Showing posts with label monkharaper_rongguli. Show all posts
Showing posts with label monkharaper_rongguli. Show all posts

Thursday, July 02, 2020

... মতোই ভালো

ওভেনের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই ফিসফিসিয়ে কানে কথা এলো। বাড়িতে কারো থাকার কথা নয়, মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম, কিন্তু তেমন কিছু শুনতে পেলাম না। সন্তর্পনে মাইক্রোওয়েভের কাছে যাচ্ছি, আবারো শুনি, কারা যেন কথা বলছে। একটু দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনে বুঝলাম, আসলে কারো স্মৃতিচারণ চলছে, ব্যস্ততার, নিয়মিত ব্যবহারের। তক্ষুনি অন্য ঘরে যাওয়ার করিডরে আলো জ্বলে উঠলো, একটা কোমলতা নিজস্ব এক ছন্দে হেঁটে আসছে। তাকে আসতে দেখে মনে শান্তি পায়, চারিদিকে এই তুমুল অস্থিরতার সময়তেও ছায়ার মত আরাম লাগে। কিন্তু সেই চলনও তো ছায়াই, ছায়ার মায়ায় মিলিয়ে যায়। চারিদিক তারপরে খালি, শূন্যতা, নিস্তব্ধতা। সারি সারি গাড়ি চলে যাওয়া বিকেলটা একদম নিশ্চুপ হয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে। কিচেন থেকে আর কোনো আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না, ঘরের দরজায় কোনো ঠকঠক নেই। অথচ ঠান্ডা বাতাস বইছে, সমুদ্রের পারের বাতাস, সেই বাতাসের শব্দ এবার পরিষ্কার হচ্ছে। বাতাসও আরাম দিচ্ছে বটে, কিন্তু আন্তরিকতা নেই। ক্লান্তিময় স্বাচ্ছন্দ্য, কোথাও কোনো স্পর্শ নেই, একটুকু ছোঁয়া নেই। শুধু একজনকে একটা তিনতলা বাড়ির জানালায় চশমা পরে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তার চোখ, মুখ, মুখের ভাব, ভাবনা - সব ঝাপসা।

Friday, September 21, 2018

মাঝে মাঝে মনে হয়, একটা প্রলম্বিত জেটল্যাগ চলছে - Sometime it feels like a long jetlag

মাঝে মাঝে মনে হয়, একটা প্রলম্বিত জেটল্যাগ চলছে। গভীর রাত্রে অনেকসময় যখন ঘুম ভেঙে যায়, তখন মনে হয়, কেন ঘুমোবো ! আমার তো এখন জেগে থাকবারই সময়। আমার নিজের যারা - বন্ধু, শত্রু, আত্মীয়, ইত্যাদি - তারা তো সকলেই এখন জেগে, দিনের ব্যস্ততম সময়ে তারা ব্যস্ততায় বন্দী। তাহলে আমি কেন এই নিকষ কালো মুক্তদশার কবলে থাকবো ! এইরকম প্রশ্নই সমস্ত ঘরজুড়ে ঘুরপাক খেয়ে প্রতিফলিত হওয়ার পরে সত্যের সন্ধানী হওয়ার ইচ্ছে হয়। সেই সত্যের খোঁজেই বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমকে আপন করে নেওয়া - গান, লেখা, কবিতা। এসব কিছুতেই সেই সত্যকে তুলে ধরার এক যারপরনাই চেষ্টা। কিন্তু সেই সত্যানুসন্ধান আসলে একটা ঢাল। প্রকৃতপক্ষে এসব শিল্প যে সৃষ্টি করছি, এগুলো পুরো ট্র্যাশ, বোগাস, গার্বেজ। স্রেফ কোনো মূল্য নেই এগুলোর। এগুলো শিল্প বলে ভাবার নূন্যতম স্তরেও পৌঁছনোর যোগ্য নয়। তাই জন্যই সত্যানুসন্ধানের একটা ভেক ধরতে বাধ্য হতে হয়, নাহলে তো সৃষ্টির কোনো সার্থকতা থাকেনা। তবে এই সত্য-মিথ্যার আড়ালেই অন্য যে উদ্দ্যেশ্য অজান্তে সাধন হয়, সেটাই পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা -আত্মানুসন্ধান। আত্মায় বিশ্বাস নেই, কিন্তু তাকে সন্ধানে যথেষ্ট বিশ্বাস আছে। নিজের অন্তরটাকে খুঁড়ে বের করার মধ্যে এক পাশবিক আনন্দ যেমন আছে, তেমনি মহাজাগতিক এক তৃপ্তি আছে - হয়তো বা পাশবিক আনন্দটাতেই তৃপ্তি। তবে নিজের ভিতরে সম্পূর্ণ প্রবেশ করার মানে, গভীরে লোকানো আশঙ্কাগুলো - যা কিনা দৈনন্দিন নাওয়া-খাওয়ায় চাপা পড়ে ছিল - সেগুলোকে এক অন্ধকার ঘর থেকে সর্বসমক্ষে আলোয় নিয়ে ফেলা। মৃত্যুচিন্তা তার মধ্যে প্রথম সারির। অধিকাংশ অন্তরখননেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সামান্য ভাবনার বারুদেও, এই চিন্তার ফুলকি বিধ্বংসী আগুনের ধ্বংসলীলা চালায়, মনের অলিতে-গলিতে, মস্তিকের পাড়ায় পাড়ায়। স্রেফ রাস্তায় হাঁটতে থাকা থেকে ল্যাম্পপোস্ট, ট্রাফিক লাইট, স্ট্যান্ডার্ড, আমেরিকা, ভারত, ইতিহাস, সমাজতন্ত্র, স্বাধীনতা, পৃথিবী, প্রক্সিমা সেন্ট্যুরি, মহাজগত, বিগব্যাং, ব্ল্যাক হোল এবং... আমি। আসলে তো আমার কোনো অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্ব নেই এই ভাবনাটারও। মৃত্যুর যদিও অস্তিত্ব আছে, আমাদের একমাত্র নিশ্চয়তা। সেটারই স্থায়িত্ব নির্ধারিত। আর একটা প্রচণ্ড চিৎকার, এবং শুধুই তার থেকে যাওয়া আছে, তারও অস্তিত্ব আছে। গান, লেখা - এসবের কোনো অস্তিত্ব নেই, লেখার কোনো মূল্যও নেই। কারণ লেখা অনেক সহজ, বাঁচা অনেক কঠিন।
মাঝে মধ্যে মনে হয়, একটা প্রলম্বিত জেটল্যাগের মধ্যে রয়েছি, গত চার বছর ধরে।

Sunday, September 16, 2018

মন তরে কেবা পার করে

ভীষণ গোলাপী মতন হয়ে আকাশের গায়ে সন্ধ্যের ছায়া পড়তে শুরু করেছে। বোম্বে রোড ধরে চলে এসে কিছুক্ষনের ভিতরেই কলকাতাকে পেরোনো হয়ে গেছে। সেখানকার মেকী মনুষ্যত্ব, নাক-উঁচু স্বভাব গা থেকে ঝরে গেছে। মাটির কাছাকাছি, খুব খুব কাছাকাছি যাওয়া হচ্ছে। আকাশ গোলাপী রঙে সেজে উঠে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। যে নদীকে একটু আগেই অচেনা মহিলা লেগেছিল, এখন সে যেন কত চেনা পুরনো বান্ধবী। এইভাবে শ্রান্ত সন্ধ্যের মাঝে ওর সাথে বসে থাকতে থাকতে, হয়তো এই পুরনো বান্ধবীর প্রেমে পড়বো। এরই তো প্রেমে পড়া যায়। কি হবে আর বন্ধুত্বের দূরত্ব রেখে! ওই তো, একটা নৌকো দেখা যাচ্ছে। ওতে করে বেরিয়ে পড়ছি দুজনে মিলে। এরই মধ্যে,  ভাটিয়ালি গান শুরু হয়েছে। মাঝিভাই এক প্রান্তে বসে গানের ভেলায় দাঁড় বাইছেন। আমি আর নদী একদিকে শুয়ে আছি, পাশাপাশি। অকূল দরিয়ার গান শুনতে শুনতে উপরে দেখছি, কিভাবে তারারা একের পর এক কালো হতে থাকা আকাশের প্রান্তরে অবিন্যস্ত ভাবে দাঁড়াচ্ছে। এরই মাঝে আমার সদ্য হওয়া প্রেমিকা নদী গেয়ে উঠছে, "মাঝি তোর নাম জানিনা, আমি ডাক দিমু কারে, মন তরে কেবা পার করে"। এত বেদনা, কিন্তু তার মধ্যেও জীবনতরী বেয়ে চলার কি ভীষণ আর্তি! নদীর কণ্ঠ্যে যে কি আছে! দেহে শিহরণ হচ্ছে, কিন্তু চোখে জল, ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে। নদীকে জিজ্ঞাসা করতে গেলাম, "মেঘে ঢাকা তারাতে এই গানটা..."। নদী গান থামাল না, সদর্থক মাথা নাড়লো। আকাশ থেকে দূরে পাড়ের দিকে চোখ নেমে এলো, ছোট্ট ঘুপচির ভিতর টিমটিমে হলদে বাল্ব গুলো জ্বলে উঠছে, একের পর এক। কেউ হয়তো তুলসিতলায় সন্ধ্যাপ্রদীপ দিচ্ছে, আজান শেষে কেউ ঘরে ফিরছে। শাঁখ বাজলেও শব্দ এসে পৌঁছায় না নদীর মাঝখানে।

আচ্ছা নদী, ওপারে যাওয়া যায় না? - আমার কৌতুহল। নদী বলছে, "আমি তো যাই। আমার তো তোমাদের মতন বাঁধন নেই। আমি স্বাধীন।" - নদীর মুখে মৃদু হাসির স্রোত খেলে গেল। কিন্তু সেই স্রোতই আমার মনের ভিতর কি ভীষণ রকম মোচড় দিচ্ছে। এতগুলো মানুষকে একটা পেনের আঁচড়ে ঘর ছাড়া করে দেওয়া হল, আলাদা করে ভেঙে দেওয়া হল। চাইলেও আর যাওয়া যাবে না, শুধু হয়তো কিছু ঘুপচির ক্ষীণ, শান্ত, নিরস্ত্র আলো দেখা যাবে, এপার থেকে। তবু যেতে আমাকে হবেই; তাই উপায় বের করে নদীর দেহে ডুব দিচ্ছি আমি, নদীর সাথে মিশে যেতে। তখন তো আর কোনো বাধা থাকবে না। নদী তো আমার প্রেমিকা, আমাকে নিশ্চই ফিরিয়ে দেবে না। দিচ্ছেও না, ডুবে যাচ্ছি আমি। মুক্তি হচ্ছে আমার, দেশীয় বাধা, বন্ধন, পার্থিব শৃঙ্খল থেকে মুক্তি, কি ভীষণ আনন্দ, কি দারুন পরিতৃপ্তি! কি মিঠা জল, কি শীতল, কি স্নিগ্ধ! আমি বুঝতে পারছি, আমার মৃত্যু হচ্ছে, আরো গভীরে চলে যাচ্ছি নদীর, কিন্তু কোন কষ্ট হচ্ছে না। সমস্ত দুঃখ আমাকে, এই প্রথম বোধ হয়, ছেড়ে চলে যাচ্ছে। গলার কাছে বিশালাকৃতির দলাটা নেমে যাচ্ছে। কিন্তু নিশ্বাস নিতে পারছি না যে! দমটাই শুধু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জৈবিক বাস্তবতা আঁকড়ে ধরছে আমায়। কেউ আমাকে একটু অক্সিজেন দিন না, দাদা একটু অক্সিজেন? - আমি ভিক্ষা চাইছি। কিন্তু কেউ যে নেই নদীতে, সকলে কোনো না কোনো পাড়ে ঠাঁই নিয়েছে, কাউকে পাচ্ছি না। দাদা একটু কেউ সাহায্য করুন না, প্লিজ। দাদা আমি যে বাঁচতে চেয়েছিলাম, দাদা আ আ আ আ আ.... 

উঠে বসলাম, হাঁপাচ্ছি, ভীষণ ভয় করছে, চারিদিক অন্ধকার, শুধু বিছানার একটা কোণে রিডিং ল্যাম্পের আলোটা তাক করা আছে। চারিদিক অন্ধকারের ভিতরে, বিছানায় রাখা বুকমার্ক করা বইটার ওপর ল্যাম্পের আলোটা পড়ে, বইটার নামটা যেন একটু বেশি জ্বলজ্বল করছে, "পূর্ব-পশ্চিম" - আমাদের অবশিষ্ট আইডেন্টিটি।

Monday, December 04, 2017

চৈত্রের হলুদ বিকেল । Yellowish Afternoon of Spring (~ ৪ মিনিট)

শীতকাল। একসাথে মনে পড়ে যাওয়া অনেকগুলো অনুভূতির নাম শীতকাল। কারো কাছে সেটা স্রেফ নলেন গুড়ের মিষ্টি, কারো কাছে বইমেলা, আবার কারো কাছে সরস্বতী পুজো-সহ ছুটির মরসুম। এইসবগুলো ছাড়াও আরো কিছু মুহূর্ত শীতকালকে বয়ে আনে।

বাড়ি থেকে ৩-৪ কিলোমিটারের মধ্যে আছে দক্ষিণ-পূর্ব রেললাইন। রাত্রিবেলা যখন চারধার একদম নিশ্চুপ, তখন দূরে ছুটে যাওয়া ট্রেনটার শব্দে শীতকাল নামে। সেই শব্দ কখনো শুনেছি জয়েন্টের অঙ্ক কষতে কষতে, আবার কখনো প্রেমিকার আধো-আধো-কথার মধ্যেই অজান্তে মিশে গেছে। এখন আর জয়েন্ট নেই, প্রেমিকার আগে প্রাক্তন বিশেষণ বসেছে, কিন্তু শীতকাল আমারই হয়ে রয়ে গেছে। যে শীতকালে তাড়াতাড়ি সন্ধ্যে নেমে আসতো। সেই জন্য একটু আগে ক্রিকেট খেলতে যেতে হতো। দুপুর ৩টে নাগাদ, একটু চড়া রোদের মধ্যে। নাহলে কিছুতেই তিনটে ৮-ওভারের ম্যাচ খেলা যেত না। সেইসব ম্যাচে আমার টিমে যে অলরাউন্ডার, ব্যাট-বল দুটোতেই আমাকে যে ভরসা দিত, সে-ও আর নেই। কিন্তু ওর সাথে ম্যাচ খেলে ফেরার দৃশ্য থেকে গেছে। সেই দৃশ্যেকে আবছায়া করে তুলতো কুয়াশার সাদা চাদর আর রুম্পাদের বাড়ির উনুনের ধোঁয়ার সংমিশ্রণ। সেই ধোঁয়া পেরিয়ে আমরা বাড়ির দিকে যেতাম, গায়ে জ্যাকেট চাপানো হত না। দূর থেকে মা-কে অফিস থেকে ফিরতে দেখতাম, কাজ-করা একটা ঘিয়ে-রঙের চাদর গায়ে। জ্যাকেট না-পড়ার জন্য বকুনি শোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে, অন্য রাস্তা ধরে বাড়ি ফেরার জন্য দৌড় লাগাতাম।

আবার কোনো কোনো দৌড় নন্দনে এসে থেমে যেত। দেরি হওয়ার জন্য অনেক অভিমান শীতকালে জমাট বেঁধে থাকতো। দৌড়ে এসেও সে অভিমান গলানো যেত না, কিন্তু নাটকীয়তায় কাজ হতো। শেষ অব্দি, পাশের মানুষটার হাত ধরে ক্রসিং পেরিয়ে মেট্রোর দিকে যাত্রা। রবীন্দ্র সরোবর, মাফলার, সারি সারি বেঞ্চ, হলুদ আলো, অন্ধকার, শীতকালের উষ্ণতা, কলকাতা-পুলিশ, ফুচকা পেরিয়ে ছোট্ট কোনো রেস্টুরেন্ট। তারপর একটা অটো এসে থামতো, আর গান হতো, "কার সাথে বলো, শব্দ ছুঁড়ে ফিরবো বাড়ি!" বুকের মধ্যে চিনচিন-করা শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফিরতেই হতো। বাড়ির যদিও নিশ্চিত কোনো ঠিকানা থাকে না, সেটা থাকে ঘরের। তাই বাড়ি হয়ে যেত কলকাতার অন্য প্রান্তে প্রযুক্তির-নগরীতে। তখন সেখানে শুনশান রাস্তাঘাট। কপাল ভালো থাকলে লেবু-মাখানো ভুট্টা পাওয়া যেত। অথবা রাতের জন্য রুটি-তরকার আয়োজন করে আনতাম। সেই রাত শেষ হয়ে যেত গিটারের সাথে পানীয়ের মিশ্রনে। কেমন আছে সেই রাত?

প্রশ্ন তো শুধু রাতকে নয়, পুরোনো আরো অনেককে। যেমন, চঞ্চল কি এখনো ডিসাইন করে? সাগর কি এখনো রাতের বেলায় কবিতা লেখে? সেই লেখা কোনো সৌম্যকে পড়াতে আসে? শফিকুল কি রাতে হিন্দি গান গায়? কেউ কি সাথে আনাড়ি গিটার বাজায়? সুখময় কি মন-খারাপ হলে সৌম্যকে ফোন করে, চারপাশের হলুদ আলোয় একটু বেড়িয়ে আসার জন্য? বাণীব্রত সিপিএমকে গালি দেয়, তৃণমূলের দিন-বদলের স্বপ্ন দেখে? অংশুমান কি এখনো abstract painting করে, নাকি ওর জীবন এখন বড়ই বাস্তব, সেখানে বিমূর্ততার বিলাসিতা নেই ! শীতকাল এই প্রশ্নগুলোর সামনে বারবার ছুঁড়ে ফেলে আমায়। 

এখন আমি কম তাপমাত্রার ঠান্ডা সর্বক্ষণ পাই, কিন্তু সে ঠান্ডায় "শীতকাল" নেই। যে শীতকাল অপেক্ষা করতে বলে উষ্ণতার জন্য, খুব জবুথবু হয়েও। যে শীতকাল ফাল্গুন-চৈত্রের দিকে চেয়ে থাকে। সেই শীতকালেই এখনো বসে আছি আমি। অপেক্ষা করছি সৌম্য, চঞ্চল, সাগর, শফিকুল, এদের সব্বার। গিটার হাতে "চৈত্রের কাফন" গাইবার চেষ্টা করছি A-মাইনরে। স্ট্রামিং করতে পারছি না ভালোমতো, শিখতে চেষ্টা করছি। এই result-oriented money-market-এ শেখার কোনো মূল্য নেই জানা সত্ত্বেও, নতুন স্ট্রামিং প্যাটার্নটা হাতে তোলার চেষ্টা করছি। কারণ শীতকালেই বোধ হয় "চৈত্রের কাফন"-এর সুর আসে, যে সুরে আদ্যন্ত মনখারাপকেও আপন করে নেওয়া যায়। শীতকাল আমাকে অপেক্ষা করাচ্ছে, "চৈত্রের হলুদ বিকেলে"র। আমি চেয়ে আছি আকাশের সাদা মেঘের দিকে। সেই মেঘে আঁকা আছে শীতকালের প্রতীক্ষা, শুধুই চৈত্রের জন্য। 

Wednesday, August 23, 2017

ফ্ল্যাশব্যাক - Flashback

ইন্টারভিউ দেখতে বেশ ভালো লাগে আজকাল। মেকী ইন্টারভিউ নয়, সামান্য মন-খোলা এবং সোজাসাপটা প্রশ্নোত্তর-সম্বলিত ইন্টারভিউ। কিংবা শুধু ভালো আলোচনাও চলতে পারে। সেসব কথোপকথনে যদি নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়, তবে আরও বেশি পছন্দ হয়। এহেন একটি ইন্টারভিউতে কবীর সুমন একবার বলেছিলেন, কিছু গান আছে, যেগুলোতে গলায় আবেগ না এনে, সোজাসুজি গাইতে হয়। "এ তুমি কেমন তুমি" গানটার প্রসঙ্গে, জাতীয় পুরস্কারের পর উনি এই মতামতটা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয়, অনেক গানের ক্ষেত্রেই এই কথাটা খাটে, বিশেষত বেশ কিছু রবীন্দ্রসংগীতের ক্ষেত্রে তো বটেই। আসলে অনেক গানের ক্ষেত্রে, কথা ও সুরটাকেই তার ম্যাজিকটা করতে দিতে হয়, কণ্ঠ্য শুধু কিছু nuance-কে ধরতে সাহায্য করে। "এমন দিনে তারে বলা যায়" - এমনই একটা গান।

মাঠের ধারে গাছের তলায় বসে এসব কথা ভাবছিলাম। ঠিক তখনই হেডফোনে "এমন দিনে তারে"-গানটা শুরু হল, ইমনের গলায়। নাহ, ইমন বড্ড আবেগ দিয়েই গাইছেন, সুমনের বলা নীতিকে ভেঙে দিয়ে। রূপঙ্কর মনে হয় এর থেকে ভালো গেয়েছেন। তবুও কেন জানি না, গানটার সাথে বয়ে চললাম। ইমনের একটা ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম, উনি যখন "তুমি যাকে ভালোবাসো"-গানটা রেকর্ড করেন, তখন সদ্য পুরোনো সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে ওই গানটি খুব নির্লিপ্তভাবে গেয়েও সমস্ত আবেগ ঢেলে দিতে পেরেছিলেন। E minor-কর্ডের সমস্ত বিষাদ ওঁর কণ্ঠ্য ছুঁয়ে আমাদের সকলের হৃদয়ে আছড়ে পড়েছিল। কিন্তু এই গানটিতে কি ইমন একটু বেশিই ভেসে গেছেন তার প্রাক্তনের সাথে কাল্পনিক আলাপচারিতায়, তাই নির্লিপ্ত থাকতে পারেননি?

বেশ উজ্জ্বল ঝকঝকে নীল আকাশে টুকরো কিছু সাদা মেঘই দেখছিলাম এতক্ষন, বেশ মনোরম বাতাসও বইছিল। কিন্তু ইমনের "এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে, তপনহীন ঘন তমসায়"-গাওয়াতেই একটা কাল্পনিক আঁধার নেমে এলো। আমি আকাশের দিকে চেয়ে থেকেই দেখলাম, একটা খয়েরি রঙের গোলটেবিলের দুপ্রান্তে মুখোমুখি বসে আছে - একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। টেবিলের ওপর রাখা আছে, একটি স্ট্যান্ডের ওপর নরম আলোর মোমবাতি। ইমন গেয়ে উঠলেন,

"""
সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভৃত নির্জন চারি ধার ।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অনিবার–
জগতে কেহ যেন নাহি আর ॥
"""
সামান্য রাগই হল রবি ঠাকুরের ওপর। এভাবে দু'জনকে মুখোমুখি বসিয়ে দিলেন, হঠাৎ এতো বছর বাদে, জীবনের সায়াহ্ন যখন দুজনকেই হাতছানি দিচ্ছে ! ইজাজত-এর নাসির-রেখার মনে ঠিক কি চলছিল, একটু যেন অনুভব করলাম। এতো সহজে যে সহজ হওয়া যায় না, আগের জটিলতাগুলোকে পেরিয়ে আসা যায় না, তা বেশ বুঝতে পারছিলাম। রবি ঠাকুর সেই বুঝেই বোধ হয় নির্দেশ দিলেন, উচ্চৈঃস্বরে, "দেশ" রাগের সম্বাদী স্বর "পা" ছুঁয়ে পরের octave-এর "সা" ছুঁলেন।
"""
সমাজ সংসার মিছে সব,
মিছে এ জীবনের কলরব ।
""""
"কলরব"-এর তীব্রতা ধরতেই বোধ হয় রবি ঠাকুর "সা"-তে অনেকক্ষন সুরটাকে ধরে রাখলেন। কিন্তু সেই তীব্র প্রতিঘাতে আমরা সেই যে জীবন-সমাজকে পিছনে ফেললাম, তারপর তো আমাদের সামনে শুধু আমরাই থাকতে পারতাম। আমি ডুবে যেতাম তোমার চোখে, যে চোখে কোনো কলুষ ছিল না। তুমি আশা দেখতে আমার চোখে। আর সেই আশায় আমরা নিমজ্জিত হতাম হৃদয়াবেগের সাগরে। ইমন তখন গাইছেন,
"""
কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে
হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব–
আঁধারে মিশে গেছে আর সব ॥
"""
হ্যাঁ, আমাদের অতীত-দুশ্চিন্তা-সঙ্কোচ তখন যেন আঁধারে হারিয়ে গেছে। এভাবেই ওগুলো অদৃশ্য হোক। তবেই বোধ হয় আমরা বলতে পারবো সমস্ত কথা খোলামনে। আমাদের যে মন একে ওপরের কষ্ট সত্যিই দেখতে চাইতো না। আমি জানি যে, তুমি কখনোই চাওনি আমার চোখে দুঃখ দেখতে। তুমিও জানো যে, আমি চাইনি। কিন্তু আজ আমরা সেই অযাচিত দুঃখ-কষ্টকেই স্বীকৃতি দেব স্বীকারোক্তির সুরে। আমাদের অন্তরজ্বালা ধুয়ে যাবে সেই সততার আবহে। রবীন্দ্রনাথ "দেশ" রাগের বাদী "রে", সম্বাদী "পা" আর "মা" -কে নিয়ে নতুন দ্যোতনা তৈরী করবেন এবং ইমন গাইবেন,
"""
তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার ।
শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে
দু কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার ॥
"""
কিন্তু সত্যিই কি কিছু যাবে আসবে না? তোমার বর্তমান প্রিয়তম কি মেনে নেবে এই সুস্থ সরল বাক্যালাপ? আমার বন্ধু-বান্ধবী আর মনের কাছের মানুষ কি মেনে নেবে তোমার-আমার এই বাঁধনছাড়া কাব্যের আলিঙ্গন? জানি তারা খুব ভালোবাসে আমায়; তোমার ক্লেদাক্ত অবয়বটার কাছে আমায় যেতে দিতে চায় না। কিন্তু তুমি তো আজ "এমন দিনে", তোমার সমস্ত গ্লানি মুছে শুধু স্বচ্ছতার প্রতিমূর্তিতে আবির্ভূত - এ কথা আমি তাদের বোঝাতে পারি না। নিজেকেও বোঝাতে বড় কষ্ট হয়। আমিও তো জানি, যে "তুমি"-কে আজ আমি কল্পনা করছি এখন, অথবা আগেও করেছি, তার কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। ভালোবাসা তো আসলে অন্তরে চাওয়া মানুষটির স্রেফ প্রতিফলন। পৃথিবীতে কোনো মানুষেরই ভালোবাসার বাস্তব প্রতিরূপ বলে তো কিছু হয় না। পুরোটাই কাল্পনিক মূর্তি-গড়া। রবিবাবু ভালোবাসার এই অসম্ভবতা অনুধাবন করলেন এবং ইমন গাইলেন,
"""
ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়,
বিজুলি থেকে থেকে চমকায় ।
"""
এখানে আবার রবিবাবু উঁচু স্বরের আশ্রয় নিলেন উদ্বেলিত বাতাসকে বয়ে আনতে, অসম্ভবকে প্রকাশ করতে। তা'ও আমাদের এই কাল্পনিক দেখা হওয়া তো মিথ্যে হতে পারে না, হোক না সে যতই অস্বাভাবিক। আবহাওয়া আর বিশ্ব-সংসারের বিদ্রোহেও, আমরা একে অন্যকে জানালাম আমাদের নিজেদের দিকগুলো, ভুলগুলো-ঠিকগুলো। 
"""
যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে
সে কথা আজি যেন বলা যায়–
""""
মন আমাদের বহুকালই শান্ত হয়েছিল, আমরা বোধ হয় এবার পরিশ্রান্ত হলাম। আমরা আবারও বুঝলাম, দোষারোপের ভার সময়েরই নেওয়া দরকার, আমরা যে স্রেফ তার গোলামের কাজ করছিলাম। ভালোবাসা আমাদের গভীরে থাকলেও, কবর খুঁড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।
আকাশের দিকে তাকিয়ে এই নাট্যচিত্র দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিলাম যে, তুমি, টেবিল, মোমবাতি - সব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, আর যেন কিছু দেখতে পাচ্ছি না। চোখে আর্দ্রতার অস্বচ্ছতা ঘনিয়ে আসছে। ইমন তখন গান শেষ করছেন,
"""
এমন ঘনঘোর বরিষায় 
এমন দিনে তারে বলা যায়।।
"""

পুনশ্চ: আমাদের এই কথোপকথনের পরেও একটা গান হওয়া প্রয়োজন ছিল, তাই "আমার ভিতর ও বাহিরে" শুরু হল। যেন বলে গেলো, চিঠিগুলো যেন আমরা আকাশের উদ্দেশ্যেই লিখি, একে-অপরকে নয়।

Sunday, November 20, 2016

মনখারাপের রংগুলি - Colors of Melancholia

শেষবার যখন বাড়ি ফিরেছিলাম, এক বন্ধু এক আড্ডায় বলেছিলো যে ফেসবুকটা হল এমন একটা জায়গা যেখানে সবাই তাদের জীবন কতটা ভালো সেটা প্রমান করতে ব্যস্ত। তখনই মনে হয়েছিল, সত্যিই তো, আমরা কে-ই বা আমাদের জীবনের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরি! তুলে না ধরার অনেক কারণের মধ্যে প্রধান হল, করলেই তো অন্য লোকে স্টিরিওটাইপ এবং judge করতে শুরু করবে। সেই জন্য বেশিরভাগ মানুষই খারাপ দিকের কথা share করে থাকেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে হল, মানুষ তো তার স্বভাব-বশতই judgemental, তা আমি যা-ই করি না কেন! তাই ভাবলাম খারাপ দিকগুলো নিয়েও কিছু লেখা এখানে থাকুক। নিজের কাছে যেগুলো আছে, তার মধ্যে থেকেই কিছু কিছু। লেখাগুলোর নাম হোক, মনখারাপের রংগুলি।

পশ্চিমবঙ্গের শীতকালের রাতের একটা অদ্ভুত মায়াবী রূপ আছে। চারদিক ভীষণ শান্ত হয়ে যায়। হয়তো খুব দূরে হঠাৎ একটা ট্রেন বা মালগাড়ি চলে যাওয়ার আওয়াজ ভেসে আসে। তাছাড়া বাকি চরাচর জুড়ে এক বহুকাঙ্খিত প্রশান্তি। এতো ডামাঢোল, এতো অসুবিধে, এতো অস্থিরতা - এসব পেরিয়ে এসেও এই আশ্চর্য শান্তি মনে লেগে থাকে। জানিনা বাংলা ছাড়া আর কোথায় কোথায় এই শান্তি থাকে, তবে বস্টনের রাতে থাকে। এডমন্টনেও থাকতো। হয়তো এই শান্তি আসলে রাতের অন্ধকারে আমাদের মনে এসেই ধরা দেয়, কোনো স্থানের তোয়াক্কা না করে! আবার এই শান্তির সাথে পুরোনো কথা, মনখারাপ আর নস্টালজিয়া একসাথে আসে, এ যেন সেই ছোটবেলার এক টাকার চকোলেটের সাথে পাওয়া চরকিটা - যদিও দ্বিতীয়টা ফ্রিতে পাওয়া কিন্তু দুটোই সমান দামি।

সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনখারাপের রংগুলোতে আজ প্রথম ছোপ পড়ুক কলেজের।এখন স্থানীয় সময়ে যটা বাজছে, এই রকম গভীর রাতগুলোতে কলেজে কি হতো তার কথা বলা যাক। যে রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলে আমরা থাকতাম, সেই "ম্যাকডোনাল্ডস হল্"-এর সুপার উইং-এ ছিল আমার রুম। আমার রুমের দরজা বেশ রাত অব্দি খোলা থাকতো। তখন কেউ হয়তো আশেপাশের কোনো রুম থেকে আসতো আমার কাছে, হন্তদন্ত হয়ে। এসে বলতে শুরু করলো, "সোহম, সব শেষ, এভাবে পারা যায়না। আমি এভাবে বেশিদিন টানতে পারছিনা, আজ সব শেষ করে দিলাম, একদম final break-up." এবং তার পরেও কিছু কথা এই নিয়ে। অগভীর মন নিয়ে গভীর জীবনবোধ চর্চা করার চেষ্টা চলত।

সেই ছেলে চলে যাওয়ার পর হয়তো এলো আর একজন কেউ। যে হয়তো কলেজের অন্য সব রেসিডেন্সিয়াল হলগুলো ঘুরে এসেছে। তার কাছে অন্য লোকেদের খবর থাকতো, সেগুলো নিয়ে কথাবার্তা শুরু হতো। যাদের যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে তাদের ফেসবুক দেখা থেকে শুরু করে কোনো সিনিয়রের লিংকড-ইন অব্দি দেখে ক্লান্ত হয়ে, সে চলে যেত। তার পরেই হয়তো আবার আগের ছেলেটি ফিরে আসতো, তবে এবার ধীরে ধীরে। তার এবার বক্তব্য, "জানিস মেয়েটা ভালোই, আসলে ওর আগের জীবনের এতো কষ্ট, তাই কখন কি করে, ঠিক থাকে না, সব মিটিয়ে নিলাম বুঝলি।"

এভাবে আধ-ঘন্টার ব্যবধানে মানুষের জীবন পরিবর্তন হতে দেখা চলতে থাকতো। কেউ হয়তো রাতে এসে দুটো গান গেয়ে গেলো। কারো আবার রাতে নাচতে ইচ্ছে করেছে বলে, কোনো অবক্ষয়ী বঙ্গ-মানসিকতার গান খুব জোরে স্পিকারে চালিয়ে, তারা নাচের মাধ্যমে শরীরের কিছু মেদ ঝরিয়ে গেলো। কোনো সিনিয়র এসে হয়তো আবার তার নতুন কবিতা শুনিয়ে গেলো, কিন্তু সেই কবিতার ভাষার সাথে পরমুহূর্তেই তার গালাগালির ভাষাকে মেলানো যেত না।

তবে এ শুধু আমার নয়, বছরের পর বছর, এভাবেই সব রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলের কোনো না কোনো উইং-এ এরই রকমফের হয়ে চলেছে। কারোর না কারোর দরজা এভাবেই এখনো খোলা আছে, আজ থেকে বহুবছর আগেও যেমন ছিল, আবার পরেও যেমন থাকবে। এখনও এখানে আমার নিজের একলা ঘরের দরজা রাতের দিকে খোলাই রাখি। এখানেও থাকে অন্য রুমমেটরা, আমার সাথে পাশের অন্য ঘরগুলোতে। শুধু এখন আর কেউ তাদের জীবন নিয়ে আমার দরজার এপারে আসে না। তাদের সাথে হয়তো এখন ফিফা খেলা হয় আজকালকার X-Box-এ। তবে সত্যিটা তো এটাই যে, আমাদের সবার জীবনেই মাঝে কেটে গেছে বেশ কতগুলো বছর। সবার জীবনের চারিদিকেই হয়তো এসে গেছে কতগুলো স্তর, সেগুলো নিয়ে বোধ আর নাড়াচাড়া না করাই ভালো। তাদের কথা, আমার কথা যে যার ঘরের দেওয়ালে ধাক্কা খায় আর অবশেষে মিলিয়ে যায়। যেভাবে আমরাও মিলিয়ে যাবো একদিন...