Sunday, November 20, 2016

মনখারাপের রংগুলি - Colors of Melancholia

শেষবার যখন বাড়ি ফিরেছিলাম, এক বন্ধু এক আড্ডায় বলেছিলো যে ফেসবুকটা হল এমন একটা জায়গা যেখানে সবাই তাদের জীবন কতটা ভালো সেটা প্রমান করতে ব্যস্ত। তখনই মনে হয়েছিল, সত্যিই তো, আমরা কে-ই বা আমাদের জীবনের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরি! তুলে না ধরার অনেক কারণের মধ্যে প্রধান হল, করলেই তো অন্য লোকে স্টিরিওটাইপ এবং judge করতে শুরু করবে। সেই জন্য বেশিরভাগ মানুষই খারাপ দিকের কথা share করে থাকেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে হল, মানুষ তো তার স্বভাব-বশতই judgemental, তা আমি যা-ই করি না কেন! তাই ভাবলাম খারাপ দিকগুলো নিয়েও কিছু লেখা এখানে থাকুক। নিজের কাছে যেগুলো আছে, তার মধ্যে থেকেই কিছু কিছু। লেখাগুলোর নাম হোক, মনখারাপের রংগুলি।

পশ্চিমবঙ্গের শীতকালের রাতের একটা অদ্ভুত মায়াবী রূপ আছে। চারদিক ভীষণ শান্ত হয়ে যায়। হয়তো খুব দূরে হঠাৎ একটা ট্রেন বা মালগাড়ি চলে যাওয়ার আওয়াজ ভেসে আসে। তাছাড়া বাকি চরাচর জুড়ে এক বহুকাঙ্খিত প্রশান্তি। এতো ডামাঢোল, এতো অসুবিধে, এতো অস্থিরতা - এসব পেরিয়ে এসেও এই আশ্চর্য শান্তি মনে লেগে থাকে। জানিনা বাংলা ছাড়া আর কোথায় কোথায় এই শান্তি থাকে, তবে বস্টনের রাতে থাকে। এডমন্টনেও থাকতো। হয়তো এই শান্তি আসলে রাতের অন্ধকারে আমাদের মনে এসেই ধরা দেয়, কোনো স্থানের তোয়াক্কা না করে! আবার এই শান্তির সাথে পুরোনো কথা, মনখারাপ আর নস্টালজিয়া একসাথে আসে, এ যেন সেই ছোটবেলার এক টাকার চকোলেটের সাথে পাওয়া চরকিটা - যদিও দ্বিতীয়টা ফ্রিতে পাওয়া কিন্তু দুটোই সমান দামি।

সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনখারাপের রংগুলোতে আজ প্রথম ছোপ পড়ুক কলেজের।এখন স্থানীয় সময়ে যটা বাজছে, এই রকম গভীর রাতগুলোতে কলেজে কি হতো তার কথা বলা যাক। যে রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলে আমরা থাকতাম, সেই "ম্যাকডোনাল্ডস হল্"-এর সুপার উইং-এ ছিল আমার রুম। আমার রুমের দরজা বেশ রাত অব্দি খোলা থাকতো। তখন কেউ হয়তো আশেপাশের কোনো রুম থেকে আসতো আমার কাছে, হন্তদন্ত হয়ে। এসে বলতে শুরু করলো, "সোহম, সব শেষ, এভাবে পারা যায়না। আমি এভাবে বেশিদিন টানতে পারছিনা, আজ সব শেষ করে দিলাম, একদম final break-up." এবং তার পরেও কিছু কথা এই নিয়ে। অগভীর মন নিয়ে গভীর জীবনবোধ চর্চা করার চেষ্টা চলত।

সেই ছেলে চলে যাওয়ার পর হয়তো এলো আর একজন কেউ। যে হয়তো কলেজের অন্য সব রেসিডেন্সিয়াল হলগুলো ঘুরে এসেছে। তার কাছে অন্য লোকেদের খবর থাকতো, সেগুলো নিয়ে কথাবার্তা শুরু হতো। যাদের যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে তাদের ফেসবুক দেখা থেকে শুরু করে কোনো সিনিয়রের লিংকড-ইন অব্দি দেখে ক্লান্ত হয়ে, সে চলে যেত। তার পরেই হয়তো আবার আগের ছেলেটি ফিরে আসতো, তবে এবার ধীরে ধীরে। তার এবার বক্তব্য, "জানিস মেয়েটা ভালোই, আসলে ওর আগের জীবনের এতো কষ্ট, তাই কখন কি করে, ঠিক থাকে না, সব মিটিয়ে নিলাম বুঝলি।"

এভাবে আধ-ঘন্টার ব্যবধানে মানুষের জীবন পরিবর্তন হতে দেখা চলতে থাকতো। কেউ হয়তো রাতে এসে দুটো গান গেয়ে গেলো। কারো আবার রাতে নাচতে ইচ্ছে করেছে বলে, কোনো অবক্ষয়ী বঙ্গ-মানসিকতার গান খুব জোরে স্পিকারে চালিয়ে, তারা নাচের মাধ্যমে শরীরের কিছু মেদ ঝরিয়ে গেলো। কোনো সিনিয়র এসে হয়তো আবার তার নতুন কবিতা শুনিয়ে গেলো, কিন্তু সেই কবিতার ভাষার সাথে পরমুহূর্তেই তার গালাগালির ভাষাকে মেলানো যেত না।

তবে এ শুধু আমার নয়, বছরের পর বছর, এভাবেই সব রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেলের কোনো না কোনো উইং-এ এরই রকমফের হয়ে চলেছে। কারোর না কারোর দরজা এভাবেই এখনো খোলা আছে, আজ থেকে বহুবছর আগেও যেমন ছিল, আবার পরেও যেমন থাকবে। এখনও এখানে আমার নিজের একলা ঘরের দরজা রাতের দিকে খোলাই রাখি। এখানেও থাকে অন্য রুমমেটরা, আমার সাথে পাশের অন্য ঘরগুলোতে। শুধু এখন আর কেউ তাদের জীবন নিয়ে আমার দরজার এপারে আসে না। তাদের সাথে হয়তো এখন ফিফা খেলা হয় আজকালকার X-Box-এ। তবে সত্যিটা তো এটাই যে, আমাদের সবার জীবনেই মাঝে কেটে গেছে বেশ কতগুলো বছর। সবার জীবনের চারিদিকেই হয়তো এসে গেছে কতগুলো স্তর, সেগুলো নিয়ে বোধ আর নাড়াচাড়া না করাই ভালো। তাদের কথা, আমার কথা যে যার ঘরের দেওয়ালে ধাক্কা খায় আর অবশেষে মিলিয়ে যায়। যেভাবে আমরাও মিলিয়ে যাবো একদিন...

Wednesday, November 09, 2016

তুই আর হিমালয় - You and the Himalaya

Boston, 09-Nov-2016, 08:56 PM

তুইও জানিস, আমিও জানি
সময় ঠিক কতখানি,
মানুষ ঠিকই সুযোগ বুঝে চলে যায়।
আর পাঁচটা ব্রেক-আপে,
যেমন করে মনখারাপে,
তুইও ভাবিস, আমি তেমন অসহায়।

দামি গিটার, সস্তা গলা,
খুশি করতেই ভালো বলা,
এমন করে কটাই বা দিন চালাবি তুই!
আমার চিংড়ি-আলু-পেঁয়াজ,
তোর আরো গম্ভীর কাজ,
Java-তে CPU লাগে সবটুকুই।

তোর অটো স্বপ্ন-নীল,
পদ্যেতে নেই অন্ত্যমিল,
আমার এখনো ছড়া কাটতেই ভাল্লাগে।
শিল্পীরা সব গান পাঠায়,
তোকেই শুধু শোনাতে চায়,
YouTube-এই আমার সারা রাত জাগে।

কবিতাগুলো যেমন করে
ভেসে গেছিলো সুর না ধরে,
তেমনি করেই তোরও জীবন গতিময়।
বন্ধুত্ব বন্ধই রাখ,
আশা করি সুখেই থাক,
তুই, কৃত্তিমতা আর হিমালয়।

ট্রাম্পের জয় - একটি অন্য দৃষ্টিভঙ্গি - Trump's Win - A different perspective

খুব ইচ্ছে করছিল, "পার্লামেন্ট শুয়োরের খোঁয়াড়"-জাতীয় কথা লিখে দিতে বা Bernie Sanders-এর একটা মুচকি হাসির ছবি share করে দিতে। কারণ বেশ ওটুকু করলেই চলত এই election result-এর জন্য। কিন্তু কিছু কথা না জানালে এবং সবথেকে বড় ব্যাপার, কিছু কথা গ্রন্থিত করে না রাখলে, সেটা আজকের সময়ের প্রতি অন্যায় হবে। বড় লেখা, ইচ্ছে থাকলে আর সময় না থাকলে, "save" বলে একটি feature দেয় facebook, প্রত্যেক পোস্ট-এর Top-right corner-এ।

একদম প্রথমেই বলতে হয়, কোনো দেশে থেকে সে দেশকে চেনা আর globalization-এর যুগে সেই দেশের বাইরে বসে সে দেশকে চেনার মধ্যে অন্যতম পার্থক্য হচ্ছে - সেই দেশের মানুষের সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া, যেটা শুধুমাত্র সে দেশে বসেই পাওয়া সম্ভব।

আমেরিকান একটি culture আছে, তা হলো খুব private circle ছাড়া রাজনীতি নিয়ে আলোচনা না করা। অনেকদিনের একটি silent rule বলা যেতে পারে। কিন্তু এখানে এসে থেকেই বুঝতে পেরেছি, মানুষ সেই tradition ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে যেন। obviously, আমি দেশের অন্যান্য জায়গার মানুষের সাথে কথা বলিনি। কিন্তু Boston-এ, মানুষের মধ্যে এই বাঁধন ভাঙার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। সেটা কোনো social science-এর teacher-ই হোক, বা কোনো furniture দোকানের কর্মী। সকলে রাজনৈতিক ভাবে সচেতন শুধু নয়, তাদের মতামত openly বলতেও দ্বিধা করছেন না। এই ধরণের রাজনৈতিক সচেতনতা একটা সমাজের পক্ষে ভালো লক্ষণ। কিন্তু সেই সমাজকে অন্তত তাদের উপযুক্ত leader-কে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

আমরা বাইরে থেকে বলে দিতে পারি, "A nation gets the leader it deserves". হ্যাঁ, অবশ্যই তাই। কিন্তু এই দেশ আজ যেটা পাচ্ছে, সেটা তাদের এখনকার choice-এর ফল তো নয়। এখনকার তাবড় তাবড় মানুষ হয়তো Donald Trump-এর মত মানুষকে চাননি, কিন্তু তাদের কাছে establishment-কে challenge জানানোর মতো আর কাউকে দেওয়াই তো হলো না। তাহলে তারা কি করবেন, তারা তো নিজেদের এই শোচনীয় অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন না, শুধু এটা ভেবে যে বাকি পৃথিবীর কি হয়ে যাবে যদি Trump-এর মত কেউ ক্ষমতায় আসেন। তাদের তো নিজেদের জীবনকে উন্নত করার চেষ্টাটা চালাতে হবে। তারা সেই খড়-কুঁটো আঁকড়ে ধরেছেন।

কিন্তু এখানে এটা তো পরিষ্কার যে কি বিশাল সংখ্যক মানুষ বলছেন যে, না আমরা এই establishment-এর বিরুদ্ধে। এভাবে আমাদের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুই পার্টির দুটি candidate-এর মধ্যে যে ব্যক্তি, standard rule-গুলির ওপর সবথেকে বেশি আঘাত করছে, তাকেই আমরা প্রাধান্য দেব। আমেরিকানরা কিন্তু একজন world-leader choose করছেন না। বেছে নিচ্ছেন নিজেদের বাঁচার উপায়, নিজেদের দেশের রাষ্ট্রপতি।

কিন্তু কিভাবে এলো এই সময়? খুব সহজ ভাষায় বলি, ছোট্ট করে। 1980-90, আমাদের সারা পৃথিবীর সামনে খুলে গেল উদারবাদের নয়া দিশা। ভারতের মতো দেশগুলিতে নতুন upscale jobs। আমেরিকানরা সেই নীতি সমর্থন করলেন। ব্রিটেনেও তাই হলো। ভারত কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল। কিন্তু আমাদের system, unforunately যে একটি zero-sum-game, মানে কেউ এগোলো তো কাউকে পিছাতে হবে। আমেরিকানরা সেই সময় থেকে কাজ হারাতে থাকেন। তাদের salary সেই সময় থেকে stagnant। সুতরাং সেই ভুলের দাম তো তাদের দিতেই হবে, যে তারা তাদের সরকারের মাধ্যমে সেই যুগে তাদের কাজগুলোকে কম দামে developing world-এ পাচার করে দিয়েছিল আর, company গুলোকে মুনাফার সুযোগ করে দিলো। সেই দাম তারা এভাবেই দিলেন।

কিন্তু একটু ভাবুন, কি প্রবল সম্ভাবনার কথা বলে যাচ্ছে এই সব election-গুলো। মানুষ তারস্বরে বলছে, আমরা এই সিস্টেমের প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে পারছিনা, এর জন্য তারা যে কোনো এক extreme প্রান্তে চলে যেতেও প্রস্তুত। ভারতের মানুষের কাছে শুধুই BJP as the choice, মানুষ বললেন, তাই সই, যতই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আগে যা-ই করে থাকুন। গ্রিসে মানুষ আবার বেছে নিলেন বেশি বামপন্থী একটি দলকে, তাদের কঠিন সময়ে। স্পেন-এ একটি far-right party অনেক বেশি seat পেল, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সেই extremism-এর ছায়া। আমেরিকাও সেই একই global-trend থেকে আলাদা নয়।

শেষ করবো আর কয়েকটা কথা দিয়ে, 1930-এ একটি বড়োসড়ো financial depression হয়েছিল এই আমেরিকায়। আজকের 2008-এর থেকেও অনেক বড়। সেই সময় এখানকার communist, socialist পার্টিগুলো খুব পপুলার হয়ে গেছিল। trade union আন্দোলনও জোরকদমে চলে। এইসব তখনকার বড়লোকেরা একদমই ভালো চোখে দেখেননি। communist, socialist সহ সকলকে ban করা হয় রাশিয়ার সাথে connection আছে, সেই অভিযোগে। আর এখন কিছুদিন আগে, একজন নিজেই claim করা democratic socialist, প্রায় presidential candidate হয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরিবর্তন কিন্তু হচ্ছে, এবং তা হচ্ছে, এতদিন ধরে communist জুজু দেখানোর পরেও।

এখানে কিছুদিন আগে Harvard University-তে একটি কর্মী আন্দোলনে কর্মীরা তাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন চালিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন।
আমি সেদিন train-এ করে কলেজ যাচ্ছিলাম। দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ শুনলাম দূরে দুটি White ছেলের কথোপকথনে "Communism" কথাটা উঠে আসছে। লেনিন বলেছিলেন, একটি পার্টির মাধ্যমে আমরা হয়তো পৌঁছে যাবো utopian সমাজের লক্ষ্যে, কিন্তু মানুষ যদি তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হন, সেটুকু খুব খুব জরুরি। সেটা কিন্তু মানুষকে হতেই হচ্ছে, বিলাসের মায়াজাল ছাড়িয়েও। আমার কাছে কোনো পার্টি, বা কারো জয়ের থেকেও, system-কে আঘাত করাটা বেশি আশাজনক।

Sunday, November 06, 2016

কিছু সিনেমা আর কলেজ - Some movies and college

কিছুদিন বাদেই Rock On ২ release করবে। এই প্রসঙ্গে পুরোনো কিছু কথা মনে পড়ে গেলো।

প্রথম Rock On যখন release করে, তখন আমরা সবে কলেজে ঢুকছি। হিন্দি সিনেমাতে এ ধরণের music আগে প্রায় হয়নি। তাছাড়া তখন বাংলায় ব্যান্ড culture খুব পপুলার। ফলে ক্যাকটাস নিয়ে এরকম একটা ফিল্ম খুব আলোড়ন ফেলেছিলো। বেশ জমিয়ে দেখেছিলাম। সেটাই সম্ভবত কলেজের বন্ধুদের সাথে প্রথম সিনেমা। লিপিতে দেখেছিলাম।
Jaane Tu... Ya Jaane Na-ও কতকটা সেই কলেজবেলারই মুভি। ওটাও কলেজের মানুষজনদের সম্পর্ক, আর বন্ধুত্ব, প্রেম এসব গোছের ভালো সিনেমা। সেকালে সেটাই বেশ ভালো লেগেছিলো।

এরপরে ২০০৯, দুটো ফিল্ম, যেটা long-standing প্রভাব ফেলে গেলো। প্রথমে, সেই ফিল্মটি যেটি তখনকার সদ্য জেগে ওঠা ইন্টারনেট আর SMS-pack-এর যুগে just বাইবেল ছিল। সেই যে "অন্তহীন" অপেক্ষার শুরু, এর শেষ বোধ হয় আর নেই। এখনো বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে সেই ভাষায় কথাবার্তা চলে।

দ্বিতীয় সিনেমাটি অবশ্যই 3 idiots. ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নিয়ে এরকম relate করার মতো সিনেমা, তখন দেখতে পেরে দারুন লেগেছিলো।

২০১০, আমার এখন অব্দি জীবনের বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে যাওয়ার শুরুর বছর। তার একটা, একটি বাংলা ছবি নিয়ে। ছবিটা অটোগ্রাফ, তখন ভালো লেগেছিলো, এখন আর লাগে না, তবে সৃজিতের ভালো যে মাত্র ২-৩টে কাজ আছে, তার একটা। তবে যেটা আমার জন্য significant, সেটা ওই ছবির দুটো গান দিয়ে অনুপমের প্রবেশ, আমার জগতে। তারপর থেকে সে জুড়েই আছে। সেই পুজোতে প্রচুর শুনেছিলাম।

২০১১-য় কলেজ নিয়ে না হলেও বন্ধুবান্ধব নিয়ে Zindegi Na Milegi Dubara, কলেজের জন্যই মনে থাকবে। সম্ভবত মেনকাতে দেখেছিলাম, Souvik-এর সাথে। বন্ধুত্ব, জীবনের মানে, আর জাভেদ আখতারের শায়েরি মিলিয়ে বেশ ছাপ ফেলেছিলো।

২০১২-য় আমরা কলেজ ছেড়ে দি। কলেজ ছাড়ার কিছু আগেই কলেজের কাছে PVR হয়, সেখানে দেখা কলেজের শেষ সিনেমা, Kahani. এবং আমি কিন্তু শেষটা guess করতে পারিনি, তবে যে গ্রুপটা গেছিলো, তার কেউ একজন পেরেছিলো।

এরকমই কলেজের প্রতিটা বছরের সাথেই আরো কত কত সিনেমা জড়িয়ে আছে, যেভাবে সবার জীবনেই থাকে। আবার moment-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কিছু কিছু গান। সেসব নিয়ে আবার কোনো একদিন লেখা যাবে...

Friday, September 30, 2016

Dhoni - Movie Opinion

যারা ধোনির ভক্ত তাদের লেখাটি অবশ্যই পড়তে *অনুরোধ* করছি। আর যারা anti-ধোনি, non-ধোনি বা politically correct, তারা সময় থাকলে পড়তে পা(রেন, রো, রিস)।

"Dhoni, you are in the 11.
....
All the best."

সত্যি কথা বলতে, ওপরের দুটো লাইন শোনা এবং তাদের নিয়ে কি বলা হচ্ছে, সেটা দেখতেই আমার যাওয়া। সেটা নিয়ে পরে বলছি।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ছেলে থেকে ভারতের বিশ্বকাপ-জয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক - সত্যিই বেশ রোমহর্ষক কাহিনী। সিনেমা দেখতে যাওয়ার আগে অন্তত বেশিরভাগ দর্শকের এই আশাই থাকবে। সাথে নীরজ পান্ডের ছবি, আগের প্রত্যেকটা সিনেমাই গড়পড়তা হিন্দি সিনেমার থেকে অনেক ভালো। কিন্তু এখানে এসেই ভুল হয়ে গেলো।

প্রথমত, সিনেমাটি অহেতুকভাবে বড়। ৩ ঘন্টা খুব বেশি লেগেছে।

দ্বিতীয়ত, সিনেমাটা বাজারি করতে গিয়ে প্রচুর প্রেমঘটিত ঘটনা ঢোকানো।

তৃতিয়ত, অনেক facts বলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে ঠিকঠাক connect করা হয়নি।

চতুর্থত, এতো বাজে graphics-এর কাজ আজকালকার দিনে আমি দেখিনি। এতো খারাপ ভাবে সুশান্তের মাথা morph করে অন্যের ঘাড়ে লাগানো হয়েছে যে খুবই খারাপ লাগে। তাও শেষের দিকে morphing উন্নত হয়।

মূলত এই চারটি কারণে এটা নীরজ পান্ডের অন্যতম খারাপ সিনেমা। তবে, সুশান্তের অভিনয় এবং ধোনিকে ছবিতে ফুটিয়ে তোলা অসাধারণ। আমার বহু আগে থেকেই সুশান্তকে হিন্দি সিনেমার অন্য mainstream অভিনেতাদের তুলনায় একটু বেশি বুদ্ধিদীপ্ত লাগে। এখানেও বেশ ভালো লাগলো, অন্য কেউ করতে পারতো বলে মনে হয় না।

এবার আসল কথায় আসা যাক। এই সিনেমা কেন হবে? কারণ ধোনি বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন, ধোনি ফাইনালে গিয়ে হারেন না। উনি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে লড়াই করে উঠে আসেন, টিটির কাজ ভালো না লাগলে ছেড়ে দেন, "ভারত"-এর একশো কোটি মানুষের জন্য উনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেলেন, উনি advertisement করেন smartly, উনি বাইক চালান তুমুলবেগে। এরকম মানুষই তো বাস্তবের হিরো থেকে পর্দায় হিরো হয়ে যান।

কিন্তু এসব মানুষদের হিরো দেখানোর জন্য controversy-কে ছেঁটে বাদ দিতে হয়, তাই সারা সিনেমা জুড়ে controversial কথাবার্তা হয়তো মেরেকেটে ১০ মিনিট। সেটা হয়তো একজন active player -এর ক্ষেত্রে আরো জরুরি।

আরো যা জরুরি পর্দার হিরো হতে, তা হল, অন্য কারোর achievement-কে focus না করে শুধু হিরোকে হিরো করে তোলা। সেটাও যথেচ্ছ পরিমানে হয়েছে। আমার কোনোটাতেই আপত্তির কোনো জায়গাই নেই। ফিল্মে তো এরকমই হয়।

কিন্তু একটা জায়গার কথা না বলে পারছি না। সেটা ওই একদম প্রথমের দুটো লাইনের জায়গাটা। তখন প্রচুর সত্যিকারের ক্রিকেট দেখতাম। তাই ম্যাচগুলো মোটামুটি ভালো মনে আছে। ওই ওপরের লাইন দুটো ধোনির ইন্ডিয়ান টিমের ক্যাপ্টেন, হোটেলের ফোনে ধোনিকে বলে। যখন ধোনি তার দ্বিতীয় সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলায় প্রথম দুটো ম্যাচ-এ রান পাননি, তার পরে এবং তৃতীয় ম্যাচের আগে। ধোনি তখন বুঝতে পারছেন না যে তাকে পরের ম্যাচে রাখা আদৌ হবে কিনা ! ছবিতে এরপরে দেখানো হয় যেন ধোনিকে এমনি-ই সেই ম্যাচে তিন নম্বরে নামানো হল। কিন্তু সেটা কি শুধুই দৈববলে হলো নাকি ধোনির তখনকার ক্যাপ্টেন-এর কোনো ভূমিকা ছিল ? যাই হোক, সেই ম্যাচেই ধোনি প্রথম একশো করেন।

যাই হোক, এই ফিল্ম শুধু ফিল্ম হিসেবে একদমই ভালো লাগার নয়, কিন্তু কিছু আবেগের সাক্ষ্মী। এটুকুই এটার থেকে পাওনা। আর ধোনি থাকলেন ধোনির জায়গায়, শুধু আরো একটু বাজারের হলেন। ধোনি legend, আমাদের যে legend-কে ভালো লাগে আমরা choose করে নিই, আমার ক্ষেত্রে সেটা ধোনির প্রথম ক্যাপ্টেনই। চিরকাল ছিল না, কিন্তু আছে, থাকবেও।

Thursday, September 29, 2016

বিদেশে থাকতে পুজো - Pujo while being abroad

গত কয়েক বছরে এই সময়টা মোটামুটি এরকমই। কিন্তু চারপাশের উত্তেজনা-টা উপেক্ষা করতে পারি না। একটা আলাদা গন্ধ, একটা আলাদা চিত্রকল্প আছে, এই সময়টার ।

অনেক ভেবে দেখেছি, আমার এই সময়টাকে ভাললাগা, সকলের ভালোলাগাতেই লুকানো। এতগুলো মানুষের একসাথে সুখী থাকা - তাদের সমস্ত দুঃখ ভুলে, জীবনের যন্ত্রণা ভুলে, পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলে, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ভুলে - তাকে কুর্নিশ জানাতেই হয় ।

এই সময়টার মানে আমার কাছে - একরাশ নস্টালজিয়া। সেগুলোর কিছু কিছুতে ডুবে থাকতে যেমন বেশ লাগে, তেমনি কিছু কিছু আবার খুব আকর্ষণীয় নয়।

খুব ছোটবেলায় গাড়ি ভাড়া হত, সারাদিন হত ঘোরাঘুরি, সাথে থাকত বাড়ির বড়রা, রেস্টুরেন্টে মোগলাই-ও মনে পড়ে।
একটু বড় হতে বন্ধুদের সাথে হেঁটে ঘোরা, কল্লোলিনীকে চেনার সেই শুরু, নিজের মতো করে, ভীষণ ভিতর থেকে, গভীরভাবে। রাতের শহরকে মায়াবী হতে দেখাও শুরু হল, কখনও গাড়ির কাঁচের ভিতর থেকে, কখনও অচেনা টেম্পোর পিছনে খোলা, দমকা হাওয়ায়।

পরে নরম হাত ধরে ঘুরেছি, তখন এক অদ্ভূত দায়িত্ববোধ যেমন অনুভব করেছি, তেমনি প্রচুর মানুষের ভিড়ে ঘনিষ্ঠতার পরশ এক অন্যরকম ভাল লাগা দিয়েছে।

কিন্তু এসবের মাঝেও, আমার কাছে যা সব থেকে প্রিয়, সেটা ওই মেঠো গন্ধের, আপাত জাঁকজমকহীন আড়ম্বরটাই। কিছু খারাপ মুহূর্ত থাকলেও, আন্তরিকতা আর একাকীত্বের মিশেলে, এই অনুভূতি বোধ হয় তুলনারহিত।

একটা বিকেলের বৈঠকি-সম আড্ডা, মায়ের সাথে মামার আর আমার গান, রাতে বড়দের তাস খেলা, এবং পরের বছরগুলিতে আমাদের ধীরে ধীরে সেখানে যোগদান, অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে আলোর মণ্ডপে পৌঁছানো, দুপুরে সকলে একসাথে টেবিলে কতকটা এলাহী খাওয়াদাওয়া, অন্য গ্রামে ভ্যানে করে যাওয়া, আর যাওয়ার মাঝে জোনাকির আওয়াজের সাথে জেনেরেটরের শব্দের এক অম্লমধুর মেলবন্ধন - নাহ, আমার কাছে আনন্দ এই, তার গন্ধও এই ।
আমার জীবনে পুজো হয়ত বড় কিছু নয়, কিন্তু তার এই গন্ধগুলো, এই খুব সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো, তার সাথে জড়িয়ে থাকা মুহূর্তের আনন্দগুলো, এগুলোই হয়ত বলে যায়,

...
...
...

ফিরতে আমাকে হবেই।

মহালয়াটা কি টেকনিক্যালিটি মেনে নিয়ে আজ সন্ধ্যেবেলা এখন চালানো উচিত নাকি মনের শান্তনায় কাল ভোরে ? যদিও ওই কন্ঠ্যে যে কোনো সময়ই, যে কোনো জায়গায় শরৎ আর পুজোর আবির্ভাব হতে পারে...

Tuesday, September 13, 2016

বস্টনের সংগীত - Boston's Music

প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় মঙ্গলবার Cafe ৯৩৯ বলে একটা জায়গায় গায়ক-গীতিকার-সন্ধ্যা-জাতীয় একটা অনুষ্ঠান হয়, Berklee College of Music-এর উদ্যোগে। একজন faculty member থাকেন আর তাকে ঘিরে ৪-৫ জন ছাত্র। সকলেই গায়ক-গীতিকার-এবং-musician. কেউ বাজাচ্ছেন acoustic guitar, কেউ কীবোর্ড, কেউ হয়তো চেলো, কেউ বা বেস গীটার। একটা আলো আঁধারি পরিবেশ; নীল, লাল মৃদু আলো ঘরের বিভিন্ন দিকে জ্বলছে। musician-দের ঘিরে শ্রোতারা বসে আছে বা দাঁড়িয়ে আছে সারা ঘর জুড়ে।

মূলত blues, jazz, american folk ধরণের গান-বাজনা, unplugged এবং acoustic. শুধু যে সুরে সারা ঘরটা ভেসে যাচ্ছিলো তা নয়, কথাগুলোও যে খুব ভিতর থেকে আসা, তা বোঝা যাচ্ছিল। কিছু গান যেমন প্রেম এবং তার চলে যাওয়া নিয়ে, কিছু গান তেমনি সারা বিশ্বে মিলিটারি বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। কান এবং মন দুটোরই যেন একসাথে শ্রান্ত ও সিক্ত হওয়া।

এখানের university join করার কথা যখন চিন্তা করছি, তখন বিভিন্ন জায়গার options-এর মধ্যে বেছে নিতে হতো। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, Berklee College of Music-এর এখানে থাকাটা একটা ছোট্ট factor ছিল। শুধু জ্ঞান এবং বিজ্ঞান নয়, গানবাজনারও ভীষণভাবে শহর এটা। যখন প্রোগ্রামটা শুনে বেরোচ্ছি, রাস্তায় হাঁটার সময় অসংখ্য মানুষকে কোনো না কোনো একটা musical instrument নিয়ে যেতে দেখছিলাম। এর পরে যদি কোনোদিন এই শহরটারও প্রেমে পড়ে যাই, মনে থাকে যেন, যে তার শুরুটা এই দিনেই হয়েছিল।

Thursday, September 08, 2016

প্রত্যয় - Determination

Boston, 8-Sep-2016, 11:19 PM

একটা বিদ্যুৎ বয়ে গেলো
হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে। 
মুহূর্তগুলো কেটে যাচ্ছিল,
অথচ মনে হচ্ছিলো, কেন যাচ্ছে ?
জানি, সময় থমকায় না,
কিন্তু বেগ তো কমাতে পারে।

প্রযুক্তির এই মহাবিস্ফোরণে,
বাস্তব কি একটু হোঁচট খায় না, 
তারও কি ইচ্ছে করে না
একটু জিরিয়ে, আলো-রূপ মাখার ?

এই জন্যেই লোকের অভিযোগ 
বাস্তবের পাষাণস্বরূপ মন নিয়ে।

কিন্তু চারিদিকে কোথাও যেন
অতীতও লুকোচুরি খেলছে।

আর তখনই উধাও হল 
হৃদয়ের সেই অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ,
মনের মধ্যে ফেনিয়ে উঠলো
ভয়ের বড় বড় স্রোত।

সুন্দরের আকর্ষণের মায়া,
তার কাছে যাওয়ার ভয়ের কাছে তুচ্ছ।
এর থেকে বরং 
জীবন যেমন নৌকা হয়েছে,
কিন্তু তার মাঝি নেই,
তেমনই বয়ে যাক। 
নদীর পার দেখতে দেখতে
নৌকো হয়তো কোনোদিন 
সমুদ্রে পৌঁছবে 
সমস্ত উপনদী এড়িয়ে।

আর যদি তা না হয়,
তবে কোনো চরা পড়ে যাওয়া দ্বীপে 
পুরোনো বালিরাশির সাথে মিশে
পৃথিবীর বুকেই ফিরে যাবে।

Saturday, August 27, 2016

ম্রিয়মান পেন - Melancholic Pen

নীল স্রোতে ভেসে যাওয়ার রোমাঞ্চকতা ছেড়ে,
কিছু মুহূর্তের বাস্তবতায় পা-রাখা। 
সাদা-কালো গন্ডি পেরিয়ে
ওপারে যাওয়ার রাস্তাটা দেখতে পাওয়া যায়। 
অ্যাবি রোডের অনেকটা ভেঙে চলে যেতে হয়। 
সেখানেই তো মনে হয় "যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো" ।
ক্রমশ মুছে যাওয়া মুহূর্তগুলোর গ্লানিময় হাতছানি,
কিভাবে যেন টেনে রাখে, জাপ্টে ধরে কোনো ঘূর্ণিপাকে।
বেরিয়ে এসেও কোনো নীল স্রোতে রাস্তাটা ভেসে যায়।
সাদা-কালো গন্ডীগুলো যে জলের নিচে অদৃশ্য এখন।
তবু নীল স্রোতের তোড়ে বয়ে যাওয়া যায় না।
সূর্যের হলদেটে আভায় সব জল-ই বাস্প হয়,
পড়ে থাকে এক ম্রিয়মান পেন।

Thursday, June 16, 2016

প্রাক্তন - Praktan - Movie Opinion

প্রথমে খারাপের কথা বলবো। খুব প্রচলিত এক ঘটনা। আপনার আমার সবার জানা চিত্রনাট্য। তাও সিনেমাটি যতক্ষণ ঘটনাকেন্দ্রিক ছিল, ততক্ষন মানা যাচ্ছিলো। কিন্তু সিনেমাটি যখনই conclusion-এর দিকে এগোতে থাকলো, যখনই একটি মেসেজ-দেওয়া-ধর্মী ছবি হওয়ার চেষ্টা করলো, তখন থেকেই প্রচন্ড বিরক্তিকর হওয়া শুরু হলো।

ঋতুপর্ণা-এবং-প্রসেনজিৎ-এর সংসার ভেঙে যায় কারণ প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার চাকরি-করা, উদারপন্থী মনোভাব মেনে নিতে না পারায়। যদিও ঋতুপর্ণা বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করে যায় সংসার টিকিয়ে রাখার, প্রসেনজিৎ-এর মনোভাবের সামান্য উন্নতি ঘটানোর। কিন্তু প্রসেনজিৎ একজন টিপিক্যাল Indian পুরুষতান্ত্রিক সমাজের product. তিনি Indian double standard-এরও সার্থক নিদর্শন। নারী স্বাধীনতার কথা বলে "স্বাধীনতা" ভুলে যান। অবশ্যই ঋতুপর্ণারও ভুল-ত্রুটি ছিল সংসার না করতে পারার জন্য। কিন্তু সে অনেক চেষ্টা করছিলো সম্পর্ক মেরামতের। সেখানে প্রসেনজিতের কোনো চেষ্টাই ছিল না, বরং expectation ছিল যে প্রচেষ্টা-টা অন্য তরফ থেকেই হবে।

এই পর্যন্ত সব ঠিক-ই ছিল, কারণ এগুলো স্রেফ ঘটনা, মানুষ এরকম হতেই পারেন। মুশকিল হলো যখন ঋতুপর্ণা প্রসেনজিতের বর্তমান স্ত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে দেখে introspection করতে আরম্ভ করলো। এতো strong একটি character, কিন্তু ঐ বর্তমান স্ত্রীর সামনে পড়ে কেমন weak থেকে weaker হতে শুরু করলো। এবং শেষ অব্দি কান্নাকাটি করে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলো, যেন প্রাক্তন সম্পর্কে সেই ভুল করেছে। সিনেমাটির এই aspect-টি-ই প্রচন্ড বিরক্তিকর।

ঋতুপর্ণা একজন independent, strong কিন্তু মানিয়ে নিতে জানা মেয়ে। আর অপরাজিতা সেখানে টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত মেন্টালিটি-এর বাঙালি মেয়ে। হ্যাঁ, এখানে আমি stereotype করছি কারণ "প্রাক্তন"-এর সাফল্য প্রমাণ করে এই টিপিক্যাল মেয়ের মনোভাব কতটা prevalent ভারত ও বঙ্গে। অপরাজিতা আপাতভাবে স্বাধীনচেতা। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে সংসারের জন্য তার একদম নিজের আকাঙ্খা বলে কিছু রাখা যাবে না। তার ইচ্ছেগুলো যেন একদম সংসারের আকাঙ্খার সমার্থক হয়। তিনি চাকরি করতেন আগে, কিন্তু সুযোগ পেয়ে, ঘরে বসে, স্বামীর আয়ে, স্বামীর উন্নতিতে খেয়ে, সংসার করতে তার দ্বিধা নেই। তার নিজের talent-কে বিসর্জন দিতে তিনি কুন্ঠা বোধ করেন না। তার নিজের কোনো initiative নেই। এই হচ্ছে সেইসব mentality থেকে আসা মেয়ে যারা feminism-এর কথা নিয়ে চিৎকার জুড়তে পারেন, কিন্তু রেস্তোরাঁয় date-এ গেলে, expect করেন যে ছেলেটি-ই তার wallet বের করবে।

আর প্রসেনজিতের conclusion-গুলো আরো বিরক্তিকর। তিনি বলছেন তিনি ভালো মানুষ হয়ে গেছেন অপরাজিতাকে পেয়ে। আদপেই তা নয়। তিনি তার মনের মতন ঘরে সাজানো পুতুল পেয়ে গেছেন, তাই তিনি খুশি। এখানে তার দৃষ্টিভঙ্গি কোথায় কি বদলালো, প্রাক্তন সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার পর, তিনি কি শিক্ষা পেলেন - সেটা কেউ জানেনা।

খুব অপ্রত্যাশিত আবার একদিক থেকে প্রত্যাশিত-ও বটে, যে প্রচুর মানুষ সিনেমাটি দেখছেন এবং বলছেন যে তারা relate করতে পারছেন। এটা যদি প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা নামক একটি পপুলিস্ট জুটির ফিরে আসার হুজুগে হয় তাহলে ঠিক আছে, নাহলে মানে দাড়াঁবে, আমরা এখনো সেই male-dominated একটা চিন্তা ভাবনা খুব গভীরে পোষণ করে চলেছি। সব থেকে আগে যেটা দরকার যে মেয়েদের এই চিন্তাভাবনার এক আমূল বদল। এতো এতো উজ্জ্বল উদাহরণের পরেও কেন তারা এই চিন্তা থেকে বেরোতে পারছেন না, সেটা বড় কোনো বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন।

এবার কিছু ভালো কথা বলা যাক। গায়কদের include করাটা খুব পছন্দের। তাছাড়া সমগ্র মুভির sub-plot-গুলোকে "প্রাক্তন" দিয়ে বাঁধাটা বেশ। যদিও সেই প্রাক্তন ভাবনাটা মনের ভিতর আনাটা দর্শকের responsibility. গানগুলো নিয়ে আমার কিছু বলা উচিত না। অনিন্দ্য, অনুপম আমার প্রিয় এবং পছন্দের genre-এর শিল্পী, সেই জন্যে। অভিনয়ে সকলেই ভালো, ঋতুপর্ণাকে বেশি ভাল লেগেছে। Script ভালো, বোধ হয় একটু বেটার করা যেত।

শেষে বলি. নন্দিতা-শিবপ্রসাদের একটা ছোট্ট তারিফ করতে হয় তাদের বাঙালি মনন বোঝার জন্য (এই একই কারণে আমি মমতা ব্যানার্জীকেও ক্রেডিট দিই)। গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে কমার্শিয়াল আর প্যারালেল সিনেমার মাঝে একটা sweet spot ধরে রাখতে চেয়েছেন, সেটা প্রশংসনীয়। মুশকিল হলো সেটা ধরে রাখতে গিয়ে এবং একটা message-দেওয়া জাতীয় সিনেমা বানাতে গিয়ে, সিনেমাগুলি কত-টা ভালো হচ্ছে, তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে, আমার মনে হয়। Personally, ইচ্ছে এবং (সামান্য কিছুটা) অলীক সুখ বাদে বাকি কোনো সিনেমা-ই বেশ ভালো কিছু নয়। ওনারা খুব safe একটা territory-তে খেলছেন। ইচ্ছের মধ্যে যে boldness, যে honesty, যে complication-কে ধরার subtle প্রয়াস ছিল, সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বেলাশেষে-তে সেটা ফিরে পাওয়ার কিছুটা আশা পেলেও "প্রাক্তন" সেটাকে প্রায় শেষ করলো। আমার মনে হয় ওনারা অন্য একটি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছেন। বাংলা ছবির সবচেয়ে খারাপ যে লেভেলটি, ওনারা বোধ হয় সেটিকে উন্নত করতে চাইছেন, যাতে at least কপি-করা, সাবস্টেন্স না-থাকা সিনেমা গুলো, সব থেকে খারাপ ছবি না হয়। সেদিক থেকে প্রয়াস-টা খারাপ না।