Tuesday, September 13, 2016

বস্টনের সংগীত - Boston's Music

প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় মঙ্গলবার Cafe ৯৩৯ বলে একটা জায়গায় গায়ক-গীতিকার-সন্ধ্যা-জাতীয় একটা অনুষ্ঠান হয়, Berklee College of Music-এর উদ্যোগে। একজন faculty member থাকেন আর তাকে ঘিরে ৪-৫ জন ছাত্র। সকলেই গায়ক-গীতিকার-এবং-musician. কেউ বাজাচ্ছেন acoustic guitar, কেউ কীবোর্ড, কেউ হয়তো চেলো, কেউ বা বেস গীটার। একটা আলো আঁধারি পরিবেশ; নীল, লাল মৃদু আলো ঘরের বিভিন্ন দিকে জ্বলছে। musician-দের ঘিরে শ্রোতারা বসে আছে বা দাঁড়িয়ে আছে সারা ঘর জুড়ে।

মূলত blues, jazz, american folk ধরণের গান-বাজনা, unplugged এবং acoustic. শুধু যে সুরে সারা ঘরটা ভেসে যাচ্ছিলো তা নয়, কথাগুলোও যে খুব ভিতর থেকে আসা, তা বোঝা যাচ্ছিল। কিছু গান যেমন প্রেম এবং তার চলে যাওয়া নিয়ে, কিছু গান তেমনি সারা বিশ্বে মিলিটারি বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। কান এবং মন দুটোরই যেন একসাথে শ্রান্ত ও সিক্ত হওয়া।

এখানের university join করার কথা যখন চিন্তা করছি, তখন বিভিন্ন জায়গার options-এর মধ্যে বেছে নিতে হতো। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, Berklee College of Music-এর এখানে থাকাটা একটা ছোট্ট factor ছিল। শুধু জ্ঞান এবং বিজ্ঞান নয়, গানবাজনারও ভীষণভাবে শহর এটা। যখন প্রোগ্রামটা শুনে বেরোচ্ছি, রাস্তায় হাঁটার সময় অসংখ্য মানুষকে কোনো না কোনো একটা musical instrument নিয়ে যেতে দেখছিলাম। এর পরে যদি কোনোদিন এই শহরটারও প্রেমে পড়ে যাই, মনে থাকে যেন, যে তার শুরুটা এই দিনেই হয়েছিল।

Thursday, September 08, 2016

প্রত্যয় - Determination

Boston, 8-Sep-2016, 11:19 PM

একটা বিদ্যুৎ বয়ে গেলো
হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে। 
মুহূর্তগুলো কেটে যাচ্ছিল,
অথচ মনে হচ্ছিলো, কেন যাচ্ছে ?
জানি, সময় থমকায় না,
কিন্তু বেগ তো কমাতে পারে।

প্রযুক্তির এই মহাবিস্ফোরণে,
বাস্তব কি একটু হোঁচট খায় না, 
তারও কি ইচ্ছে করে না
একটু জিরিয়ে, আলো-রূপ মাখার ?

এই জন্যেই লোকের অভিযোগ 
বাস্তবের পাষাণস্বরূপ মন নিয়ে।

কিন্তু চারিদিকে কোথাও যেন
অতীতও লুকোচুরি খেলছে।

আর তখনই উধাও হল 
হৃদয়ের সেই অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ,
মনের মধ্যে ফেনিয়ে উঠলো
ভয়ের বড় বড় স্রোত।

সুন্দরের আকর্ষণের মায়া,
তার কাছে যাওয়ার ভয়ের কাছে তুচ্ছ।
এর থেকে বরং 
জীবন যেমন নৌকা হয়েছে,
কিন্তু তার মাঝি নেই,
তেমনই বয়ে যাক। 
নদীর পার দেখতে দেখতে
নৌকো হয়তো কোনোদিন 
সমুদ্রে পৌঁছবে 
সমস্ত উপনদী এড়িয়ে।

আর যদি তা না হয়,
তবে কোনো চরা পড়ে যাওয়া দ্বীপে 
পুরোনো বালিরাশির সাথে মিশে
পৃথিবীর বুকেই ফিরে যাবে।

Saturday, August 27, 2016

ম্রিয়মান পেন - Melancholic Pen

নীল স্রোতে ভেসে যাওয়ার রোমাঞ্চকতা ছেড়ে,
কিছু মুহূর্তের বাস্তবতায় পা-রাখা। 
সাদা-কালো গন্ডি পেরিয়ে
ওপারে যাওয়ার রাস্তাটা দেখতে পাওয়া যায়। 
অ্যাবি রোডের অনেকটা ভেঙে চলে যেতে হয়। 
সেখানেই তো মনে হয় "যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো" ।
ক্রমশ মুছে যাওয়া মুহূর্তগুলোর গ্লানিময় হাতছানি,
কিভাবে যেন টেনে রাখে, জাপ্টে ধরে কোনো ঘূর্ণিপাকে।
বেরিয়ে এসেও কোনো নীল স্রোতে রাস্তাটা ভেসে যায়।
সাদা-কালো গন্ডীগুলো যে জলের নিচে অদৃশ্য এখন।
তবু নীল স্রোতের তোড়ে বয়ে যাওয়া যায় না।
সূর্যের হলদেটে আভায় সব জল-ই বাস্প হয়,
পড়ে থাকে এক ম্রিয়মান পেন।

Thursday, June 16, 2016

প্রাক্তন - Praktan - Movie Opinion

প্রথমে খারাপের কথা বলবো। খুব প্রচলিত এক ঘটনা। আপনার আমার সবার জানা চিত্রনাট্য। তাও সিনেমাটি যতক্ষণ ঘটনাকেন্দ্রিক ছিল, ততক্ষন মানা যাচ্ছিলো। কিন্তু সিনেমাটি যখনই conclusion-এর দিকে এগোতে থাকলো, যখনই একটি মেসেজ-দেওয়া-ধর্মী ছবি হওয়ার চেষ্টা করলো, তখন থেকেই প্রচন্ড বিরক্তিকর হওয়া শুরু হলো।

ঋতুপর্ণা-এবং-প্রসেনজিৎ-এর সংসার ভেঙে যায় কারণ প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার চাকরি-করা, উদারপন্থী মনোভাব মেনে নিতে না পারায়। যদিও ঋতুপর্ণা বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করে যায় সংসার টিকিয়ে রাখার, প্রসেনজিৎ-এর মনোভাবের সামান্য উন্নতি ঘটানোর। কিন্তু প্রসেনজিৎ একজন টিপিক্যাল Indian পুরুষতান্ত্রিক সমাজের product. তিনি Indian double standard-এরও সার্থক নিদর্শন। নারী স্বাধীনতার কথা বলে "স্বাধীনতা" ভুলে যান। অবশ্যই ঋতুপর্ণারও ভুল-ত্রুটি ছিল সংসার না করতে পারার জন্য। কিন্তু সে অনেক চেষ্টা করছিলো সম্পর্ক মেরামতের। সেখানে প্রসেনজিতের কোনো চেষ্টাই ছিল না, বরং expectation ছিল যে প্রচেষ্টা-টা অন্য তরফ থেকেই হবে।

এই পর্যন্ত সব ঠিক-ই ছিল, কারণ এগুলো স্রেফ ঘটনা, মানুষ এরকম হতেই পারেন। মুশকিল হলো যখন ঋতুপর্ণা প্রসেনজিতের বর্তমান স্ত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে দেখে introspection করতে আরম্ভ করলো। এতো strong একটি character, কিন্তু ঐ বর্তমান স্ত্রীর সামনে পড়ে কেমন weak থেকে weaker হতে শুরু করলো। এবং শেষ অব্দি কান্নাকাটি করে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলো, যেন প্রাক্তন সম্পর্কে সেই ভুল করেছে। সিনেমাটির এই aspect-টি-ই প্রচন্ড বিরক্তিকর।

ঋতুপর্ণা একজন independent, strong কিন্তু মানিয়ে নিতে জানা মেয়ে। আর অপরাজিতা সেখানে টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত মেন্টালিটি-এর বাঙালি মেয়ে। হ্যাঁ, এখানে আমি stereotype করছি কারণ "প্রাক্তন"-এর সাফল্য প্রমাণ করে এই টিপিক্যাল মেয়ের মনোভাব কতটা prevalent ভারত ও বঙ্গে। অপরাজিতা আপাতভাবে স্বাধীনচেতা। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে সংসারের জন্য তার একদম নিজের আকাঙ্খা বলে কিছু রাখা যাবে না। তার ইচ্ছেগুলো যেন একদম সংসারের আকাঙ্খার সমার্থক হয়। তিনি চাকরি করতেন আগে, কিন্তু সুযোগ পেয়ে, ঘরে বসে, স্বামীর আয়ে, স্বামীর উন্নতিতে খেয়ে, সংসার করতে তার দ্বিধা নেই। তার নিজের talent-কে বিসর্জন দিতে তিনি কুন্ঠা বোধ করেন না। তার নিজের কোনো initiative নেই। এই হচ্ছে সেইসব mentality থেকে আসা মেয়ে যারা feminism-এর কথা নিয়ে চিৎকার জুড়তে পারেন, কিন্তু রেস্তোরাঁয় date-এ গেলে, expect করেন যে ছেলেটি-ই তার wallet বের করবে।

আর প্রসেনজিতের conclusion-গুলো আরো বিরক্তিকর। তিনি বলছেন তিনি ভালো মানুষ হয়ে গেছেন অপরাজিতাকে পেয়ে। আদপেই তা নয়। তিনি তার মনের মতন ঘরে সাজানো পুতুল পেয়ে গেছেন, তাই তিনি খুশি। এখানে তার দৃষ্টিভঙ্গি কোথায় কি বদলালো, প্রাক্তন সম্পর্কের ভেঙে যাওয়ার পর, তিনি কি শিক্ষা পেলেন - সেটা কেউ জানেনা।

খুব অপ্রত্যাশিত আবার একদিক থেকে প্রত্যাশিত-ও বটে, যে প্রচুর মানুষ সিনেমাটি দেখছেন এবং বলছেন যে তারা relate করতে পারছেন। এটা যদি প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা নামক একটি পপুলিস্ট জুটির ফিরে আসার হুজুগে হয় তাহলে ঠিক আছে, নাহলে মানে দাড়াঁবে, আমরা এখনো সেই male-dominated একটা চিন্তা ভাবনা খুব গভীরে পোষণ করে চলেছি। সব থেকে আগে যেটা দরকার যে মেয়েদের এই চিন্তাভাবনার এক আমূল বদল। এতো এতো উজ্জ্বল উদাহরণের পরেও কেন তারা এই চিন্তা থেকে বেরোতে পারছেন না, সেটা বড় কোনো বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন।

এবার কিছু ভালো কথা বলা যাক। গায়কদের include করাটা খুব পছন্দের। তাছাড়া সমগ্র মুভির sub-plot-গুলোকে "প্রাক্তন" দিয়ে বাঁধাটা বেশ। যদিও সেই প্রাক্তন ভাবনাটা মনের ভিতর আনাটা দর্শকের responsibility. গানগুলো নিয়ে আমার কিছু বলা উচিত না। অনিন্দ্য, অনুপম আমার প্রিয় এবং পছন্দের genre-এর শিল্পী, সেই জন্যে। অভিনয়ে সকলেই ভালো, ঋতুপর্ণাকে বেশি ভাল লেগেছে। Script ভালো, বোধ হয় একটু বেটার করা যেত।

শেষে বলি. নন্দিতা-শিবপ্রসাদের একটা ছোট্ট তারিফ করতে হয় তাদের বাঙালি মনন বোঝার জন্য (এই একই কারণে আমি মমতা ব্যানার্জীকেও ক্রেডিট দিই)। গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে কমার্শিয়াল আর প্যারালেল সিনেমার মাঝে একটা sweet spot ধরে রাখতে চেয়েছেন, সেটা প্রশংসনীয়। মুশকিল হলো সেটা ধরে রাখতে গিয়ে এবং একটা message-দেওয়া জাতীয় সিনেমা বানাতে গিয়ে, সিনেমাগুলি কত-টা ভালো হচ্ছে, তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে, আমার মনে হয়। Personally, ইচ্ছে এবং (সামান্য কিছুটা) অলীক সুখ বাদে বাকি কোনো সিনেমা-ই বেশ ভালো কিছু নয়। ওনারা খুব safe একটা territory-তে খেলছেন। ইচ্ছের মধ্যে যে boldness, যে honesty, যে complication-কে ধরার subtle প্রয়াস ছিল, সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বেলাশেষে-তে সেটা ফিরে পাওয়ার কিছুটা আশা পেলেও "প্রাক্তন" সেটাকে প্রায় শেষ করলো। আমার মনে হয় ওনারা অন্য একটি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছেন। বাংলা ছবির সবচেয়ে খারাপ যে লেভেলটি, ওনারা বোধ হয় সেটিকে উন্নত করতে চাইছেন, যাতে at least কপি-করা, সাবস্টেন্স না-থাকা সিনেমা গুলো, সব থেকে খারাপ ছবি না হয়। সেদিক থেকে প্রয়াস-টা খারাপ না।

Sunday, April 03, 2016

ভুলে যাওয়ার তরী - The boat of forgetting

এডমন্টন, এপ্রিল ৩; ১:১৭ এ.এম

আমায় তুমি ভুলিয়ে দেবে নীলচে ডাঙার কাছে,
নেই কোনো আর নতুন চাওয়া তোমার, আমার কাছে।

যে স্বপ্ন দেখেছিলেম তোমায় আমায় মিলে,
আজ যেন তা ভীষণ ফাঁকা, তুমি গেছো চলে।

যাও, তোমার যাওয়ারই ছিল, কোনো না কোনদিন,
একলা জীবন বাইব আমি, তরী সঙ্গীহীন।

তুমি থাকবে কল্পনাতেই, যেমন ছিলে আগে,
মাঝে-সাঝে পড়বে মনে, যখন ভালো লাগে।

Friday, December 25, 2015

আবার অগোছালো - Again Unkempt

Kolkata, 23-Dec-2015, 12:41 AM

আবার খুব অগোছালো লাগছে,
তোমাকে ছাড়া আমার জীবন যেমন লাগত
তোমাকে নিয়ে ভাবতাম,
কোনো কবিতাই লিখব না,
অথচ সেই তোমায় নিয়েই সর্বাধিক লেখা। 
আজ হঠাত ই তোমার শরীরের 
সুক্ষ কিছু কথা মনে পড়ে গেল। 
সেখান থেকে তোমাকে আমার ভালবাসার কথা,
কাঁদলাম ও সামান্য। 
মনে হল তোমার কাছে  ছুটে চলে গিয়ে,
তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদি। 

পরক্ষনেই তোমার সাথে আমার 
সারাজীবন থাকতে না পারার অপারগতা মনে এল। 
তখন বুঝলাম আসলে আমি আমার 
নিজের ভালবাসা দিতে না পারার অক্ষমতাকেই মিস করি,
তোমাকে নয়। 

Saturday, November 14, 2015

সমস্ত প্রাক্তনীদের বলছি - To my ex-es

Edmonton, 14-Nov-2015 2:02 AM 

যেখানে যেখানে ছেড়েছো আমায়,
আমি সেখানেই পড়ে আছি। 
তবু যদি দেখো এসে ফিরে,
পাবেনা সেথায় আমায়। 
খুঁজবে জানি আমাকেই,
তাই বলতে পারি হরফ করে,
পাবেনা সেথায় আমায়। 

তোমাদের সকলের শত-সহস্র ফারাক,
শুধু মিল একচিলতে,
না আমাতে নয়, আমার সততায়। 
যখন এগিয়েছি তোমাদের দিকে,
কখনও মনে করিনি সুযোগের কথা,
চেয়েছি নিজের ভিতরে যা আছে,
তা-ই তোমাদের যেন দেখাতে পারি। 
এই কাটাকুটির পৃথিবীতে অন্তত
একটা দান যেন সরল হয়। 

দানগুলো সরল ছিল,
তাই বোধ হয় তোমরাই সকলে জিতে গেলে,
আমি জিততেও চাইনি,
শুধু চেয়েছিলাম সততার দামটুকু পেতে,
তা-ও আজ তুই পেতে দিলি না। 
বা হয়ত সত্যিই সততার দাম-ই বুঝিয়ে দিলি। 

Friday, November 13, 2015

আবার আমি - Again Me

Edmonton, 13-Nov-2015 7:16 AM 

শেষবার লেখার সময় হিজিবিজি ছিল,
এখন বোধ হয় সভ্য হবে। 
আমাকে আমার কাছে ছোট করা,
সেটা তো খুব সহজ নয় -
তাও সেটাই আজ বড্ড বেশী করে মনে হচ্ছে,
নিজের সমস্ত যুক্তি বুকে নিয়েও। 

তোমার কাছে আমি জীবন চেয়েছিলাম,
তুমি শরীর দিয়েছিলে,
বিশ্বাস ছিল, জীবন আমি পাব এক কালে। 
পেলাম না, যা পেলাম,
নিজেকে আরো খারাপভাবে আবিষ্কার। 
বলতে পারো, সেটাও জীবন,
একটু অন্যভাবে হয়ত। 
কেউই এখন আর মানবে না,
তবে থাকতেই চেয়েছিলাম আমি,
তোমারই সাথে। 
অনেক স্বপ্ন-ও দেখেছিলাম আমি,
তোমাকেই নিয়ে। 
কিন্তু জানতাম সব সময়ই,
সে স্বপ্নের সীমানা শুধুই কল্পনায়,
তাও এক অলীক আশা ছিল। 

তোমার কি মনে আছে,
একবার রবীন্দ্রসদনে ছুট্টে
তোমার থেকে পালিয়ে এসছিলাম। 
এখানে এসে তোমার সাথে
শেষবার ছাড়াছাড়ির পর,
ঠিক সেই দৌড়ে বেরিয়ে আসার
অনুভূতিটাই হয়েছিল। 

তবু বিশ্বাস করো,
আমি থাকতেই চেয়েছিলাম,
তুমি বারবার ভুল করলেও আমি ক্ষমা করেছি,
তোমাকে নিতে চেয়েছি,
তোমারই মত করে,
কিন্তু চেয়েছিলাম, তুমি একটু পথ আসো। 
কেন আসলে না তুমি ?

আমার চোখে আমি অপরাধী নই,
আমার ভাবনাচিন্তা শুধু তোমার-ই জন্য ছিল,
আমি তোমাকেই শেষের সাথী করতে চেয়েছিলাম। 
যখন তোমার ঔদাসীন্য আর মেনে নিতে পারিনি,
তখনই যেতে বাধ্য হয়েছি। 
আমি বুঝেছি, তোমারও বোধ হয় কষ্ট হচ্ছে,
এত দুরের একটা মানুষের ইচ্ছের সঙ্গিনী হতে। 
তুমি বোধ হয় এখন ভালো আছ। 

আমিও ভালো থাকব,
তুই থাকলে আরো ভালো থাকতাম।
আমি অনেক চেয়েছিলাম, জানিস,
ওর সাথেই থাকতে। 
নিতান্তই অসহায়তায় বেরিয়ে আসা। 
তুই বুঝলি না,
হয়ত আর কেউই বুঝবে না। 
তবু ভালো আমাকে থাকতেই হবে। 
তবে আমার ভালো থাকার
সঙ্গীর আর প্রয়োজন নেই। 

Thursday, October 29, 2015

হারিয়েই যায় - Lost

Edmonton, 29-Oct-2015 2:36 AM 

রেখে গেল কত কিছু নীরবতার মাঝে,
সাঁঝবাতি, সকাল, এখনো তারা সাজে ?
ঝরে যায় অভিমান, মুঠো ভরা রাগ,
নেই কোন পিছুটান, নেই সংরাগ !
দেখেছিলাম কখনো দূর নদী পারে,
মাঝিরা সব কাজ সেরে, শেষে ঘরে ফেরে। 
যাযাবরের ঘর নেই, নেই কোনো তাড়া,
সে তাই জানেনা, কবে হবে ফেরা !
তার কথা হয়ত বা কারো মনে পড়ে,
কোনো রাতে তাকে নিয়ে লেখাপড়া করে। 
সকাল হতেই সে ব্যস্ততায় মাতে,
যাযাবর ঠাই নেয়, লুকনো পাতাতে ।
কোনদিন সেই খাতা হারিয়েই যায়,
যাযাবর ঘরে ফিরেও, ঘর নাহি পায় ।

Wednesday, October 21, 2015

তুই - You

Edmonton, 22-Oct-2015 12:04 AM 

প্রযুক্তির যুগের এই বোধ হয় প্রাপ্তি -
মনোযোগ দিয়ে বসে থাকা,
শুধু অপেক্ষা ।
কখন ইনবক্সে আসবে এক না-পড়া বার্তা ।
বারংবার একই লেখা পড়া,
ক্লান্ত হয়েও সেই লেখার মধ্যে
অন্য কোন ইঙ্গিতের খোঁজে
আবার সে লেখায় ডুব ।

কেটে গেল দিনটা এভাবেই,
কিছু কিছু দিন বোধ হয় এভাবেই কাটে ।
কিন্তু সেসব দিনেই আবার ভয় নেমে আসে,
ভয়টা নিজেকেই, তাই বোধ হয় চিন্তাও বেশি ।

নিজেকে যতটা চিনেছি,
তাতে নিজের কাছে নিজের অচেনা হতে,
সময় বেশি তো লাগে না ।
তবুও ইচ্ছে করে আশায় থাকতে -
সেই ভয়, সেই সংশয়,
হয়তো যাবে ধুয়ে-মুছে,
তোরই আশ্বাসে, তোরই ভরসায়,
তোরই বিশ্বাসে, তোরই সাহসিকতায় ।