমেরিকার সাংসদরা তাঁকে নির্বাচিত করেন। এই পুরো ঘটনা এটা দেখিয়ে দেয়, কিভাবে দশকের পর দশক ধরে পরিকল্পনা করে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, বিচারব্যবস্থা, এটাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা যায়। সেই দিক থেকেও এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সারা বিশ্বেই।

Saturday, June 26, 2021

The Lost Decade

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের শুরুতেই আমরা মহামারী, বেকারত্ব, বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো সমস্যার সম্মুখীন। আবার এর সাথে সাথেই আমরা পেয়ে যাচ্ছি মহামারীর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন, যা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলেই এতো দ্রুত সম্ভব হচ্ছে। সাথে ট্রাম্পের পরাজয় এই নতুন দশকের শুভ সূচনা। ভালো-খারাপের এরকম আলো-আঁধারিতে আমাদের নতুন দশকে এগিয়ে চলা। আমেরিকার রাজনীতিতে আগামী দশক, বোধ হয়, আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই একই কথা ভেবেছিলেন সেই মানুষগুলো, যারা ২০১০-এ ওবামাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই নতুন দশকের শুরুতে পিছনে ফিরে দেখা দরকার, সেই ফেলে আসা দশকটার যে বড় বড় স্বপ্নগুলো ছিল, তাদের হাল কি হল?

এই লেখাটার শিরোনামটা একটু গোলমেলে ঠেকতে পারে, যদি আমরা কিছু cherrypick করা তথ্যের দিকে তাকাই। আমেরিকার সব থেকে ধনী ১ শতাংশ মানুষ তাঁদের অর্থের পরিমান দ্বিগুন (১৭ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার) করেছেন ২০১০-১৯-এর দশকটিতে [1]। তাঁদের কাছে এই দশক নিশ্চয়ই কোনো "lost decade" নয়। এই মাত্র এক শতাংশ সবথেকে ধনী মানুষ ২০১০ সালে আমেরিকার total wealth-এর ২৮ শতাংশের মালিক ছিল, ২০২০-তে তাঁরা ৩০-এরও বেশি শতাংশের মালিক। এই কতিপয় কিছু মানুষকে ওবামা হোক বা ট্রাম্প - দুজনেই বেশ "দক্ষ রাষ্ট্রপতি"র মতোই সেবা করেছেন।

এবার একটু পিছিয়ে পড়া জনগণের দিকে তাকাই। ধনসম্পদের দিক থেকে আমেরিকার সবথেকে নীচের ৫০ শতাংশ লোক ২০১০-এর শুরুতে মাত্র ০.৫% সম্পত্তির মালিক ছিলেন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন, এতটাই কম। কপর্দকশূন্য বললেও অত্যুক্তি হয়না। ২০০৮-এর ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পরে এই নিচে থাকা লোকগুলোর অবস্থা পথে বসার থেকেও খারাপ হয়েছিল। তারপর থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসে এই নিচের ৫০% লোক এখন আমেরিকার মাত্র ২% সম্পত্তির অধিকারী হতে পেরেছেন। তবুও মধ্যবিত্ত আমেরিকান আর সবথেকে ধনী ১% আমেরিকানদের মধ্যে সম্পত্তির পার্থক্য ১০০০%। জানিনা এই বৈষম্যকে কোন বিশেষণ দিয়ে জাস্টিফাই করা যায়। যে দশকে ওবামার মতো তথাকথিত "ভালো রাষ্ট্রপতি" ৬ বছর দেশ শাসন করলেন আর ডেমোক্র্যাটের মতো লিবারালরা কিছু বছর ধরে আপার ও লোয়ার হাউস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত করলো, সে দেশেও এই অবস্থায় রয়ে গেছে।

এর কারণ নিয়ে বলতে গেলে হয়তো ওবামার নতুন বই "A Promised Land"-এর মতোই বড় একটা বই লিখতে হয়। কিন্তু তার থেকে ছোট করে সংক্ষেপেও কিছু বিষয় দেখে নেওয়া যেতেই পারে। এটা থেকে আমরা ঠাওর করতে পারবো যে, রাজনীতির অভিমুখ ঠিক কিরকম হলে এই ধরণের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা আসতে পারে।

ওবামা আমেরিকার প্রথম কৃষাঙ্গ রাষ্ট্রপতি। ওবামাকে ঘিরে আমেরিকায় উচ্ছাস তৈরী হয়েছিল ২০০৮ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই। কিন্তু ওবামা ক্ষমতায় আসার পরই বড় বড় ব্যাঙ্ক এবং ফিনান্সিয়াল সংস্থাগুলোকে প্রচুর পরিমান সরকারি অর্থসাহায্য দিলেন। এদের তখন বেশিরভাগেরই দেউলিয়া অবস্থা। তাঁদেরকে বলা হল "too big to fail", মানে এরা না থাকলে আমেরিকা দেশটাই টিকবে না। সাধারণ মানুষের জীবন এসব ব্যাঙ্কগুলোর সঙ্গে এমনভাবেই জড়িয়ে যে এই ব্যাঙ্কগুলিকে বাদ দিয়ে আমেরিকা, এমনকি আধুনিক বিশ্বকেও ভাবা যায়না। কিন্তু তবুও এদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করার কথা ভাবা তো হলই না, উপরন্তু রাষ্ট্রীয় ট্যাক্স ডলারে এদের "বেইল আউট" করানো হল, যাতে এই ব্যাঙ্কগুলো বসে না যায় [2]। কিন্তু কার্যত দেখা গেলো, এই প্রচুর পরিমান অর্থসাহায্য পৌঁছালো ব্যাংকের CEO, CFO-জাতীয় উচ্চপদে বসে থাকা বিশাল সম্পত্তির মালিকদের হাতে [3]। এছাড়াও ওবামা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় বুশ জামানার ট্যাক্স ছাঁটও বহাল রেখে দিলেন। আর ট্রিকল ডাউন অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী মোট সম্পদের খুব সামান্যই পৌঁছালো পিছিয়ে পড়া, "ওয়ার্কিং ক্লাস" মানুষদের কাছে। ওবামা প্রথমেই যে বিশাল সুযোগ পেয়েছিলেন - আমেরিকার বিসদৃশ সম্পত্তির বৈষম্যকে মুছে দেওয়ার - উনি ওনার রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রথম মেয়াদে তার সামান্যও করতে পারেননি।

এর পরবর্তীকালে ওবামা কিছু মানুষের জন্য, যাঁদের বেশিরভাগ বৃদ্ধ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী, প্রায় নিখরচায় স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করলেন, যাকে আমেরিকান মিডিয়া বিপ্লবী বলে আখ্যা দিতেও পিছপা হয়নি [4]। কিন্তু তারপরেও আমেরিকার প্রায় ১০% বা ৩ কোটি মানুষের কোন স্বাস্থ্যবীমাই ছিল না, এখনো নেই। তাছাড়াও স্বাস্থ্যবীমার বিষয়টি মানুষের চাকরির সঙ্গে যুক্ত হয়েই থেকে গেলো - মানে যতদিন ভালো চাকরী আছে, ততদিন বীমা আছে, নচেৎ নয়। অথচ এটা এখন প্রায় সবার জানা কথা, এবং বিভিন্ন গবেষণা বলেছে যে, বেশিরভাগ মানুষ গরীব থেকে আরো গরীব হয়ে যায় মূলত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ সামলাতে না পেরে। আর এটা একটা রিকার্সিভ ফাংশনের মতো, যেখানে টাকা-পয়সার সমস্যার কারণে অনেকেই ঠিক করে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে পারেন না, খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক করতে পারেন না, ওষুধ কিনতে পারেন না। ফলে তাঁরা আরো বেশি করে রোগে ভুগতে থাকেন। যার ফলে তাঁরা বেশি বেশি করে দেনার কবলে চলে যেতে থেকে থাকেন।

এরপর আর একটি পয়েন্ট বলে আপাতত শেষ করবো। ওবামা এবং ওনার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যা তথাকথিত লিবারাল পার্টি হিসেবে পরিচিত, তাঁরা নিজেদের cultural বামপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এতো সচেষ্ট ছিলেন, যে অর্থনৈতিক দিকে তাঁদের প্রায় কোনো নজরই ছিল না। cultural leftist issue গুলো মূলত freedom of abortion বা "pro-choice", gay marriage, কৃষাঙ্গদের অধিকার - এসবকে কেন্দ্র করে তৈরী করা হয়েছিল। এগুলো একটা উন্নত সমাজে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন একটা রাজনৈতিক মঞ্চ শুধুমাত্র এই ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করেই তৈরী হয়, তখন সেই রাজনীতি থেকে বৃহত্তর জনগণের পাওনা বলে কিছু থাকেনা। ফলত আমরা শেষ দশকের শেষার্ধে দেখতে পেতে থাকি, "me too" মুভমেন্ট। যা আদতে মেয়েদের বহু বহু বছর ধরে নিপীড়ত থাকার দরুন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমরা ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাই আমেরিকায়। আমরা দেখতে পাই ব্রিয়োনা টেলর বা জর্জ ফ্লয়েডকে মারা যেতে হয় পুলিশের হাতে, হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্টদের হাতে। এতো সবের পরেও ট্রাম্প সাড়ে সাত কোটি ভোট পান ২০২০ সালে। তাই অর্থনীতি ব্যতিরেকে যে সাংস্কৃতিক উদারবাদ বা বামপন্থা হতে পারেনা - আধুনিক ইতিহাসে এই দশকই তার সেরা উদাহরণ এবং আমাদের কাছে শিক্ষনীয়। 

ভীষণ আশা জাগিয়েও এই দশকের শেষে যে করুণ হাল আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিতে গেলে বলা যায়, আগের দশকের রাজনীতি সাংস্কৃতিক উদারবাদের সাথে অর্থনৈতিক উদারবাদের ছায়াযুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। অর্থনৈতিক উদারবাদ সমাজে যে ভীষণ মেরুকরণ তৈরি করছে, তাকে মেনে নিতে পারছে না প্রগতিশীল সমাজ। অথচ অর্থনৈতিকভাবে প্রগতিশীল নীতিগুলো - সবার জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, বাসস্থান, সমবায়ের মাধ্যমে কোম্পানি পরিচালনা, গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগ - সেগুলোকেই আমরা শুরু করতে পারছিনা বা রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলতে পারছিনা। এসব নীতির ওপর ভিত্তি করেই যে আমরা অন্য প্রগতিশীল ইস্যুগুলোকে ছুঁতে পারবো, সেটা আশা করি পরবর্তী দশক আমাদের বোঝাবে, আর আমাদের রাজনীতিও সাংস্কৃতিক উদারবাদের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে।


[1] https://www.federalreserve.gov/releases/z1/dataviz/dfa/distribute/chart/#range:2009.4,2019.4

[2] https://money.cnn.com/2009/01/06/news/economy/where_stimulus_fits_in/

[3] https://abcnews.go.com/Business/story?id=8214818&page=1

[4] https://www.foxnews.com/transcript/bill-oreilly-obamacare-and-socialism

Friday, October 30, 2020

An Important but Uninteresting Election

Four years. It is an important timeframe in modern world. A standard college curriculum takes four years. All the big sporting events including the Olympics and the World Cups happen every four years. In every four years, we add an extra day to our calendar. Heck, I just learnt that the best event for performance designing, the Prague Quadrennial also happens every four years. And that brings us to another important quadrennial event which surprised the world four years ago by its shocking performance. The American Presidential Election.

I came here around the time of the last US presidential election. Then some people still used to believe that Obama rescued the US from the 2008 Financial Crisis and the Great Recession. I still used to believe that monolithic is the only type of OS kernel; okay, not important! But then we woke up to November 4, 2016.

Donald Trump won the White House. A loosing businessman cum bad TV show host. The country was shocked after realizing its wide division between the coastal cities and the cities deep inside America. As if the US did not have enough problems, it chose to own another one.

Like a domino effect, Boris Johnson became the British Prime Minister, Bolsonaro won the Brazilian Presidency, Modi won the second term in India, and also, Brexit happened. The world became a lot more divided, just like the US. The division was partly because of these leaders, partly because of the decade-old economic policies and its ineffective patches. To add a little bit of salt to the mix, America pulled itself out of the Paris Climate Accord. The world was already going downhill, it just accelerated its pace.

Interestingly, there was a reactive and opposite undercurrent. The young generation of the Bernie Sanders movement started fighting the Elections. They wanted to take control of their future. They were disgusted by their college-debt, by home-loans, and by top-centric economic policies (aka trickle-down economics). Not only they got enthusiastic and organic support, they started winning the Elections. So now, the US has an army of young politicians, who not only wins elections, not only does Facebook Live, but also is on Twitch! I mean, even you and I probably do not know what Twitch is, right?

So here we are after four years: still divided, still with the same economic worries, still in a racist society. Will anything change in this Election? But that may not be the right question. On a lovely snowy day, just on the verge of the Election, the question should be: what will change? And we know the answer: nothing!

Friday, December 20, 2019

Internet blockade in Howrah

After three days of Internet blockade by the state -

It feels like times have figuratively gone back. It's not too bad, since people anyway like to reminisce nostalgic past. I'm back at my pre-secondary and -higher-secondary days, listening to Radio (See Sinchan and Ashish, Radio is important). The added bonus now is the lack of television, because we disconnected our TV cable a few years back, thinking too progressively at that point of time. It's an interesting time to live.

Some people are comparing the current situation with the situation under the Fuhrer. This kind of simplification sometimes dilutes the significance of the concerning situation, by exaggerating it too far. But, even if we agree that the recent days in India has similarity to the Third Reich, there is a stark difference.

When Hitler was building his torturous empire, the economy was actually on the rise. It was recovering from the disaster of the World War I. It was a fully state-sponsored development for the private enterprises, with heavy spending on military, motorways and other public infrastructures. It also improved the unemployment by a good margin. All these apparent economic progress helped the Nazi agenda of ethnic cleansing by showing a false development and promising a bright future to the German people. Finally, the tragedy of mass killings was carried out.

The amazing achievement of the Modi government is that it is able to propagate its extremist, religious, conservative propaganda, in spite of an ongoing economic recession. People are jobless; common food prices are going up; economy is going downturn for quite a while. However, people are more engrossed into the non-economic issues. They are conveniently confronted with new social concerns which had nothing much to do with fundamental progress or economic growth.

As we discover similarities of our current times to the Nazi state, we should also recognize the difference. As the old man said, "history repeats itself, first as tragedy, then as farce." We have possibly gone back, but with a new vigor of ignorance. We are living our own farce. The technological advancement helped it by both providing right information faster and also spreading misinformation quicker. But it is clear from the recent surge of protests all across India and some parts of the world that people ultimately sift through the garbage and side with progressive, humane cause. The state consequently abides by its mass.

Thursday, July 18, 2019

Chernobyl Long Rambling

In our childhood, Russian Fairy Tales or “Rushdesher Upokotha” was fairly popular in Bengal. I loved reading those short stories. There used to be a moral lesson at the end of those stories. “Chernobyl”, a tv-series by HBO, is not a fable but a harsh reality which seemed to make us confront the morality of truth and lie. More precisely, it questions a government’s truthfulness and moral responsibilities to its citizens.

“Chernobyl” shows a sequence of events in the disastrous accident in the nuclear plant at Chernobyl, located in former USSR, currently in Ukraine. It dramatizes the account of the event for theatrical presentation, but also does not fall short of scientific detailing. It eventually becomes a pretty grueling experience of five episodes in the tv-series.

Hierarchical System

A recurrent theme in Chernobyl was the Soviet government’s lies that led to the disaster. One main reason behind the lies was the huge pressure on the lower level officials to show progress in their jobs in front of the higher authorities. Soviet Russia (USSR) had a pretty bureaucratic, vertical hierarchical administrative system, just like it still exists in every other part of the world. The vertical hierarchy does not distribute the power of administration well among its officials. It creates enormous pressure in a chain of hierarchical levels. It also creates an unhealthy reward system. For example, Dyatlov, a chief-engineer at Chernobyl, had to conduct a nuclear test, that eventually led to the disaster, just to get his promotion. “Chernobyl” rightfully points out such problematic issues in our current bureaucratic system.

Rather, a flat hierarchy with more distributed ownership of work makes everyone more responsible. In such a system, the objective of a project becomes more important, rather than individual rewards. We can still have seniority and expertise but a more democratic administrative mechanism. For example, the professors in academic departments have more distributed and democratic composition, rather than hierarchical one. The responsibilities are distinguished but the power is democratized. It avoids a single point of failure, as it happened in Chernobyl. Having said that, there is an ongoing assault on the democratic fabric that existed in academia until recently.

Historical Context of Soviet “Lies

The other main reason behind the Soviet government’s denial of truth was fear. If you notice carefully, everyone in the administrative hierarchy was afraid of attack by some foreign bodies, especially the USA. The fear was not just by the higher officials, but also by the lower level workers. Most of them were also shameful to ask for global help because they had to portray themselves “strong”. All of these attitudes need to be seen with historical context.

We need to remember that USSR was formed by bringing down the cruel, monarchical Russian Czar empire. Until then, it was a fairly agro-based country before becoming industrialized just in a few decades. Soon after, USSR had to suffer the heaviest blows of Hitler and also World War II (WW2). In such an adverse historical pretext, USSR entered into Cold War with USA, ironically one of its allies in WW2.

As USA was largely unaffected by WW2, it started the diplomatic war from an advantageous position. In addition, USA gained a huge scientific upper hand, as many European Jew scientists fled to the other end of the Atlantic to save themselves from Hitler. In the other end, USSR with its abysmal condition after WW2, continued an unreasonable competition for decades. From such perspective, USSR really achieved a lot in that competition with respect to space technology and industrial output. They sent the first satellite to space, first animal, first man, first woman, etc. However, they could not beat USA’s historical benefits. USA’s economy was being strongly built because of the research and innovations by the large number of newly arrived scientists.

As USSR was falling behind, they tried to keep the costs of industrial productions down. It was also one of the reasons of the Chernobyl disaster, if you remember. Fear of the unknown, unreasonable pressure, lower funding cannot enable quality research. Eventually, Chernobyl marked the ending of the Cold War after which USSR disintegrated. In any way, an undemocratic administrative system with socialistic principles cannot survive as USSR also was not able to. However, USSR showed us a great potential. It can also be claimed that even Chernobyl, in spite of being a dystopian show, does bring out some bright optimism.

Glowing Positivity

I was attracted most by “Chernobyl”’s positiveness which trumps the pessimism that prevails most of the show. In the awake of such an unprecedented disaster, we could see that people from all walks of life came out for help. General public came to rescue even though they were not responsible for the accident. This attitude upholds the hypothesis that we can also bear the losses together in a society, if we can enjoy the profits together. The morality in USSR helped itself get out of such a catastrophe. This is where Chernobyl shines.

Accident vs. Crime

Chernobyl happened because of an accident. Dyatlov thought that there was a safety button which could hold the ongoing test. Although he had made his part of mistakes, but the disaster happened by accident not by someone’s intention. According to show “Chernobyl” (which is made by Americans), the nuclear accident had “four times power compared to the Hiroshima and Nagasaki nuclear bombs”. However, Soviet people were still able to restrain the effect of the disaster to a great extent. It was catastrophic but they were able to hold it off. They were only able to do that when all of them worked together towards a common goal.

Chernobyl’s reality and its minimal effect in today’s world put a relevant question in front of us about our current situation. And this concerns the current catastrophe that we are facing: the climate change. It is not an accident this time, because we all know what we are doing. The facts are in front of us. We are still progressing increasingly faster to the total extinction of human civilization on earth. Large industries, the owners of huge corporate companies, the economic and political system - all of them are knowingly moving towards the climate catastrophe for at least the past three decades. It is a crime against humanity, not an accident. Are we going to hold it off this time? or will we be in denial of truth? The Soviet people were able to resist a global disaster, will we be able to?

Friday, April 05, 2019

বাংলার সামাজিক সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি

আমরা বাঙালি, আমরা দেশের মধ্যে সব থেকে উদার এবং ধর্মনিরপেক্ষ বলে নিজেদের পরিচয় দিতে ভালোবাসি। আমাদের গর্ব - পশ্চিমবঙ্গের মাটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আখড়া নয়। সারা ভারতের কাছে আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে মিলে মিশে থাকার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাইরের রাজ্য আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুখ্যাতি করলে আমাদের ভালো লাগে, অহংকার হয়। কিন্তু আমরা অনেকসময় ভুলে যাই, আমরা "ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে", "গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস"-এর বাংলা। ১৯৪৬-এর সেই সময়ে প্রায় চার হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছিলেন ও আরো কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায়। সেই একই সময়ের নোয়াখালী দাঙ্গারও উত্তরসূরি আমাদের আজকের বাংলা, যে দাঙ্গা স্বয়ং মহাত্মা গান্ধীও সম্পূর্ণ শান্ত করতে পারেননি। কয়েক হাজার মানুষ মারা যান।

আমরা একত্রিত বাঙালিরা উদারবাদী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও, আজকের মুসলিম অধুষ্যিত বাংলাদেশ চরমপন্থী ইসলামের আশ্রয় নিয়েছে। আবার এটাও মনে রাখা দরকার আমাদের বাংলাই তৈরী করেছে আজকের ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে। বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জনসঙ্ঘকে জন্ম দিয়েছিলেন আমাদের বাংলার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। শ্যামাপ্রসাদবাবু হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এবং মনে করেছিলেন RSS, হিন্দু মহাসভা-জাতীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর একটা রাজনৈতিক শাখা থাকা উচিত। সেই দার্শনিক চিন্তাভাবনা থেকেই আজকের বিজেপির উত্থান। আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, বাংলায় হিন্দুদের ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তাধারাই রাজনীতিতে আধিপত্য করেছে। তাই আমাদের সামাজিক উদারতা এসব তথ্যের দেয়ালে খানিক ধাক্কাই খায়। 

ফলত ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, বাঙালির আপাত উদারবাদী মনোভাব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আড়ালে সবসময়ই উগ্রতার ও গোঁড়ামির এক চোরাস্রোত বয়ে গেছে। ব্যক্তিগত পরিসরে আমরা অনেকেই ধর্মীয়ভাবে এখনও ভীষণরকমভাবে রক্ষণশীল। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি সামাজিকভাবে আজ গ্রহণযোগ্য হলেও, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রগুলো - যেমন বিয়ে, বাড়িভাড়া - এসবদিকে গোঁড়ামি বাঙালির মধ্যেও মজ্জাগত। বাঙালি হিন্দুদের কাস্ট নিয়েও যথেষ্ট শুচিবাই আছে। সেটা শুধু গ্রামবাংলা নয়, কলকাতাতেও বেশি বই কম নেই। কিন্তু আমার নিজের বড় হয়ে ওঠায় আমি এই সাম্প্রদায়িকতা দেখতে পাইনি। হাওড়ায় আমাদের বাড়ির কাছে, মুসলিম জনসংখ্যা ভালোই, তবে সেখানেও পরিবেশ তেমন উত্তপ্ত দেখিনি কখনো। এমনকি আমার বড় হওয়ার সময়ের পশ্চিমবঙ্গে, ধর্মকে ঘিরে তেমন কোনো বাকবিতন্ডা দেখিনি। এ নিয়ে প্রথম বাড়াবাড়ি শুনি, যখন তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দেওয়া হল, ২০০৭ সালের শেষের দিকে। কলকাতায় বড়সড় দাঙ্গার মতোই হল সেবার, নেতৃত্বে ছিলেন ইদ্রিশ আলী, যিনি পরবর্তীকালে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ হন। এর পরে পশ্চিমবঙ্গে আরো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে থাকে, ২০১৩-তে ক্যানিং, ২০১৬-তে মালদা, ধুলাগড়, ২০১৭-তে বাদুড়িয়া - কোনটা একটু ছোট, কোনটা একটু বড়।

মাঝের প্রায় আধা শতক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলেও, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সেটাও একটা ইস্যু। এমনকি ১৯৯০-এর দশকে, যখন বিজেপি প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে উঠে আসছে লোকসভায়, সারা ভারত যখন মুম্বাই দাঙ্গায় আক্রান্ত, অযোধ্যা, বাবরি মসজিদ নিয়ে চিন্তিত, তখন পশ্চিমবঙ্গ নাকি মোটামুটি শান্ত ছিল। বাবা-মা-দাদুদের মুখে তাই শুনেছি। আমাদের বি.ই.কলেজের এক সিনিয়রের লেখায় পড়েছি, সেই সময় বাইরে বেরোনো নিয়ে চিন্তা থাকলেও, পুলিশ এবং প্রশাসন মোটামুটি একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছিল, "ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে"-র বাংলাতেও। কিন্তু যখন সারা দেশে বিজেপি উঠে আসছে, রাজনৈতিকভাবে এই শান্তি কি করে সম্ভব? বিজেপির উত্থানের পিছনে যে অনুকূল পরিস্থিতি - চরমপন্থা - তা তো সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও তখন ছিল। ভোটের ফলের দিকে তাকালে এর পিছনের কারণ সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। 

ভোটের ফলাফল বলছে, বিগত বছরগুলোতে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান বিরোধী দল, কংগ্রেস (এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস), একটা সম্মানীয় ভোট পেয়ে এসেছে সব সময়ই। এমনকি কংগ্রেস ১৯৯৬ সালে ৪০% ভোট পায়, যা কিনা সিপিএমের প্রাপ্ত ভোটের থেকেও বেশি, যদিও তাদের আসনসংখ্যা ৯-এই সীমাবদ্ধ ছিল। বিজেপি সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে কখনো ১৫%-এর বেশি ভোট পায়নি, তাদের ভোট ১০-১১%-এর কাছাকাছিই সীমাবদ্ধ থাকতো। এমনকি সারা ভারতে যখন বিজেপি ১৯৮৯ আর ১৯৯১-এর নির্বাচনে যথাক্রমে ৮৫ আর ১২০টা সিট্ পেয়ে প্রথম একটা সঙ্ঘবদ্ধ শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসের সামনে দাঁড়াতে শুরু করছে, তখনও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দৈন্য দশাই ছিল। এর মূল কারণ পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান এবং এই অবস্থানকে সিপিএম-এর মান্যতা দেওয়া। এখন আমরা মূলত এটা জানি যে, সিপিএম-এর যে ধরণের সাংগঠনিক বাহুবল সেইসময় ছিল, তখন বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া খুব কঠিন হত না। কিন্তু কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অর্থ - রাজনৈতিক মানচিত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়ার উঠে আসা - যা এক্ষেত্রে বিজেপির উত্থানের নামান্তর হত। অন্তত ১৯৯৯ পর্যন্ত এ কাজটা অতি সতর্কভাবেই পশ্চিমবঙ্গে এড়ানো গেছিল। প্রশাসনিক, পুলিশি ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ - দুদিক থেকেই এই কৌশল কাজে লেগেছিল। ১৯৯৮-৯৯-এ তৃণমূলের উত্থানের পরে সমীকরণ সামান্য বদলাতে আরম্ভ করে। 

কংগ্রেসের বেশিরভাগ শক্তিবল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরী হয়। কিন্তু তৃণমূল এরপরে বিজেপির সাথে জোটের রাস্তায় যায়। বিজেপির মূল উদ্দেশ্য খুবই আদর্শগত এবং তা হল হিন্দুত্ববাদের প্রচার। তাই তারা তৃণমূলের মতো কোনো ভাবাদর্শহীন দলকেই পছন্দ করে নিজের বিস্তার করার জন্য। তৃণমূলের সাথে জোট করে বিজেপি দৃঢ়ভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। যদিও সেই ১৯৯৯-এ অটল বিহারি বাজপেয়ির সময়ও, বিজেপি ১১%-এর বেশি ভোট পশ্চিমবঙ্গে পেতে পারেনি, তৃণমূলের সাহায্য নেওয়ার পরেও। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১-এ ক্ষমতায় আসেন এবং সিপিএম-সহ বামফ্রন্টকে মূলত নিশ্চিহ্ন করার পণ করেন। ওনার মূল লক্ষ্য ছিল সিপিএম। কংগ্রেস থেকে শক্তিবল ক্রমশ তৃণমূলের দিকে স্বততই আসতে থাকে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ছোটখাট কাজ করলেও, মূলত ভোটে জেতার রাজনীতির ওপর জোর দেয়। তাই সেখানে চাকরি, অর্থনীতি এসব মূল ইস্যু না হয়ে, প্রধান কাজ হয়ে ওঠে ক্লাবের মাধ্যমে ভোটব্যাংককে মজবুত করে রাখা। এছাড়া সংখ্যালঘু ভোটের শক্তিশালী কনসেন্ট্রেশন করতে তৃণমূল সক্ষম হয়। ইদ্রিশ আলী-রা বিধায়ক হন। সারদার টাকা বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে পাচার হয়, জঙ্গি কার্যকলাপে। সিমি-নামক মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে পরোক্ষে জড়িয়ে থাকা আহমেদ হাসান ইমরান এখনো তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সংসদ। এসবেরই প্রতিক্রিয়া-স্বরূপ ফর্মুলামাফিক বিজেপির উত্থান। ২০১৪-তে বিজেপি প্রথম ১৫%-এর গন্ডি (১৭%) পার করে পশ্চিমবঙ্গে, তাও একা লড়ে।

সেই ১৭%-এ মোদী হাওয়া যেমন ছিল, তেমনি সেখানে অন্যান্য বিরোধীদের কোনঠাসা হয়ে যাওয়াও ছিল। এর পরে, কেন্দ্রের বিজেপি রাজ্যে তৃণমূলকে বিভিন্ন তদন্তের ভয় দেখিয়ে নিজেদের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তারের চেষ্টা করতে থাকে এবং করে। গত কয়েক বছরে RSS প্রচুর শাখা খুলেছে পশ্চিমবঙ্গে।রাজনৈতিক বিস্তারের পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদের আদর্শগত বিস্তার - RSS এবং বিজেপির অন্যতম উদ্দেশ্য। মমতা ব্যানার্জির সৌজন্যে সেটা সম্ভব হচ্ছে। এটা একদিক থেকে বিজেপির আঁতুড়ঘরে ফেরা।

পশ্চিমবঙ্গই বিজেপির আঁতুরঘর। ১৯৫১-এর সাধারণ নির্বাচনে শ্যামাপ্রসাদবাবুর জনসঙ্ঘ (যা বিজেপির পূর্বসূরি) সারা ভারতে যে তিনটি সিট্ জিতেছিল, তার দুটি ছিল পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার পরেও, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কিছুদিন আগে পর্যন্ত মাথা তুলতে না পারার কারণ, শাসক এবং বিরোধী - এই দুই গোষ্ঠীই ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিল। এছাড়াও শাসক দল কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদের সম্পূর্ণ বিনষ্ট করে দিতে চায়নি। ফলে সুস্থ বিরোধিতার পরিবেশ ছিল, যেখানে বিজেপির উঠে আসার সুযোগ তৈরী করতে দেওয়া হয়নি। সেটা শাসক দল খুব সচেতনভাবেই করে থাকে। শাসক দল তার প্রতিপক্ষ তৈরী করে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিক মাটিতে। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন যাবৎ এভাবেই শাসক এবং বিরোধী দুপক্ষেই সুষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষতার আবহ টিকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির আমলে এসে এই চিত্র আপাতত প্রশ্নচিহ্নের মুখে। মমতা ব্যানার্জির হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দৃঢ় পদার্পন। এখন ওনার আমলেই বিজেপির দৌরাত্ম্য ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। 

বাংলার সাম্প্রদায়িক পরিবেশ নির্ভর করছে তার প্রধান রাজনৈতিক ও বিরোধী দল কি কথা বলবে। আর বাংলার প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী দল কে হবে, এটা নির্ভর করছে শাসক দল কোন বিরোধী দলকে তাঁদের সাংগঠনিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে দেবে। তৃণমূল কংগ্রেস বামপন্থীদের কোনঠাসা করে দিয়েছে, তাদের কোনোরকম সাংগঠনিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে না দিয়ে। আর কংগ্রেসকে মমতা ব্যানার্জি নিজের দলে পরিণত করেছেন। এই সুযোগেই বিজেপির একটা উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে এবং হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি নিজেও সম্ভবত বুঝছেন, যে তিনি ঠিক কোন ধরণের আগুন নিয়ে খেলছেন। 

বিজেপি কোনো একটি সাধারণ দল নয়। এটি একটি চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী পার্টি। এই দলের আপাতত চাই লোকবল, যাতে তাঁরা তাঁদের আদর্শগত গোঁড়ামিকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। আর অদূর ভবিষ্যতে বিজেপির উদ্দেশ্য পুরো তৃণমূল দলটাকেই বিজেপিতে পরিণত করা। যেহেতু তৃণমূলের নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই, তাই এই কাজটা তুলনামূলকভাবে সহজ। বিজেপি আপাতত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। বিজেপির প্রথমদিকের লোকবল তৈরী হয়েছে সাধারণ সিপিএম ভোটারদের নিয়ে। সিপিএমের সাংগঠনিক শক্তি তলানিতে পৌঁছনোর পর, এইসব ভোটাররা সিপিএমের থেকে সরে গেছেন - যার বড় কারণ সিপিএম-এর সংগঠনগুলোর ওপর মমতা ব্যানার্জির তীব্র আক্রমণ। এর পরের স্টেজে তৃণমূলকে ভাঙ্গানোর কাজ চলছে বিজেপির। মনে রাখতে হবে, ত্রিপুরায় এভাবেই রাতারাতি সমস্ত কংগ্রেসকে গ্রাস করে ফেলেছিল বিজেপি। তাই, এক্ষেত্রে বাংলার মানুষকে বেছে নিতে হবে, তারা কোন শাসক এবং আরো প্রয়োজনীয়ভাবে কোন বিরোধী দলকে দেখতে চায়। যারা সামাজিক সমস্যাগুলোর কথা বলে, নাকি যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো ইস্যু নিয়ে লড়াই বাঁধায়। প্রশ্নটা ভীষণ সহজ, তবে উত্তরটা কঠিন।

Wednesday, March 13, 2019

Please, do not blame Modi.

This note is not from the angle of social fabric or freedom of expression. I am mainly trying to understand the BJP government's rule from the economical and related philosophical aspects. Just after gaining power in 2014, Modi announced the "Make in India" project. This is, of course, an effort to create more manufacturing jobs in India. So by 2014, a right-wing party is already admitting that opening up Indian economy in 1991 actually did not help much to create "real" jobs in private sectors for our unskilled labors. Therefore, Modi is trying to attract investments both from the Indian and foreign private investors for manufacturing jobs in India.

Well, this same call was given by the Leftists in 1990s. Their main argument was that we needed to create manufacturing jobs before investing in the services sector, so that large part of our labor force and lower class are employed. Thus, we would have a strong base to grow in the services sector later on. Leftists actually tried this approach in West Bengal (WB). There was reduction of trade union power in WB from the 1990s; that meant less strikes in industrial sector, government encouraged manufacturing units, a pro-private-investment government which was first led by Jyoti Basu and then Buddhadeb Bhattacharya. We instantly got Haldia Petrochemicals (1994), the largest petrochemical company in India and others [Jai Balaji Group (1999), Titagarh Wagons (1998), Bisk Farm (2000), Vikram Solar (2006)]. The establishment of these new projects was alleviated by the ending of License Raj (1990) [1] and Freight equalization policy (1993) [2].

So, a right-wing government by BJP wanted to reach the same goal in 2014, as wished by a left-wing government 15-20 years ago. Of course, these two government had different approaches. The left-wing government did seek private investment because the state government did not have much money. Nevertheless, it still created and encouraged government-funded manufacturing units like Thermal Power Plants [Budge Budge (1997), Bakreswar (1999)]. Soon, West Bengal became power surplus state [3] (although this masks the reality that many villages were still not electrified). In addition, WB government was still caring for labor unions, albeit toning it down to pave the way for the private investors. On the opposite side, the right-wing BJP government followed, of course, right-wing economic mentality from 2014.

BJP government dissolved PSUs like Biecco Lawrie. It handled the government undertakings (e.g. - BSNL, Air India) so badly that the companies suffered from mismanagement [4]. On top of that, as a party in democracy, BJP needed to ensure their source of party funding. Thus, enter the Reliance, Adani and co.

Although private investments were independently invited, the government favored only a chosen few like Reliance, Adani group, etc. These companies provide huge sums of money to the BJP party funds. BJP works on behalf of these small set of companies which are just looking for their return on investments. Therefore, for the sake of election and party funding, free market took a dip into the Michigan lake, and cronyism entered. BSNL was sacrificed for Reliance's Jio. "Make in India" was already all set to drown into the Indian Ocean. Then, we got two major blows: Demonetisation and Goods & Services Tax (GST).

Demonetisation had to happen, as the government-owned banks loaned out huge sums of money to the private investors to create companies and jobs. The previous neo-liberal UPA and current BJP both incurred huge debt in public banks to support private investments. So public money was lent to untrustworthy private bodies to create public jobs. Let that sink in first, read the previous sentence again. What could go wrong in this setup, right? A few Nirav Modi, Vijay Malia flew away for their aborad vacations; a few others could not pay their debts. Banks consequently had crunch of money. On top of that, student loans soared [5] because enough jobs were already not created for the services-sector based economy. Students could not get jobs or were not able to pay back their education loans. Demonetisation and GST just put the nail into the coffin.

The situation was already worse because of India's excessive reliance on the services sector. If you ask any IT employee, they can answer about it. The lower level salaries for the IT or the services sector have become virtually stagnated. In the meantime, high- and top-level employees have seen manifold increment in their salaries. Therefore, we can, of course, see the rise in Indian GDP, because the salaries do increase for the already rich. However, the lower level jobs and salaries have become dry. Thus, we enter our jobless growth period [6] exacerbated by the right-wing policies of the BJP government from 2014. When we need government encouragement to create more public sector employment, the government subdued by its private patrons.

Now, what can Modi do here? Modi himself is really not at any fault here. The whole right-wing economy should be questioned. Modi is just following whatever his right-wing economics is dictating. The poster boy of liberal right-wing people, Raghuram Rajan warned us about "Make in India" that India could have become depended on exports because of "Make in India". But, laughably, the project itself never really took off because India has already missed the train of manufacturing jobs to China. In addition, China does not have to depend on democracy to setup factories. India and Indian right-wing parties are too reliant on democratic procedures. Democracy and right-wing economics are a stark mismatch, especially at the stage of India's development phase. So if you want to really pinpoint the economic issue, it's the right-wing economic policies. It's not Modi! So, do not blame Modi, please!

[1] https://en.wikipedia.org/wiki/Licence_Raj
[2] https://en.wikipedia.org/wiki/Freight_equalisation_policy
[3] http://www.calcuttayellowpages.com/index.html
[4] https://www.thehindu.com/business/Industry/over-192-lakh-employees-of-bsnl-and-mtnl-yet-to-get-salaries/article26522223.ece
[5] https://economictimes.indiatimes.com/industry/banking/finance/banking/despite-21-jump-in-npas-in-fy17-lenders-lap-up-education-loans/articleshow/59721203.cms
[6] Mishra, Arti, and Prashant Kumar Pandey. "Growth without Job in India." 14th (2018): 385.

Thursday, February 28, 2019

Gully Boy Rambling

Zindagi Na Milegi Dobara was the last Zoya Akhtar film which I watched in a theater. I watched the film at Menoka Cinema Hall in Kolkata. I still remember it, because it was during the last year of my college life, and I watched the film with Souvik, one of my best friends. Because of my age at that time, I really loved such a cinema, and I still do. However, Zoya ventured into different types of films later on. I again saw a Zoya Akhtar movie in a segment in Lust Stories, which was somewhat a different sort of experience. The short film was about a maid who was being taken advantage of. Of course, the film had a direct intonation to the differences in our society in terms of wealth. Gully Boy seems to continue from there on.

I wanted to watch Gully Boy because of Zoya Akhtar, although I do not like Ranveer Singh much. Zoya does not disappoint me at all. The film started by showing two contrasting worlds in Mumbai. The two worlds, which stay together, but actually are far apart. Ranveer is a college goer boy from the poor, slum world of Mumbai. And some other characters represent the posh, sophisticated Mumbai. In one scene, Ranveer, as a driver of a rich family, is driving the whole family which includes a daughter of Ranveer's age. The father in the family wants his daughter to go to Harvard for a Master's degree. He cautions his daughter that if she doesn't pursue Master's, then she can also land up just like Ranveer, a driver, in spite of holding a bachelor's degree. The father tells this in front of Ranveer, obviously as an insult, but without caring a zilch about Ranveer's dignity. Zoya here creates two realities for two young people. On one hand, Ranveer, although a graduate, can only work as a driver or a clerk. On the other hand, the rich girl can create her own version of success with a Harvard graduate degree, because she can afford it. Zoya creates the thesis of class struggle where the lower class Ranveer can't just do what he wants, but the rich girl can.

Next, Ranveer finds a creativity within him. He can terrific write rap songs. As it is widely seen in history, a tiny small fraction of the rich class extends their helping hands to the oppressed lower class. For example, in 70s Bengal, Naxal movement, an armed revolutionary leftist movement was highly supported by the well-educated middle and upper-middle class Bengali families. Here in Gully Boy, Kalki Koechlin, another rich kid, studying music in my current city Boston, appears in India and produces Ranveer's rap music to release in YouTube. Zoya is now creating a very classical antithesis against the same thesis I mentioned above. The lower class boy Ranveer is using the mediums provided by the rich class to topple them. YouTube, a product of consumerism, is being used by the fighting lower class to oust the higher class and its consumerist market.

This is the point to bring the topic of using the Azadi Song by Kanhaiya Kumar in the film. A section of the media tries to admonish Zoya for using the Azadi song. They complain that Kanhaiya Kumar's voice is against the consumerism for which the song is actually being used in the film. How can Zoya do that? Well, then how should the ideas behind the Azadi song be reached to the mass? This is where the liberals do not understand the leftist class struggle and dialectics. Capitalists create the tools and mediums for their own destruction. This is the classic contradiction in Capitalism. To be more specific, we cannot wait for the public to be self conscious by some imaginary means and understand the class struggle. We have to use popular Capitalist tools to spread the principles of class struggle. When time comes, the public will pick up the important beats, even from the market-focused products. Salil Chowdhury also said, it does not matter that his ideologically leftist songs are being commercialized. People may just listen to those songs for their own enjoyment for some time. However, when the same people face distress, they will be aware of their class in the society and will be inspired by the same art which was once only for the enjoyment.

So, thank you, Zoya! For using the Azadi song in such a movie. The Azadi songs do fit in the movie, may be not in a perfect way, but certainly not inconsequentially. The movie is surely about the class. Not only from Ranveer's perspective but also from Alia Bhatt's perspective. This girl from apparently a well-off family is fighting her own class struggle, the battle against religious and societal norms for women. I like that Zoya binds the feminist idea with the principles of class struggle. Most of the feminist liberals miss this connection, but Zoya does not seem to.

Finally, Zoya finishes off her dialectical journey with the synthesis where Ranveer becomes famous and transcends the class boundaries. Art by the means of Ranveer's rap songs breaks the barrier of class, where he finally sings his songs along with all his friends, the rich girl Kalki Koechlin and everybody else. However, Zoya knows that she is creating a mirage here. Only art cannot mitigate the class conflict. We need politics and economics. This is why one bosom friend of Ranveer ends up in jail because of his joblessness and consequent wrongdoings. This is probably metaphoric of referring that class struggle is, of course, not resolved by only arts. 

To conclude, the film revolves around class struggle. In relation to the controversy, artists do not need to make political statements, if their artistic creations are already speaking for themselves. So it's fine if Zoya does not speak out, for every issues that we are facing in India. In addition, actors are especially nothing in movies but just tools for the directors. So, it does not matter much what they say or do. A sickle itself is not political; but it becomes political when it is contextually used to symbolize the farmers' struggle. However, Zoya is obviously not a political filmmaker. So she sugarcoats this whole story of dialectics in a soothing environment to watch. The frames are too flat, polished and do not create any disturbances in the viewers' mind. There may be other cinematic flaws. Nevertheless, the film reinforces, the only eternal truth in our materialistic world is class and the struggle around it.

Saturday, February 09, 2019

Alexandria Ocasio-Cortez

Alexandria Ocasio-Cortez - নামটা যদি এখনো না শোনা হয়ে থাকে, তাহলে চটপট এনার ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন। নিউ ইয়র্ক শহরে পুয়ের্তো রিকান পরিবারে জন্ম, প্রসঙ্গত পুয়ের্তো রিকো আমেরিকার দক্ষিণে একটি আমেরিকান কলোনি রাজ্য। Alexandria বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন ও অর্থনীতি নিয়ে অনার্স পাশ করেন ২০১১ সালে। সেই সময়টায় সারা বিশ্বেই মন্দা চলছিল আর তাই চাকরি-বাকরির অবস্থা ছিল খুব খারাপ। Alexandria পড়াশোনার পর bar-এ, ফুড-স্টল-এ কাজ করা শুরু করেন, বাড়ির অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। এর কিছুদিনের ভিতরেই বার্নি স্যান্ডার্স ঘোষণা করেন যে, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তিনি লড়বেন। অনেক তরুণ- তরুণীর মতোই বার্নির হয়ে প্রচার শুরু করেন Alexandria। বার্নি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। কিন্তু ২০১৮ সালে Alexandria নিজে ভোটে দাঁড়াবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

নিউ ইয়র্কে শহরের যে অংশের বাসিন্দা ছিলেন Alexandria, সেখান থেকে ভোট দাঁড়াতেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এক অন্যতম প্রভাবশালী, উচ্চপদের নেতা। Alexandria অভাবনীয়ভাবে সকলকে চমকে দিয়ে সেই নেতাকে হারান, আর আমাদের ভারতের ভাষায় বললে এম.পি নির্বাচিত হন। তার পরের গল্পটা কিছুটা রূপকথার আকার নিচ্ছে। সারা দেশেই বিপুল জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন ২৯ বছরের এই মেয়েটি। ক্লাইমেট চেঞ্জ, সরকারি-সহযোগিতা-প্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ফ্রি কলেজ এডুকেশন - এই জাতীয় নীতিগুলিকে শুধু প্রথম সারির রাজনৈতিক আলোচনাতে নিয়ে আসেন তাই নয়, যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়গুলিকে তিনি ইতিমধ্যেই mainstream করে ফেলেছেন। কিন্তু Alexandria সম্পর্কে আমার এভাবে লেখার কারণ ওর অন্য একটি ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।

Alexandria একটি রাজনৈতিক সংস্থার সদস্য। এই রাজনৈতিক সংস্থাই Alexandria-এর নির্বাচনের সময় তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ আর প্রচারের কাজ করেছিল। সংস্থার নাম Democratic Socialists of America. এই সংস্থা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু একটি পলিটিকাল অ্যাকশন গ্রূপ। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন করে ও প্রচার করে। এদের ওয়েবসাইট থেকে এদের রাজনৈতিক ও অর্থনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে খুব ছোট্ট করে বললে, এরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। তবে সোভিয়েত থেকে শিক্ষা নিয়ে এরা সমাজতন্ত্রের প্রশাসন থেকে গণতন্ত্রকে মুছে দিতে চাননা, তাই "ডেমোক্রেটিক"। তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে এরাও মনে করেন, সমাজতান্ত্রিক ভাবেই অর্থনীতির গঠন হওয়া উচিত, অনেকটা কো-অপারেটিভ মডেলে। নিও-লিবারেল ইকোনোমি এবং গ্লোবালাইজেশন-এর প্রবলভাবে বিরোধী এরা। Alexandria নিজেও এই মতবাদেই বিশ্বাস করে থাকেন। তাই Alexandria-এর এই জনপ্রিয়তা এবং সাফল্য এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

আমেরিকার অর্থনীতি আমেরিকার নিচের সারির মানুষকে (৯৯%) যে তলানিতে ধীরে ধীরে নামিয়ে চলেছে, তাতে Alexandria-এর জনপ্রিয়তা বাড়াটা স্বাভাবিক। ছাত্রদের লোনের পরিমান আমেরিকায় নতুন নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে চলেছে। যত কষ্ট করে মানুষ কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন, সেই পরিমান লোন শোধ দেওয়ার মতো চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রান্তিক মানুষেরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ নিতে গিয়ে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর কাছে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় Alexandria-এর মতো তরুণীর মূল রাজনীতিতে আসাটা একটা আলাদা উত্তেজনা নিয়ে এসেছে রাজনৈতিক বৃত্তে। ওঁকে দেখে যদি আরো নতুন মুখ এই আদর্শকে পাথেয় করে তোলেন, তাহলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। 

Wednesday, June 06, 2018

সাম্যবাদী গণতন্ত্র - Communist Democracy

টুকাইয়ের বাড়িতে মাটির ওপর আসন পেতে বসে স্টিলের থালায় মাংস-ভাত খাচ্ছিলাম। ওর মা সামনে বসেছিলেন। সবশেষে টমেটোর চাটনিও ছিল, কাকিমা বেশ সুন্দর বানিয়েছিলেন। সেবারে টুকাইয়ের জন্মদিনে বেশ মজা হয়েছিল, সাজ্জানলালও এসেছিল। আমি একটা পেন্সিলবক্স উপহার দিয়েছিলাম টুকাইকে, তাতে কয়েকটা খুব সুন্দর পেন্সিল ছিল। তার আগের দিনই ওকে অঙ্কের মাষ্টারমশাই আলম স্যার ক্লাসের বাইরে নীল ডাউন করিয়ে দেন, ক্লাসে লেখার সময় ওর নিজের পেন্সিল না থাকায়। সেজন্যই বোধ হয় ওর খুব পছন্দও হয়েছিল পেন্সিলবক্সটা। ও খুব খুশি ছিল সেবার। আমাদের দুপুরের খাবারের একটু আগেই কেক কাটা হয়েছিল; এই পাশেই, ওদের শোয়ার ঘরে। অবশ্য যা ওদের শোয়ার ঘর, সেটাই ওদের বসার ঘর, সেটাই আমাদের ট্রাম্প কার্ড খেলার ঘর - সবই ওই এক ঘর। কারণ ওদের একটাই ঘর ছিল তখন, এবং সেটাই ওদের পুরো বাড়ি। বাইরে যে ছোট্ট মত জায়গাটায় আমরা খাচ্ছিলাম, সেই ছোট্ট মতো জায়গাটাতেই ওর মা, মানে কাকিমা রান্না করতেন। খেয়ে নিয়ে একটু গল্প করেই আমরা সেদিন স্কুলের মাঠে খেলতে চলে গেছিলাম, দৌড়ে দৌড়ে।

দৌড়োতে দৌড়োতে আমি ২৩বি নম্বর গেট-এ পৌঁছলাম, কিন্তু গিয়ে দেখলাম প্লেন ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। অবশ্য টুকাই দৌড়ে ৩৪ বি বাসটা ধরে ফেলেছিল ধর্মতলার মোড়ে, কে.সি.দাশ-এর অপোজিট-এ। এভাবে কিছু ট্রেন আমরা মাঝে মিস করেছি, কিছু প্লেন ধরে ফেলেছি। ঠিক মতো জানি না, টুকাই ঠিক কোন কোন ট্রেন বা বাসগুলো ধরতে পেরেছিল বা পারেনি। তবে এটুকু বুঝেছিলাম, আমার জন্য যে ট্রেনগুলো ছিল, সেগুলোর নাগাল পায়নি টুকাই। ওর আর্থিক অবস্থা থেকে পাওয়ার কথা ছিল না। হয়তো আমার ছোটবেলার বন্ধু সাজ্জানলালও কিছু একটা কাজ জুটিয়ে নিয়েছে এতদিনে, যদিও ওর একটা পা-এ সামান্য সমস্যা ছিল, খুঁড়িয়ে হাঁটতো। ওর আর কোনো খোঁজ পাইনি স্কুলের পরে, যেমন সামিউল-এরও পাইনি। টুকটাক কিছু খবর ছাড়া অন্য খবর পাওয়ার কথাও ছিল না। কারণ আমি ধীরে ধীরে আলোর দিকে চলে এসেছি। আর আমরা যখন আলোয় থাকি, অন্যদের স্রেফ কিছু সংখ্যায় পরিণত করি। তাই পেপারে আলাউল, টুকাই, সাজ্জানলালদের সম্পর্কে combined কিছু তথ্য পেয়েছি। বুঝতে পেরেছি ওদের জন্য কিছু উন্নতি হচ্ছিলো, আর অনেক কিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।

আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম আমাদের কাছাকাছি ও ব্যক্তিগত উন্নতিটা। একটা সময় মা উনুনে রান্না করতো, তারপর একদিন গ্যাসে এসে গেল। অন্যের বাড়ি থেকে আমাদের নিজেদের বাড়ি হচ্ছিল। টুকাইরা মাটি আর বাঁশের ঘর ছেড়ে পাকা ভাড়া-বাড়িতে উঠে আসছিল। কিন্তু এসবের পিছনের কাহিনীটা আরো পরে ধরতে আরম্ভ করি। সরকার থেকে চাকরি হচ্ছিল অনেকের, আমার বাবা-মা-আত্মীয়রা এই পরিবর্তনটার সাক্ষী ছিল। কিছু বেসরকারি চাকরিও দেখছিলাম। কিন্তু চাকরি তো এমনি এমনি হতে পারে না। এর পিছনে চলছিল লাগাতার আন্দোলন, শ্রমের অধিকার এবং মূল্যের জন্য। অনেক মানুষ মাঠে-ঘাটে নেমে এই আন্দোলনটা করছিলেন। তারা সত্যিকারের শ্রমের মূল্যের তত্ত্ব কতটা বুঝেছিলেন, জানিনা। কিন্তু তাঁরা নিজেদের জীবন দিয়ে শ্রমের প্রকারভেদ এবং নিজেদের সামাজিক অবস্থানটা যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তাঁদের আন্দোলনের দিশাও ছিল, প্রাপ্তিও ছিল। একই জিনিস হচ্ছিল একটু গ্রামের দিকে, চাষিদের বাড়িতেও। মুশকিল হল - তাঁরা সকলেই বাস করছিলেন একটা গণতান্ত্রিক দেশে এবং আন্দোলন করছিলেন সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।

আন্দোলনকারীরা তাঁদের যথার্থ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে স্বচ্ছলতাটা আনলেন তাঁদের জীবনে, সেটা সকলের জীবনেই আনা সম্ভব ছিল না। কাজ কখনো একেবারে, একটা প্রজন্মের আন্দোলনে শেষ হতে পারে না, তার জন্য অনেকটা সময়, অনেকগুলো যুগ লাগে। ফলে অনেক মানুষ, এর পরেও, পিছনেই পড়ে রইলেন। কিন্তু একটা প্রজন্মের আন্দোলনের বয়ে আনা স্বচ্ছলতা একটা বৃহৎ গোষ্ঠীকে মূলত পঙ্গু করে দিল। এই খুব বড় জনগোষ্ঠীই হল আমাদের সোনার মিডল ক্লাস, মানে আমরা যারা মধ্যবিত্ত। আমরা একটা আপাত সুখের মাঝে বড় হলাম; বাবা-মা তাঁদের স্বভাববশত, তাঁদের কষ্টটা আমাদের কাছে যথাসম্ভব চেপে রাখলেন। আমরা বড় হয়ে কেউ প্লেন ধরলাম, কেউ ছুটে গিয়ে বাস ধরলাম। এইভাবে আমরা নিজেদের আরো উপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে শুরু করলাম বটে, কিন্তু অনেকেই এই দৌড়টায় পিছিয়ে পড়লো।

যারা পিছিয়ে পড়লো, তারা মনে করলো, তাঁদের পিছিয়ে পড়ার কারণ তাঁদের নিজেদের অক্ষমতা। অথচ আমরা যে সেই একই সমাজব্যবস্থায় বাস করছি, সেটা অনেকেই খেয়াল করলাম না। নাহ্, একটু ভুল বললাম, ঠিক একই সমাজব্যবস্থায় আমরা আর বাস করছিলাম না। একটা বৃহৎ গোষ্ঠী, যারা আমাদের আগের প্রজন্মে সক্রিয় ছিল, তারা এখন নিজেদের অক্ষম বলে ভাবতে শুরু করেছে। তাই ব্যবস্থাটাকে আর একই বলা যাচ্ছে না। এই এখনকার অক্ষম গোষ্ঠীটাতেই আগে ছিল আমাদেরই বাবা-মা-আত্মীয়রা, তাঁদের যুবক-সত্ত্বায়, যারা তখন মাঠে-ঘাটে নেমে আন্দোলনটা করছিল, শ্রমের অধিকারের জন্য, সঠিক চাকরির জন্য। কিন্তু আমরা বড় হয়ে সেই চাকরিটাকে হয় নিজেদের অধিকার অথবা চাকরি না-পাওয়াটাকে নিজেদের অক্ষমতা বলতে শুরু করলাম। ফলে যে গোষ্ঠীটা খুব সক্রিয় ছিল নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনায় বা প্রতিষ্ঠিত করায়, সেই গোষ্ঠীটা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেল।

পুরোপুরি বিলুপ্তও বলা যায় না, বলতে হয়, সেই গোষ্ঠীটা ছন্নছাড়া হয়ে গেল। সেই গোষ্ঠীর কিছু লোক এখন ব্যাঙ্গালোরে হুইস্কি সহযোগে হাহুতাশ করে মমতা ব্যানার্জির শাসন নিয়ে, অথবা নন্দনে বিকেলবেলা হাওয়া খেতে খেতে সিপিএম-এর করুন দশা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, অথবা আমেরিকায় বসে এরকম একটা লেখা লেখে। এরা কিছুটা সচেতন সমাজের এই (অধঃ)গতিটা সম্পর্কে এবং সেখানে নিজেদের কিছু করতে না-পারার ব্যর্থতা সম্পর্কে। কিন্তু যেহেতু এদের আগের প্রজন্ম এদের একটা স্বচ্ছলতা দিয়েছে, একটা পরিসর দিয়েছে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন-চাহিদাগুলো পূরণ করার, তাই তারা মূলত উদাস এবং প্রমাণসাপেক্ষে অপারগ, এই সমস্যা নিয়ে কিছু করার উদ্দ্যশ্যে।

এর পরও পড়ে থাকছে এই বৃহৎ গোষ্ঠীর আর একটা মূল উপগোষ্ঠী। যাদের এখনো সেই চাকরিগুলো দরকার, যেগুলো সক্রিয় আন্দোলন এবং সঠিক উন্নয়ন থেকে উঠে আসতে পারে। এই হল সেই গোষ্ঠীটা যারা গণতন্ত্রের এবং সর্বোপরি সাম্যবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে আসা স্বচ্ছলতার শিকার। এরা এখন হয় শাসক দলের তাবেদারী করতে বাধ্য বা সিভিক পুলিশে নাম লেখাতে। এদের কাছে সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তেমন কোনো উপায় নেই। কারণ এরা জানেনা, আন্দোলন করার মানে, এদের বড় হওয়ায় হয় মিশে আছে সামান্য শৌখিনতা, অথবা স্বচ্ছলতার মেদুর স্বপ্ন যা ২০০৩-০৪-এর "Shining India"-এর মতোই সত্যি। সেই স্বপ্নে কোনো আক্রোশ নেই, বাসনা নেই, শুধু আছে চাতকের চাহুনি। আর সেই চাহুনি চেয়ে আছে সমাজবাদী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে, যা খানিকটা "সুখী" আন্দোলনে পর্যবসিত। তবে প্যারাডক্সটা এখানেই যে, সফল আন্দোলনের মূল জ্বালানি যে অনুভূতিটা, সেই আক্রোশ বা ক্রোধ নামক আবেগটা এখন প্রায় অনুপস্থিত এই গোষ্ঠীর ভিতর। ফলে আমরা কোথাও আটকে গেছি একটা ডেডলকের মধ্যে। কেউ কোনোদিকে চলতে পারছি না, কেউ দৌড়োতে পারছি না, কেউ মাটির কাছাকাছি যেতে পারছি না। আমরা শুধুই মাটির ওপরে সুন্দর হাতের কাজ-করা আসনটুকু দেখতে পাচ্ছি, পেতে চাইছি; ওর উপর বসে মাংস-ভাত খাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু আসনটা যে মাটিতেই বিছিয়ে দিতে হবে, এবং তার জন্য আসনটাকে যে মাটি ছোঁওয়াতেই হবে - সেটা মেনে নিতে রাজি হচ্ছি না। বর্তমান শাসকেরাও চান না আমরা রাজি হই, কারণ তারা এই পঙ্গু গোষ্ঠীটাকে ভোট জেতার মেশিনারি হিসেবেই কাজে লাগাতে ব্যস্ত। সাম্যবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আমাদের যে দৌড়টা দিতে শিখিয়েছিল, আমরা খুব সহজে ভেবে নিয়েছি যে, তার বোধ হয় কোনো ফিনিশিং লাইন আছে। কিন্তু সেটা তো ছিল না, সেটার একটা চিরন্তন বহমানতা থাকার কথা ছিল। অথচ আমরা সেই কাল্পনিক ফিনিশিং লাইনে এসে অপেক্ষা করছি, আশা করছি, একটা উন্নততর পৃথিবীর, যেটাকে মরীচিকা ছাড়া আর কোনো ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সাম্যবাদী আন্দোলনের এটাই বোধ হয় সব থেকে বড় পরিহাস।
---

আলোচনা ও ভাবনা সহায়তা: শুভাশিস পাত্র

শুভাশিসের মন্তব্য: তোর এই লেখাটা পড়ে আমার মনে যে টা সব থেকে বেশি টাচ করেছে সেটা হল 'গোষ্ঠী'। শ্রেণী নয়। একদম ঠিক। যতদুর মনে পড়ে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার এর পর থেকেই শ্রেণী চেতনা হারিয়ে গেছে এসেছে গোষ্ঠীবাজি। তুই সেটাই দেখেছিস।
তোর দেখাটা সত্য। বামফ্রন্ট সরকার যখন থেকে কাজের সুযোগ তৈরী করতে সক্ষম হল, তখন আন্দোলনটা গোষ্ঠীগত আন্দোলন হয়ে গেছে, শ্রেণীগত চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করার তাগিদে ভুলে গেল তুলনামূলক ভাবে অগ্রসর শ্রেণী এর সিংহ ভাগ সুযোগ আত্মসাৎ করবে। হলও তাই। সেই ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্তি পেতে ultimately মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদয় হলো। কিন্তু সেটাও মরিচীকা।

Sunday, June 03, 2018

সংরক্ষণ বন্ধ করার আগে - Before abolishing caste-based Reservation

দীপক মন্ডল ক্লাসের মাঝারি মাপের ছাত্র। প্রথমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসে ভালো ফল করতে পারেনি। যদিও সংরক্ষণের সুবিধা অনুসারে তার চাকরি হয়ে যায়, কিন্তু সে কখনোই ওই সুবিধে নেয়নি। তাই অনেক খেটে, পড়াশোনা করে দ্বিতীয়বার আবার চাকরির পরীক্ষা দেয় এবং ভালো ফল করে। তারপর সরকারি দপ্তরে জেনারেল কোটাতেই তার চাকরি হয়। সরকারি চাকরি পাবার পর খুব খুশি ছিল দীপক। ভেবেছিল এবার সে সুলগ্নাকে বিয়ে করতে পারবে। সুলগ্না তার কলেজের প্রেম, সুলগ্না চক্রবর্তী। কিন্তু সুলগ্নার বাড়ি থেকে এই বিয়েতে রাজি হয় না। কারণ দীপক SC, আর সুলগ্নারা ব্রাহ্মণ। সুলগ্নার বিয়ে ঠিক হয় সপ্তর্ষি ভট্টাচার্যের সাথে। সুলগ্না দীপককে ভালোবাসলেও বাবা-মা-র ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেতে পারেনি, সপ্তর্ষিকেই বিয়ে করে ও। সুলগ্না এখন ভালই আছে।

সুলগ্নার স্বামী সপ্তর্ষি একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করে। সেই ফার্মেরই রাইভাল ফার্মে দীপকের বন্ধু আলাউল কিছুদিন আগে অ্যাপ্লাই করেছিল। আলাউল অ্যাপ্লাই করার পরেও কল পায়নি ফার্মটা থেকে। দীপক জানত আলাউল-এর যা প্রোফাইল, অন্তত ইন্টারভিউর জন্য ওকে ডাকা উচিৎ। দীপকের অন্য কিছু বন্ধুও ওই একই ফার্মেই কাজ করতো। দীপক তাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আলাউল-এর শুধুমাত্র নামটা দেখেই নাকি ওকে বাছাই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছ।

আগে আপনারা দীপক মন্ডল আর সুলগ্না চক্রবর্তীর ভালোবাসার বিয়ে সুরক্ষিত করুন। আগে আলাউল ইসলামকে সমাজে প্রাপ্য সম্মান আর মর্যাদাটা দিন, তারপর না হয়, আমরা সরকারি ক্ষেত্রে ওদের সংরক্ষণ তোলার ব্যাপারে ভাববো।

আগে আমাদের রাজ্যের পার্টি, সরকার এবং অন্যান্য প্রভাবশালী জায়গায় দীপক মন্ডল আর আলাউল ইসলামদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক, আগে বুদ্ধদেব "ভট্টাচার্য", মমতা "ব্যানার্জী"-এর ব্রাহ্মণ্য এলিটিজম বন্ধ হোক, তারপর নয় সংরক্ষণে ঠিক কি কি সুবিধে SC/ST-রা বেশি পাচ্ছে, সেটা ভাবা যাবে।

Sunday, May 13, 2018

পশ্চিমবঙ্গ - এবিপি গ্রুপ - পরিবর্তন

কিছু বলছিনা, স্রেফ কিছু ঘটনা তুলে দিচ্ছি। ভাবনাটা পাঠকের দায়িত্ব।

২০০৫ সালে জুন মাসে "ষ্টার আনন্দ" বলে একটি বাংলা খবরের চ্যানেল শুরু হয়। সেই চ্যানেলটির একটি ভাগ থাকে এবিপি গ্রুপের হাতে, বাকিটা থাকে ষ্টার গ্রুপের হাতে। ষ্টার গ্রুপ হল Fox News-এর একটি সাবসিডিয়ারি সংস্থা, যার মালিক হলেন রুপার্ট মার্ডক নামক আমেরিকান businessman. ২০১২ সালে "ষ্টার আনন্দ" নাম বদলে নতুন নাম হয় "এবিপি আনন্দ", কারণ রুপার্ট মার্ডকের ষ্টার গ্রূপ ওই চ্যানেলটি চালাতে আর রাজি হয় না; যদিও ভারতে এখনো অব্দি সবথেকে বেশি লাভবান নিউজগ্রূপ ষ্টার নেটওয়ার্কের। ২০১২-এর পরে, এবিপি গ্রুপ সম্পূর্ণরূপে এবিপি আনন্দকে নিজের আয়ত্তে নেয়। 

এই ঘটনা মাথায় রেখে, আরো কিছু ঘটনা দেখে নেওয়া যাক ২০০৫-২০১২-এর মধ্যে।

২০০৫ - রুপার্ট মার্ডকের ষ্টার গ্রূপ ও এবিপি গোষ্ঠী "ষ্টার আনন্দ" নামক বাংলা ২৪-ঘন্টার নিউজ চ্যানেল তৈরী করে। 
২০০৫ - রিপাবলিকান পার্টির আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে নিউক্লিয়ার চুক্তি করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। 
২০০৬ - বামপন্থী দলগুলো UPA সরকারকে বলে যে, এই চুক্তি হওয়ার আগে পার্লামেন্টে গভীর আলোচনা করার প্রয়োজন আছে, কারণ এটা ভারতের স্বায়ত্ত্ব শাসন, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার উপর প্রশ্ন তোলে। 
২০০৭ - মনমোহন সিং নিউক্লিয়ার চুক্তি করার জন্য নিজে থেকেই অনেকটা এগিয়ে যান, পার্লামেন্টকে ধোঁয়াশায় রেখে। 
২০০৭-০৮ - পশ্চিমবঙ্গে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম হয়। 
২০০৭-০৮ - আনন্দবাজারের আনন্দ-প্রকাশনীর বিশিষ্ঠ লেখকগোষ্ঠী এবং অন্য বুদ্ধিজীবীরা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জন্য পথে নামেন। 
২০০৭-০৮ - আনন্দবাজার, এবিপি আনন্দ-সহ এবিপি গ্রুপের সমস্ত প্রিন্ট ও নিউজ মিডিয়া পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বলতে থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আনন্দবাজার-গোষ্ঠীর বিশিষ্ঠ লোকেরা সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত কথা বলেন। এবিপি আনন্দতে মমতা ব্যানার্জি নিজেও কয়েকবার একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। 
২০০৮ - বামফ্রন্ট কেন্দ্রের UPA-সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেয়, কারণ কংগ্রেস নিউক্লিয়ার চুক্তি সাইন করতে বদ্ধপরিকর ছিল। বামফ্রন্ট এই চুক্তিকে কখনোই স্বীকৃতি দিতে চায় না। 
২০০৮ - UPA তাও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখে, অন্য দলগুলির সাহায্যে। 
২০০৮ - UPA-সরকার আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে নিউক্লিয়ার চুক্তি সাইন করে। 
২০০৯ - বামফ্রন্ট লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ১৫টি আসন পায় পশ্চিমবঙ্গে (আগে ছিল ৩৫টি)। 
২০১১ - বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারায়। 
২০১২ - হিলারি ক্লিনটন তার ৩-দিনের ভারত সফরে, পশ্চিমবঙ্গে এসে নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে দেখা করেন। হিলারি ক্লিনটন ছিলেন তখনকার আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট্। তাঁর আগের সেক্রেটারি অফ স্টেট্ ছিলেন কন্ডোলিজা রাইস, যিনি ভারত এবং আমেরিকার নিউক্লিয়ার চুক্তি সাইন করেছিলেন ২০০৮ সালে।
২০১২ - রুপার্ট মার্ডকের ষ্টার গ্রূপ এবিপির সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার শেষ করে দেয়, ষ্টার আনন্দ বন্ধ হয়ে গিয়ে এবিপি আনন্দ শুরু হয়।

আবারো বলি, কিছু বলছিনা, এগুলো শুধুই ঘটনা, হয়তো শুধুই সমাপতন। কিন্তু ভাবতে পারেন, বা ভাবা প্র্যাকটিস করতে পারেন। 
লাস্ট নোট:  পৃথিবীর মধ্যে এখনো একটি মাত্র দেশই সবথেকে বেশি মাত্রায় অন্য দেশের সরকার বদলেছে, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়, সেটা কখনো সামরিকভাবে, কখনো যুদ্ধের মাধ্যমে, বা কখনো অন্য কিছু উপায়ে। তবে শাসন বদলানোর পরে প্রায় সবকটা দেশেরই অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেছে, আর সে ব্যাপারে তারা একদমই care করেনি। 

Monday, February 26, 2018

বামপন্থী বিশ্ব-মানবিকতা ও সচেতনতা

"নিকারাগুয়ায় নিঃসহায় নিম্নবিত্ত নিঃস্ব মানুষদের নিখিরি বানানো চলছে না, চলবে না। গুয়েতেমালায় গণতান্ত্রিক গরীব-গুর্বোদের জোর করে গণধর্ষণ, ওয়াক থু, ওয়াক থু। ... প্রলেতারিয়েতদের পাশে পলিটব্যুরো লড়ছে লড়বে। হনুলুলুতে হারেরেরে হার্মাদদের হুঙ্কারের হামলাবাজিকে, ওয়াক থু, ওয়াক থু।" - ওপেন টি বায়োস্কোপ সিনেমাতে, ঠিক এভাবেই বামপন্থীদের এককালের বিদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধের স্লোগানগুলোকে উপহাস করা হয়েছিল। বিদ্রুপ করতে গিয়ে সামান্য অতিরঞ্জনের দরকার পড়ে, সেটুকু পরিমাণমতোই ছিল। কিন্তু সিনেমাতে এটা উপহাস হলেও, পরের দিকে এই মনোভাবটাই মেইনস্ট্রিমে উঠে আসে। কলেজে পড়াকালীন বেশি মাত্রায় শুনতে শুরু করি যে, কোনো একটা বাইরের দেশে কি হয়ে গেলো, সেই নিয়ে আমরা কেন মাথা ঘামাবো ! আমাদের চাকরি পেতে হবে, রাজ্যে আরো শিল্প দরকার - এসব না ভেবে, কেন আমরা "আমার নাম, তোমার নাম, ভিয়েতনাম"-এর মতো স্লোগানের পিছনে নিজের সময় ব্যয় করবো !

গত কিছুদিনে সিরিয়ায় বম্বিং-এর তীব্রতা বাড়ায়, দেখলাম অনেক মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলছেন। অন্তত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন, সমবেদনা অনুভব করেছেন। শেষবার কলকাতা গিয়ে দেখে এসেছি, সিপিএম পার্টিটার শেষটুকু চিহ্নও প্রায় আর নেই। খুব আশাব্যঞ্জক অবস্থা ! কিন্তু এককালে পার্টিটার যে মনোভাবকে উপহাস করা হতো, সেই ভাবধারাকে ভিত্তি করেই যে আজ সিরিয়ার যুদ্ধের প্রতিবাদ করতে বলছে খুব সাধারণ মানুষও - সেটাও কম আশাব্যঞ্জক নয় (হয়তো ওটাই একমাত্র আশা)। ওখানে (এবং অন্যান্য জায়গায়) সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির যে শক্তি প্রদর্শন চলছে, তা নিয়ে আগে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো আলাদা আলাদাভাবে মিটিং মিছিল করতো। এখনো হয়তো ছোট করে কোথাও কোথাও হয়। অচিরেই কিছুদিনের মধ্যে সেই ছোট সভাও বন্ধ হয়ে যাবে। তখনও আশা করি, বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষদের জন্য বাঙালির সহমর্মিতা একইরকম থাকবে। তবে সেই আবেগের সাথে রাজনৈতিক সচেতনতাও যেন থাকে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের geo-political অবস্থানগুলো বেশ জটিল, সেইটুকু বাস্তববুদ্ধি বাঙালির কাছে প্রত্যাশিত। বিশ্ব-মানবতার সাথে এই সচেতন একাত্মতাই বাঙালিকে বিশ্বের নাগরিক করে তোলে, পৃথিবীর ছবিতে "ব"-লাগানো কোনো লোগো নয়।

Thursday, December 07, 2017

বিটকয়েন আর অর্থনীতি | Bitcoin and Economics

বিটকয়েন এর নাম হয়তো অনেকেই শোনেননি। যারা শুনেছেন এবং শোনেননি, সকলের জন্যই লেখাটা। শেষ পর্যন্ত লেখাটা সাধারণ অর্থনীতির দিকে নিয়ে গিয়ে শেষ করবো। যারা এ সম্পর্কে শোনেননি, তাদের উৎসাহ যোগানোর জন্য বলি যে, এখন মাত্র একটি বিটকয়েন-এর মূল্য ১৪-১৬ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। কি করে এই অবিশ্বাস্য ব্যাপার হল, সেটা কিছু পরেই বোঝা যাবে। তার আগে এর সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। 

বিটকয়েন একটি ডিজিটাল কারেন্সি। মানে এর কোনোরকম ফিজিকাল অস্তিত্ব নেই। এই কারেন্সি যদি কিনতে চান, তাহলে আপনাকে অনলাইনেই কিনতে হবে। আপনার একটি প্রাইভেট পাসওয়ার্ড দ্বারা সেই কারেন্সি সুরক্ষিত থাকবে। কিভাবে এটা সুরক্ষিত থাকছে, সেটা বলার জন্য আর একটা লেখা লিখতে হবে। এমন দুর্দান্ত কিছু থিওরি নয়, এবং এই সম্পর্কিত একটি লেখা কিছুদিন পরে পাবেন। তবে এখন আপাতত এটুকু জানলেই চলবে যে, কিছু unsolved mathematical problem-এর জেরেই, আপনার পাসওয়ার্ডের দ্বারা ওই ডিজিটাল কারেন্সি, বিটকয়েন, সুরক্ষিত থাকার ব্যবস্থা আছে। যেমন আপনার সাধারণ টাকা ব্যাংকে সুরক্ষিত থাকে, অনেকটা তেমন করেই। কিন্তু বিটকয়েন শুধু এই নিরাপত্তার জন্য এবং ডিজিটাল হওয়ার কারণেই স্পেশ্যাল, তা নয়। এর একটা অন্য কারণ আছে। 

এই বিটকয়েনকে কোনো সেন্ট্রাল অথরিটি নিয়ন্ত্রণ করছে না। এর মানে হলো, কোনো রিজার্ভ ব্যাংক বা সরকার নেই, যে বলে দিচ্ছে কত বিটকয়েন মার্কেটে থাকবে। অথবা কেউ কোনো অর্থনৈতিক নিয়ম তৈরী করে দিচ্ছে না, যাতে বিটকয়েনের যোগান কন্ট্রোল করা যায়। ফলে বিটকয়েনের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় সরকারের কাছে নেই। এ বিষয়েই পরে আর একটু আলোচনা করবো। কিন্তু তার আগে বিটকয়েনের পিছনে আর একটি প্রযুক্তি কাজ করছে, সে ব্যাপারে জানা প্রয়োজন।

যেহেতু কোনো সেন্ট্রাল অথরিটি বিটকয়েনকে কন্ট্রোল করছে না, তাই এটা বোঝা তো খুব শক্ত যে কার কাছে কত বিটকয়েন আছে! অথবা কেউ অন্য কাউকে বিটকয়েন যদি ট্রান্সফার করে, তাহলে আদৌ সেই বিটকয়েনগুলি ভ্যালিড কিনা এটা যাচাই করার উপায় কি? এর পিছনে আছে একটি নতুন টেকনোলজি, blockchain। আরো সোজা ভাষায়, একটি পাবলিক ledger সিস্টেম। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মেশিনে কপি করে রাখা আছে, একটি public ledger. এই পাবলিক ডেটাবেস বা লেজারে জমা রাখা হচ্ছে সমস্ত transaction বা লেনদেনগুলো। এই public ledger-এ কোনো transaction তখনই ভ্যালিড বলে গণ্য হবে, যখন একটি নূন্যতম সংখ্যক মেশিন (যথাযত সংখ্যাটা বলাটা একটু জটিল) সেটাকে মান্যতা দেবে। এই মান্যতা দেওয়ার পদ্ধতিও বেশ অভিনব। এই মান্যতা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক মেশিনকে করতে হবে কিছু সময়সাপেক্ষ জটিল গাণিতিক ক্যালকুলেশন। যখন নূন্যতম সংখ্যক মেশিন ক্যালকুলেশনগুলি করার পরে কোনো transaction-কে মান্যতা দিলো, তখনই সেই transaction পাবলিক লেজারে বৈধ হিসেবে স্থান পাবে। সেই ক্যালকুলেশনগুলো করতে, আপনার বা আমার সাধারণ ল্যাপটপ বা কম্পিউটার অনেক বেশি সময় লাগিয়ে দেবে। কিন্তু দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের বেশ পাওয়ারফুল মেশিনগুলো তুলনামূলকভাবে কম সময়ে এই ক্যালকুলেশন করতে পারে। এই পাওয়ারফুল মেশিনগুলোকে সমষ্টিগতভাবে কিনেছে আমার বা আপনার মতোই সাধারণ মানুষেরা। তারা এই জটিল ক্যালকুলেশনের পুরস্কারস্বরূপ কিছু নতুন বিটকয়েন পাবেন, এবং এভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন বিটকয়েনগুলি।

মূলত এই হচ্ছে বিটকয়েন সিস্টেম। এই সিস্টেমে কাউকে identify করা খুব কষ্টকর এবং প্রায় অসম্ভব বলা যায়। কারণ পুরো লেনদেনটাই হচ্ছে অজ্ঞাতপরিচয়ে। ফলত কারোর জানার ক্ষমতা নেই, কার কাছে কত বিটকয়েন আছে। এই বিটকয়েনের মূল্য মূলত নির্ধারিত হচ্ছে এর যোগানের অভাব থেকে। এখনো অব্দি মোটামুটি ১৬ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরী করা হয়েছে এবং বাজারে আছে। তবে বিটকয়েন সর্বাধিক তৈরী হতে পারে ২১ মিলিয়ন। গাণিতিক ফর্মুলার জেরেই তার থেকে বেশি বিটকয়েন তৈরী হওয়া আর সম্ভব নয়। ফলে একটা সীমা থেকে যাচ্ছে সর্বমোট বিটকয়েনের। (অনেকটা সোনার সাথে এক্ষেত্রে তুলনা করা যায় বিটকয়েনকে) এখানে যদিও হ্যাকিং বা চুরির সমস্যা আছে। কিন্তু সেই সমস্যা যে কোনো অনলাইন ডিজিটাল মিডিয়ামের থেকে বেশি কিছু নয়, বরং খানিকটা কমই। 

তবে বিটকয়েনের সবথেকে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যটা হল নিয়ন্ত্রণহীনতা। যেহেতু সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই যারা Free Market Capitalism-এর সমর্থক তারা এ ব্যাপারে ভীষণ উৎসাহী। এই কারেন্সির মূল্য ঠিক করে দিতে পারে শুধুই বাজার এবং সেখানের চাহিদা-যোগানের সমীকরণ। সে কারণে তাদের উচ্ছাসের যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু পুঁজিপতিদের সমস্যাও যদিও সেখানেই, নিয়ন্ত্রণ-না-থাকা নিয়ে। কারণ সরকার শুধুমাত্র একটি যন্ত্র, যা পুঁজিপতিদের লাভ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই সেই নিয়ন্ত্রণটুকু চলে গেলে, পুঁজিপতিরা কিভাবে তাদের লভ্যাংশ বাড়িয়ে চলবেন, সেটা বড় চিন্তার কারণ হতে পারে।

যারা anarchy পছন্দ করেন, তাঁদেরও কাছেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় এই বেলাগাম মুদ্রা। কারণ যে established currency-গুলি আছে, সেগুলোর বাধা এড়িয়ে এই মুদ্রাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। আর সে কারণে এই মুদ্রা বিকল্প অর্থনীতির একটা দিক খুলে দিতে পারে। অলরেডি আন্ডারগ্রাউন্ড অর্থনীতিতে এর ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু কোনোভাবেই এই মুদ্রা আমাদের সম্পদের চরম অসামঞ্জস্যকে কমাতে পারবে বলে, আমার মনে হয় না। এখনকার অর্থনীতিকে সাময়িক আঘাত দেওয়া ছাড়া, একে পরিবর্তনের জন্য বিটকয়েনের দিকে না তাকানোই ভালো। বরং এখনকার রাজনৈতিক সিস্টেমের প্রতি মানুষের আস্থা কতটা কমে গেছে, বিশেষত ২০০৮-এর ফিনান্সিয়াল ক্র্যাশ-এর পরে, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যায় বিটকয়েনের মতো সিস্টেমের বিপুল জনপ্রিয়তায়। শেষ পর্যন্ত আমরা তাকিয়ে থাকবো, বিটকয়েন গ্লোবাল কারেন্সি হিসেবে আন্তর্জাতিক বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কতটা সফল হতে পারে, সেই দিকে।  

Saturday, August 19, 2017

বস্টনের বিশে অগস্ট ২০১৭ - Boston's 20th August 2017

শহরে দুটো পরস্পরবিরোধী rally ছিল আজ। এর মধ্যে প্রথম যেটা ডাক দেওয়া হয় সেই rally-টা "Free Speech"-এর জন্য করা হয়েছিল। পরে সেই আপাত "Free Speech"-এর বিপক্ষে একটা counter-protest মার্চের ডাক দেওয়া হয়। "Free Speech" rally-টির উদ্যোক্তারা ছিলেন far right-wing extremist-রা। হ্যাঁ, extremist-দের "free speech" একটু অদ্ভুতই বটে। আর সেই "Free Speech"-এর বিপক্ষের মার্চটা করলেন liberal-activists-রা। মোটামুটি সব শান্ত থাকলেও, সামান্য tension ছিল শহরে। মার্চগুলো হওয়ার সময়ে উত্তেজনা কিছু বাড়ে, কিন্তু খুব বড় কিছু হয়নি, কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু উগ্র দক্ষিনপন্থীদের এই ধরণের সমাবেশ, বস্টনের মতো উদারবাদী শহরে বেশ বেমানান। তাই এই সমাবেশগুলোর পিছনের সামান্য কাহিনী ছোট্ট করে লেখা থাকুক। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টও যখন এই মার্চগুলো নিয়ে tweet করছেন, তখন বিষয়টার বেশ গুরুত্ত্ব আছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

অগাস্ট মাসের প্রথম থেকেই বেশ কয়েকটা ঘটনা গেছে। তারই প্রলম্বিত অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, বস্টন শহরের এই সমাবেশগুলি। কিছুদিন আগেই আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের শার্লটসভিল শহরে জমায়েতের আয়োজন করে কিছু white nationalist-রা। তাঁদের দাবি এই যে, আমেরিকা শুধুমাত্র তাঁদের নিজেদের দেশ; তাই এই দেশের ওপর তাঁদের অধিকার সব থেকে বেশি। অনেকাংশে এই দাবিও করা হয় যে, তাঁরা অন্য জাতিগুলির থেকে মানবিক বৈশিষ্ট্যে উন্নত। সুতরাং, সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি কাজে তাঁদের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তাঁদের নিজেদের স্বার্থ সবাগ্রে দেখার পরই, অন্যের স্বার্থের কথা ভাবা উচিত। তারা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তাঁদের কিছু অতীত সত্যকে। আমেরিকার কনস্ট্রাকশন খুব গোড়া থেকে গড়ে তুলেছেন, দাসত্ব প্রথার ভিতর দিয়ে আফ্রিকার কালো মানুষেরা, white-nationalism-এ বিশ্বাসীরা এই ব্যাপারটা স্বীকার করতে নারাজ। পরের দিকে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে প্রচুর educated migrant worker-রা এসে যে আমেরিকাকে শিক্ষা এবং প্রযুক্তির দিক থেকেও উৎকর্ষতার শিখরে নিয়ে গেছে, সেই সত্যিটাকেও এনারা স্বীকৃতি দিতে চান না। তাঁদের বক্তব্য, আমেরিকার ভূখণ্ডে তাঁদের স্বার্থ বিগ্নিত হচ্ছে। তাঁরা তাঁদের অধিকার ফেরত চান, এবং সেই অধিকার বলার "free speech"-এর জন্যই তাঁদের rally. অন্য জাতির মানুষদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ঘৃণার প্ল্যাকার্ডও দেখা যাচ্ছে এই rally-গুলোতে, এমনকি Nazi-দের স্বস্তিকা লোগো-ও দেখা গেছে। সকলেই ভীষণ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এই rally-গুলোতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁদের এভাবে চটে যাওয়ার কারণ কি?

মোটামুটি গত দশক পর্যন্তও এই পরিমান white nationalism দেখা যায়নি, ku klux klan-জাতীয় উগ্র গোষ্ঠীরা থাকলেও প্রকাশ্যে বড় সমাবেশ করতো না কেউই। কিন্তু গত দশকে অন্যতম বড় যে ঘটনাটা ঘটেছে, তা থেকে আমেরিকা এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি। ২০০৮-এর গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পর থেকে আমেরিকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমেছে। আরো বেশি লোক মাইনে না-বাড়ার ফলে, ঘরবাড়ির লোন দিতে গিয়ে, health care insurance-এর অভাবে গরিব হয়েছেন। অনেক লোক যে চাকরি হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। নতুন যেসব চাকরি তৈরী হচ্ছে, তা বেশিরভাগই ইনফরমেশান টেকনোলজি সেক্টরে। উপরন্তু সেই সব চাকরি আরো বেশি করে চলে গেছে ব্রাজিল, ভারত আর চীনে। যেসব চাকরি এখনো এখানে আছে, তাঁর একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে migrant worker, মানে আমার মতো লোকেদের কাছে। আমেরিকানরা সেই চাকরি পেতে পারছেন না, কারণ সেই চাকরি করতে দরকার প্রযুক্তিগত উচ্চশিক্ষা। আমেরিকানদের চিরকাল এটাই মনে করানো হয়েছে, তাঁদের যেটা পছন্দ সেরকমই শিক্ষা গ্রহন করা উচিত; তাই তারা অনেকেই liberal art-জাতীয় বিষয় পড়তে আগ্রহী হয়েছেন। অথচ তারা যে সমাজে বাস করছেন, সেই high-tech society-র চাকুরিগত কি চাহিদা, সে সম্পর্কে তারা উদাসীন থেকেছেন। ফলে তাঁরা সঠিক টেকনিক্যাল শিক্ষা পাননি। আর এখন যখন সেই শিক্ষা তাঁরা পেতে চাইছেন, তখন আমেরিকার প্রায় সর্বত্র কলেজের টিউশন ফি এতটাই বেশি হয়ে গেছে, যে তারা সেটা afford-ই করতে পারছেন না। সুতরাং, অর্থনীতির কিছু সিদ্ধান্ত সাধারণ সাদা চামড়ার শান্তিপ্রিয় মানুষদেরও কোনঠাসা করে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বারাক ওবামা এখন নেলসন ম্যান্ডেলাকে কোট করতে বাধ্য হচ্ছেন, "No one is born hating another person because of the color of his skin or his background or his religion."

এইরকম একটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে মানুষ অদৃষ্টের কাছে খুব সহজেই আশ্রয় নেন। এখনই তাঁদেরকে বোঝানো সহজ হয় যে, এই সাদা চামড়ার মানুষদের নাকি আলাদা করে সংগঠিত হওয়ার দরকার হয়ে পড়েছে। তা না করলে, তাঁদের অধিকার চলে যাচ্ছে, immigrant, কালো মানুষ বা অন্য কোনো জাতির কাছে। সেই কাজটিই খুব সুন্দর করে পলিটিক্যালি সমাপতিত হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাথে। আর তাই এখানে বেড়ে চলেছে white nationalism-এর বহিঃপ্রকাশ। আরো বেশি মানুষ অসহায় হয়ে, এই অজ্ঞানতার অন্ধকারের দিকে ঝুঁকছেন। বস্টনের মতো শহর, যেখানে সারা বিশ্ব থেকে বিভিন্ন ব্যাকগ্রউন্ডের অসংখ্য ছাত্র এসে পড়াশোনা করে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে extremist-দের জমায়েত। অসহায়তাটা এখানেই যে, শিক্ষার অন্যতম concentration যে শহরে, সেখানেও অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে। আসল সমস্যাটা যে অর্থনীতিগত, কিছু মানুষের disastrous economic decision-এর জন্য যে মানুষ কাজ হারাচ্ছেন, চাকরি পাচ্ছেন না - এই কথাটা এতো শিক্ষার ভিতরেও মানুষকে বোঝানো যায়নি। উন্নত দেশের নাগরিক হয়েও, এখানকার মানুষরা চামড়ার রং, ধর্ম, জন্মস্থানের ভিত্তিতে একে ওপরের দূরে সরে যাচ্ছেন, এবং সেই দূরত্ব রূপান্তরিত হচ্ছে এক কাল্পনিক ঘৃনায়। সমগ্র বর্তমান পৃথিবীটা সেই কাল্পনিক ঘৃণাগুলোরই নামান্তরে প্রতিফলন।

Saturday, July 08, 2017

পৃথিবীর নতুন শক্তির সমীকরণে চীনের অবস্থান - China's position in the new world order

কিছুদিন আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের Mar-a-lago রিসর্টে সপত্নীক এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping. সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্ত্রী, মেয়ে, নাতনীরাও উপস্থিত ছিলেন। মানে অনেকটা ওই ফ্যামিলি গেট-টুগেদারের মতন। তো এরকম পরিস্থিতিতে যেরকম হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক নাতনী তার বাচ্চা-বাচ্চা গলায় একটা চীনের গান শোনালো। গানটার আসল মালিক হলেন চীনের খুব জনপ্রিয় গায়িকা Peng, চীনের প্রেসিডেন্ট Xi-এর স্ত্রী। এবার আবার একটু ভাবুন, ঠিক কি ঘটলো। সামরিক দিক থেকে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্টের নাতনী, বিশ্বের একটি উঠতি দেশের রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর গান শোনাচ্ছে। তাও এমন একটা ভাষায়, যা কিনা ইংরাজীর থেকে সম্পূর্ণ রকম ভাবে আলাদা, এবং বিশ্বের অন্যতম কঠিন একটি ভাষা, চীনা ভাষায়।

এবার আর একটা ঘটনার দিকে চোখ রাখা যাক। প্যারিসে কিছুদিন আগে হয়ে গেলো বিশ্বের গুরুত্ত্বপূর্ণ দেশের প্রধানদের নিয়ে আবহাওয়া-বিষয়ক সম্মেলন এবং আলোচনা। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বললেন যে, তারা এই সম্মেলনে সব দেশের মিলিতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত মানবেন না। কিন্তু অন্য একটি ছোট্ট ঘটনার দিকে আমরা চোখ রাখবো। এই সম্মেলন চলাকালীন, যখন অন্তিম বক্তৃতাগুলি হচ্ছে, তখন সবকটি গুরুত্ত্বপূর্ণ দেশপ্রধানরা মঞ্চে উপস্থিত। সেখানে যখন সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ বক্তৃতাটার সময় আসলো, তখন হঠাৎই, আচম্বিতে, জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান Angela Merkel চীনের প্রেসিডেন্ট Xi-কে বলেন এগিয়ে যেতে। Angela-এর সাথে বাকিরাও একই কথা বলেন। Xi খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন, কারণ তিনি এই ঘটনায় একটু চমৎকৃত হয়ে গেছিলেন। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তিনি বক্তৃতা দেন। কিন্তু এর মানেটা এই, যে বিশ্বের প্রথমসারির নেতারা আবহাওয়ার মতো গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়ে চীনকে অন্যতম প্রধান কান্ডারির দায়িত্ত্ব দিলেন, ভরা মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে ।

প্রশ্ন আসতে পারে, হঠাৎ এই দুটো আপাতভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা কেন বললাম। কারণ দুনিয়ার power-structure-এ একটা tectonic shift যে আসতে চলেছে, এই দুটি ঘটনা তারই ইঙ্গিতবাহী। ১৯৪০-এর সময় থেকে পৃথিবীর সুপারপাওয়ারের ভূমিকা পালন করছিলো সোভিয়েত এবং আমেরিকা। ১৯৯০-এর পর থেকে সেই জায়গাটার দখল নেয় শুধুই আমেরিকা। কিন্তু গত ১০-১৫ বছরে চীনের দুর্দান্ত গ্রোথ-এর পর আপাতত সেটার পরিবর্তন হতে চলেছে। পৃথিবীকে লিড করার জায়গাটা এখন সারা বিশ্বই তুলে দিচ্ছে চীনের হাতে। সেটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (অনিচ্ছায়) হোক, বা জার্মানির Angela Merkel. চীনের অর্থনৈতিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি চীনকে এখন এই লিড করার জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু চীন কি আদৌ প্রস্তুত এই দায়িত্বে?

মনে করুন, প্যারিসে কিভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন, ইতস্তত করছিলেন লিডারের ভূমিকা পালন করতে। ঠিক সেভাবেই, চীন খুব অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন। একাধারে তারা আজ পর্যন্ত কোথাও আমেরিকার মতো বড়দার ভূমিকা পালন করেনি। তারা যেসব আগ্রাসী নীতি ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, বা জাপানের কাছাকাছি নিয়েছে, তার বেশিরভাগই নিজেদের রক্ষার্থে। সেক্ষেত্রে তাঁদের আমেরিকার মতো লিড করার কোনো ইচ্ছে আছে বলে মনে হয় না। এটা পৃথিবীর সামগ্রিক কূটনীতির দিক থেকে যেমন ভালো খবর, তেমনি থেকে যাচ্ছে কিছু প্রশ্নচিহ্নের জায়গা।

আমেরিকার কাছে এমন একটা শক্তি আছে, যা চীনের ভাণ্ডারে প্রায় নেই। আপনি আমেরিকার সিনেমার কথা শুনতে পাবেন, আমেরিকার গানের কথা শুনতে পাবেন। আমরা বব ডিলান শুনি, Martin Scorsese-র ছবি দেখি, লিওনার্ডো-ডি-ক্যাপ্রিও কে ভালোবাসি। কিন্তু বলুন তো আপনি চীনের শেষ কোন সিনেমাটি দেখেছেন? বা চীনের শেষ কোন গানটা আপনার ভালো লেগেছে? ঠিক এই জায়গাটাই চীনের ক্ষেত্রে খুব আশংকাজনক। আমরা তাদের কালচার সম্পর্কে খুব কম জানি। ফলে, তাদের কাছে আমেরিকার মতো soft-power-টা প্রায় অনুপস্থিত। এই ধরণের রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়ে পৃথিবীকে লিড করা খুব কষ্টকর। কিন্তু চীনের ইতিহাসটাও এক্ষেত্রে জানা প্রয়োজন। যে জাতিটা বারবার বাইরের শক্তিগুলোর দ্বারা সম্পূর্ণ রক্তাক্ত হয়ে নিঃশেষ হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছেছিল, যে জাতিটা আবহাওয়ার খামখেয়ালি গ্রাসে বারবার বিধ্বস্ত হয়েছে, তারা যে রক্ষণাত্মক নীতি থেকে খুব সহজে বেরোবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

আর সব থেকে বড় উদ্বেগের বিষয় হল চীনের কম্যুনিস্ট পার্টি। এরা এমনই একটি পার্টি, যার ভিতরের কার্যকলাপ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান শূন্য। আমরা শুধু জানি, এরা meritocracy-তে বিশ্বাস করে, এরা দেশের মধ্যে অনেক সোশ্যালিস্টিক পলিসি নিয়েছে জমি, স্বাস্থ্য এসব বিষয় নিয়ে। আবার আমরা এটাও জানি, এই পার্টিই আমেরিকার উদারবাদের অন্যতম ফায়দা তুলেছে। স্টেট্ ক্যাপিটালিজমের সুযোগ নিয়ে তাঁদের দেশকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু এই পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ ব্ল্যাঙ্ক, কারণ এই পার্টি একদমই স্বচ্ছ নয়, বাইরের জগতের পরিপ্রেক্ষিতে। এরা কি আদৌ এদের ম্যানিফেস্টো মেনে চলবেন, নাকি সম্পূর্ণ অন্য দিকে চীন তথা বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সে সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। এরই মধ্যে আরো উদ্বেগের খবর - চিনে গত এক বছরেই মিলিয়নিয়ারের ভালো রকমের সংখ্যাবৃদ্ধি। (যদিও ক্যাপিটালিজমে সেটাই প্রত্যাশিত)

সুতরাং সব মিলিয়ে চীনের এই আবছায়া অবস্থান আপাতত বিশ্বের ভবিষ্যৎটাও বেশ আবছা করে রেখেছে। সামনের কয়েক বছরে ওদের দিকেই আমরা তাকিয়ে থাকবো খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তের জন্য। তার মধ্যে সব থেকে আগে থাকবে, আবহাওয়ার বিষয়টি। চীন ইতিমধ্যে renewable energy-তে বিপুল ইনভেস্টমেন্ট আরম্ভ করেছে, সেটা আরো অনেকটা বাড়ানো দরকার। এছাড়াও middle-east-এর অনন্তকাল ধরে ঘটে যাওয়া কনফ্লিক্টগুলোর প্রতি চীন কি অবস্থান নেয়, সেটা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ। চীন আফ্রিকার দিকেও নজর দেওয়া শুরু করেছে, যদিও সেটা ব্যবসার স্বার্থে, কিন্তু আফ্রিকার গরিবদের দারিদ্র্য ঘোচাতে ব্যবসাও সহায় হলে সেটা মানুষগুলোর মঙ্গলেই হবে বলে মনে হয়। আর সর্বোপরি আশা করা যায়, চীন আমাদের আর একটা আমেরিকা হয়ে দেখা দেবে না।